ইউরোপসহ উন্নত বিশ্বের দামি ও জনপ্রিয় মাছ জেড পার্চ। এই মাছের আদি নিবাস অস্ট্রেলিয়ায়। অস্ট্রেলিয়ার নদীতে এই মাছ পাওয়া যায়। ১৯৯৩ সালের দিকে অস্ট্রেলিয়ার একজন মত্স্যবিজ্ঞানী এই মাছ পরীক্ষামূলকভাবে পুকুরে চাষ করে সফল হন। তারপর থেকে অস্ট্রেলিয়ায় জেড পার্চ মাছের বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয়। এই মাছের অনেক গুণাগুণ রয়েছে, যে কারণে এই মাছকে ঔষধি মাছ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। এতে ওমেগা-৩ নামক ভালো চর্বির উপাদান রয়েছে। ওমেগা-৩ নামক এই উপাদান মানবদেহের হার্ট, রক্তচাপ, শরীরের কোষের অনেক উপকার করে থাকে। এই মাছের দামও অন্যান্য মাছের চেয়ে অনেক বেশি।
ইউরোপে এই মাছ প্রতি কেজি বিক্রি হয় ১০ থেকে ১২ ডলারে। চাহিদা ও জনপ্রিয়তার কারণে চীন এবং জাপান বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জেড পার্চ মাছের চাষ করছে। মালয়েশিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে এই মাছের চাষ করা হচ্ছে। মেজই পার্স নদীর মাছ হলেও পুকুরে চাষ করা যায় খুব সহজে। এই মাছ দ্রুত বর্ধনশীল। সাত থেকে আট মাসে প্রতিটি মাছ ৯০০ গ্রাম ওজনের হয়ে থাকে। এই মাছ খেতেও খুবই সুস্বাদু। এক একর আয়তনের পুকুরুে ৮ থেকে ১০ হাজার পোনা ছাড়লে ৯ মাসে ঐ পুকুর থেকে ৯ টন জেড পার্চ মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ চাষে তেমন পুঁজির প্রয়োজন পড়ে না। চাষের পদ্ধতি স্বাভাবিক মাছের মতো। এই মাছ সব ধরনের খাবার খেয়ে থাকে।
আমাদের দেশে যেভাবে তেলাপিয়া মাছের চাষ করা হচ্ছে, একই পদ্ধতিতে জেড পার্চ মাছ চাষ করা যাবে। এই মাছের বংশবৃদ্ধির হার অনেক বেশি। বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় পৃথিবীর অনেক দেশ এই মাছ চাষের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠছে। আমাদের দেশ মত্স্য চাষে এখন অনেক এগিয়ে গেছে। আমাদের দেশের কিছু কিছু মত্স্য খামার এই মাছ চাষের ব্যাপারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তবে সরকারিভাবে অনুমতি না পাওয়ায় তারা এই মাছের চাষ শুরু করতে পারছে না। কিছু মত্স্য খামার এই মাছের পোনা অস্ট্রেলিয়ায় এনে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, তারা এই মাছের পোনা চাষ করে ভালো ফল পেয়েছে।