ইসরায়েলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন আইজেনকোট, নেতানিয়াহুকেও রাখতে চান মন্ত্রিসভায়

ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের জন্য বিরোধীদলীয় নেতা গাদি আইজেনকোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ। রোববার (৮ নভেম্বর) জেরুজালেমে এক অনুষ্ঠানে আইজেনকোটের হাতে সরকার গঠনের দায়িত্বসংক্রান্ত ম্যান্ডেট তুলে দেন তিনি। এদিকে নতুন সরকারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার ডানপন্থী মিত্রদেরও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন আইজেনকোট।

সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার পর আইজেনকোটকে সম্ভাব্য জোটসঙ্গীদের সঙ্গে জটিল আলোচনা শুরু করতে হবে। সরকার গঠনের জন্য তিনি প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে প্রেসিডেন্ট আরও দুই সপ্তাহ সময় বাড়াতে পারবেন।

অনুষ্ঠানে আইজেনকোট বলেন, তিনি এমন একটি নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চান, যার ওপর জনগণের আস্থা থাকবে। এই সরকার জনস্বার্থে কাজ করবে এবং সমাজের সব অংশের প্রতিনিধিত্ব করবে।

নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের দল রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টিকে উদ্দেশ করে আইজেনকোট বলেন, তারা যদি সত্যিই জাতীয় ঐক্যের সময় বলে মনে করেন, তাহলে তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থন না করার কোনো কারণ তিনি দেখেন না।

তিনি বলেন, ‘লিকুদ পার্টি ও রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টির সদস্যরা যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে এটি ঐক্যের সময়, তাহলে আমার নেতৃত্বে এবং উপস্থাপিত নীতির ভিত্তিতে গঠিত সরকারকে সমর্থন না করার কোনো কারণ আমি দেখি না।’

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নেতানিয়াহু কিংবা আইজেনকোট—কোনো পক্ষই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ইসরায়েলের ১২০ আসনের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন।

নির্বাচনে নেতানিয়াহুর জোটের আসনসংখ্যা ৬৮ থেকে কমে ৫৩-তে নেমে এসেছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলো।

সরকার গঠনে আইজেনকোটের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগি, আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নেওয়া অথবা কট্টরপন্থী ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করা। তবে প্রতিটি পথেই রয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা।

আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলোর সমর্থন নেওয়ার বিষয়টি আইজেনকোটের জোটের কয়েকটি দলের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর জোটের অন্যতম অংশীদার ইয়িসরায়েল বেইতেনু ইতিমধ্যে জানিয়েছে, তারা আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটে যাবে না।

অন্যদিকে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতার ক্ষেত্রেও বাধা রয়েছে। আইজেনকোট নির্বাচনী প্রচারে সবার জন্য সমান সামরিক বা জাতীয় সেবা বাধ্যতামূলক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এসব ধর্মীয় দল নিজেদের সম্প্রদায়ের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা সামরিক বাহিনীতে যোগদানের ছাড় বহাল রাখতে চায়।

এদিকে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পর দেশটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা ও অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের একটি স্থিতিশীল সরকার প্রয়োজন।

প্রেসিডেন্টের এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য আরেকটি রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবার সরকার গঠনের প্রথম সুযোগও পেলেন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকোট।

আইজেনকোট সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নেতানিয়াহুকে আবারও জোট গঠনের সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তিনিও ব্যর্থ হলে আগামী বসন্তের শুরুতে দেশটিতে নতুন নির্বাচন হতে পারে। এর মধ্যে নতুন নির্বাচিত পার্লামেন্ট সদস্যরা মঙ্গলবার শপথ নেবেন। নতুন সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত নেতানিয়াহু ও তাঁর মন্ত্রিসভা সীমিত ক্ষমতা নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস