টিকলু ভাই বাসায় ফিরেই দেখল বাসার সামনে একটা ঝকঝকে নতুন মার্সিডিজ ব্র্যান্ডের গাড়ি। ‘ওয়াও! কী সুন্দর গাড়ি! আমার বাপটা যে কেন এত কিপ্টা! তাঁর বন্ধুবান্ধব, কলিগ সবাই গাড়ি নিয়ে আসে আর সে বেড়ায় তার সেই পুরনো বাই সাইকেল নিয়ে!’ অনেক বার তার বাবাকে গাড়ি কিনতে চাপ দিয়েছিলেন কিন্তু তার বাবা কিছুতেই গাড়ি কিনবেন না। টিকলু ভাই মনে মনে সিদ্ধান্ত নিল, আজ তার বাবাকে এই গাড়িটার মতো একটা গাড়ি কিনতে রাজি করাবেই করাবে। বাসার ভেতরে ঢুকেই জানতে পারল, গাড়িটা তার বাবার কোনো বন্ধু বা কলিগের নয়, বরং তাদেরই। টিকলু ভাই তো আনন্দে আত্মহারা!
মনে মনে বলল, ‘এইবার চিকলী রাজি না হয়ে যাবে কোথায়!’
খুশিতে নাচতে শুরু করল টিকলু ভাই। নাচতে গিয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে, বাড়ির সবাই হো-হো করে হেসে উঠল, তাতেও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই তার। টিকলু ভাইয়ের মনটা আর মানছে না, গাড়ি চালাতে ইচ্ছে করছে। তার হবু গার্লফ্রেন্ড চিকলীকে দেখাতে ইচ্ছে করছে। যেই ভাবা সেই কাজ, গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার জন্য প্যান্ট পরল। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে প্যান্ট যে উল্টো করে পরেছে, সেটা খেয়ালই করেনি টিকলু ভাই। প্যান্টের হুক লাগাতে গিয়ে দেখল, হুকটা উল্টো দিকে।
‘শালার দরজির খবর আছে আজ, এত টাকা দিয়ে প্যান্ট বানালাম, আর দরজি শালা হুক লাগিয়েছে উল্টো দিকে!’
রেগেমেগে গাড়ি নিয়ে বের হলো টিকলু ভাই। টিকলু ভাই খুব একটা ভালো গাড়ি চালাতে জানে না, স্টিয়ারিংয়ে তার কন্ট্রোল নেই। ভোঁ ভোঁ করছে গাড়ি। রাস্তা দিয়ে এক মেয়ে যাচ্ছিল। টিকলু ভাই এমনভাবে গাড়ি চালিয়ে গেল যার কারণে মেয়েটার শরীর কাদা দিয়ে শেষ। মেয়েটা রেগে গিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়াল, কোনোরকমে গাড়িটা থামাল টিকলু ভাই।
গাড়ি থেকে নামতেই কষে থাপ্পর লাগাল মেয়েটি। থাপ্পর দিয়ে দুই-চার কথা শুনিয়ে চলে গেল। টিকলু ভাই শুধু হা হয়ে দেখল।
আবার কিছুদূর যাওয়ার পর একটা ছোট ইটের টুকরার সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে রাস্তার পাশের ড্রেনে পড়ে গেল টিকলু ভাইয়ের গাড়ি। রাস্তার লোকজন দেখে হো-হো করে হেসে উঠল। শুধু পেছনের একটা চাকা পড়েছে। টিকলু ভাই অনেক চেষ্টার পরও গাড়িটা ড্রেন থেকে তুলতে পারছে না। এদিকে টেনশনে তার প্যান্ট নষ্ট হওয়ার অবস্থা! নতুন গাড়ি ফেলে দিয়েছে, তার বাবা যে আজ কী করবে!
এমন সময় একটা লোক এল। লোকটা টিকলু ভাইকে বলল, ‘কী ভাই, গাড়িটা তুলতে পারছেন না? কিভাবে ফেললেন? ওমা সেকি! আপনি উল্টো করে প্যান্ট পরেছেন কেন?’
‘কিইইই.....প্যান্ট উল্টো করে পরেছি!’
এখন কী হবে! মানুষ দেখলে তো হাসবে। মহা টেনশনে পড়ে গেল আমাদের টিকলু ভাই।
‘নতুন গাড়ি কিনেছি। ভালোমতো চালাতেও জানি না।’ লোকটাকে বলল টিকলু ভাই।
—গাড়িতো এ্যাক্কের কিনেছেন ভাই!’
টিকলু ভাই খুব খুশি হলো লোকটির মুখে প্রশংসা শুনে।
‘যাই হোক, আপনি চাইলে আপনাকে হেল্প করতে পারি।’ লোকটি বলল।
—শিওর, আমি তো এটাই আশা করছিলাম।’
—ওকে, তাহলে চাবিটা দেন।
টিকলু ভাই তাকে চাবি দেওয়ার পরে তিনি বললেন, ‘আপনি এখানে দাঁড়ান, আমি গাড়িটা রাস্তার মাঝখানে নিয়ে আসছি।’
চাবি নিয়ে লোকটি টিকলু ভাইয়ের গাড়ি ড্রেন থেকে রাস্তায় তুলে আনল। তারপর ড্রাইভিং সিটে বসেই জানালা দিয়ে মাথা বের করে হাত নাড়িয়ে বলল, ‘বাই বাই টিকলু ভাই! গাড়িটা খুব পছন্দ হয়েছে, নিয়ে গেলাম, আপনি আরেকটা কিনে নিয়েন।’
ভোঁ করে গাড়ি চালিয়ে বহুদূরে চলে গেল লোকটি। টিকলু ভাই চোখে অন্ধকার দেখতে দেখতে পাশের ড্রেনে পড়ে গেলেন।
কাঁকড়া বাজার,
ডিমলা, নীলফামারী।