আমাদের দেশে হঠাত্ করে এডিস মশার উত্পাত বেড়ে যাওয়ায় চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পথে ঘাটে চেয়ারে টেবিলে আর খাটে কোথায় নেই তারা। হাঁটতে গেলে মশা। বসতে গেলে মশা। খেতে গেলে মশা। তো এতকিছুর মধ্যে সবার কাছে যেটা সবচেয়ে প্রিয় সবচেয়ে আরামের সেই ঘুমকে হারাম করে মশারা কেমন আছে তারই নেপথ্যের কথা তুলে এনেছে আমাদের অনুষ্ঠান ‘কোথায় আছি কেমন আছি’। এডিস মশার সঙ্গে কথোপকথনে উঠে এসেছে নানা রকম দিক। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন বিশিষ্ট মশা বিশেষজ্ঞ জনাব মন্টি হালদার। আপনারা তার কাছেই জানুন একটি এডিস মশার বিশেষ সেই সাক্ষাত্কার।
মন্টি :জনাব মশা ভাই, আপনি কেমন আছেন?
মশা :জি বেশ ভালো আছি। কিন্তু আপনাদের মিডিয়া পত্রিকা ফেসবুক যেভাবে আমাদের পেছনে লেগেছে তাতে খুব একটা ভালো নেই। আমাদের ভাইবোন আত্মীয়স্বজন আতঙ্কিত!
মন্টি :আপনারা মানুষকে এভাবে কামড়াবেন তারা কিছু বলবে না, তাই কি হয়?
মশা :দেখুন আমরা চেয়েছিলাম আমরা নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করতে, কিন্তু পারলাম কই! বন কাটলেন, জঙ্গল কাটলেন, কাটলেন গাছপালা, এটাই তো হলো বড়ো জ্বালা।
মন্টি :জনাব মশা একটু সংশোধন করে দিচ্ছি, বন আর জঙ্গল সমার্থক শব্দ।
মশা :তা হোক, যা মুড়ি তাই চালভাজা।
মন্টি :আপনাদের সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার কারণ কী? কোনো চক্র কি এর পেছনে কাজ করছে?
মশা :সাবধানে কথা বলবেন। আমাদের কোনো চক্রটক্র নেই। আপনারা যেভাবে আমাদের নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু করেছেন আমরা মশারা আতঙ্কিত যার কারণে সবাই যে যেখানে পারছে আশ্রয় নিচ্ছে।
মন্টি :আপনারা আশ্রয় নিচ্ছেন ঠিক আছে। কিন্তু মানুষকে কামড়াবেন কেন? এটাই কি উপকারীর প্রতিদান?
মশা :দেখুন প্রত্যেক মশারই বেঁচে থাকার অধিকার আছে। বেঁচে থাকার জন্য আমাদেরও খেতে হয়। জীবন বাঁচানোর তাগিদে এসব করতে হয় বৈকি! আর একটা মশা কতটুকুই বা রক্ত খায়! একজন মানুষ ব্যাগভর্তি রক্তদান করে, আমাদের জন্য নাহয় একফোঁটা দিন, অবশ্য আমরা আরো কম খাই।
মন্টি :আপনারা রোগ ছড়াচ্ছেন। এ থেকে মুক্তির উপায় কী?
মশা :আমি ভাই ডাক্তার নাকি যে, মুক্তির উপায় বলে দেব? আর জানলেও বলব না। আমাদের আত্মীয়স্বজন না খেয়ে মরবে নাকি?
মন্টি :আচ্ছা, আপনাদের নিধনের জন্য এই যে নানা রকমের কয়েল, মেডিসিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হচ্ছে, এতে কোনো কাজ হচ্ছে না কেন?
মশা :এ আমাদের দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল, সহ্য ক্ষমতা তৈরি করেছি। বাচ্চাদেরও সেভাবে সহ্য ক্ষমতা তৈরি করার জন্য ট্রেনিং দিচ্ছি। আশা করি, অন্য মশা ভাইবোনেরাও তাদের সন্তানদের এভাবে গড়ে তুলবেন।
মন্টি :মানুষের সর্বনাশ করে আপনারা কদিন ভালো থাকবেন? একদিন আপনাদের বিচার হবেই।
মশা :বিচারটিচার পরে হবে, কথা বলতে বলতে গলা শুকিয়ে গেছে। এবার আপনার শরীর থেকে কিছু রক্ত খেতে দিন।
মন্টি :না ভুলেও কাছে আসবেন না। খবরদার!
মশা :(হাসতে হাসতে) একটুখানি রক্ত খাব, তারপর চলে যাব।
বি.দ্র. আমরা পরে জানতে পেরেছি মশা বিশেষজ্ঞ জনাব মন্টি হালদার মশার কামড় খেয়ে এখন হাসপাতালে।
বাংলা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।