প্রতি ইউনিয়নে ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’, লাগাতে হবে ১ হাজার গাছ: ইউএনওদের চিঠি

গ্রামীণ জনপদে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অতন্দ্র প্রহরী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অবদান স্মরণীয় রাখতে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে রাস্তার নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ওই সড়কে অন্তত এক হাজার গাছ লাগিয়ে ‘গ্রাম পুলিশ সামাজিক বনায়ন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নেরও কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পাঠানো হয়েছে। সামাজিক বনায়ন থেকে অর্জিত লভ্যাংশের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। বাকি অর্ধেক জমা হবে ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে। 

স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতিটি ইউনিয়নের একটি প্রধান বা উপযুক্ত রাস্তা নির্ধারণ করে সেটিকে ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ হিসেবে নামকরণ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে সেই সড়কে কমপক্ষে ১ হাজার বৃক্ষরোপণ নিশ্চিত করতে হবে। গাছের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সামাজিক বনায়ন গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, গ্রাম পুলিশ সামাজিক বনায়ন থেকে অর্জিত লভ্যাংশের ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। অবশিষ্ট ৫০ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের অনুকূলে জমা দিতে হবে। 

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ জনপদে দিনরাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন। গ্রামীণ আইনশৃঙ্খলার এসব অতন্দ্র প্রহরীর অবদান স্মরণীয় রাখা এবং তাদের কাজের দৃশ্যমান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ অবস্থায় উপজেলার আওতাধীন প্রতিটি ইউনিয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটি রাস্তার নাম ‘গ্রাম পুলিশ সড়ক’ নির্ধারণ এবং ‘গ্রাম পুলিশ সামাজিক বনায়ন’ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করে স্থানীয় সরকার বিভাগকে অবহিত করতে ইউএনওদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে শনিবার (৭ নভেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে গ্রাম পুলিশ মহাসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়কের নাম গ্রাম পুলিশের নামে করার ঘোষণা দেন। ওই সড়কের দুই পাশে গাছ লাগিয়ে সামাজিক বনায়ন করার কথাও জানান তিনি। গাছ বিক্রির অর্থ সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিতরণের ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা জারি করলো স্থানীয় সরকার বিভাগ। 

স্থানীয় সরকার বিভাগ আশা প্রকাশ করছে, এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গ্রামীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত গ্রাম পুলিশ সদস্যরা রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক স্বীকৃতি পাওয়ার পাশাপাশি আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।