সবেমাত্র দেড় বছরে পা দিয়েছে নীড়। নীড়ের মনের রাগ, অভিমান, অভিযোগগুলো নীড়ের হয়ে ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেছেন প্রখ্যাত শিশুমন গবেষক নীরব চন্দন
আমি এখনো কথা বলতে শিখিনি। মাত্র একটু একটু হাঁটতে শিখেছি। তাই আমার মতো ছোট্ট শিশুর দুঃখের শেষ নেই। কোরবানি ঈদের কথাই ধরুন। কোরবানি ঈদে আমার সঙ্গে যা যা হয়েছে তা নিচে লিখলাম।
v আমার জামাকাপড় নিয়ে কি কাণ্ডটাই না ঘটালেন মা! আমার মা মার্কেটে গিয়ে আমার জন্য একটা হলুদ রঙের জামা পছন্দ করলেন। কিন্তু আমার তো হলুদ রং একদম পছন্দ নয়। হলুদ রঙে আমার অ্যালার্জি আছে। কিন্তু মাকে তা বুঝাই কেমন করে? অগত্যা কান্না শুরু করে দিলাম। কিন্তু কোনো কাজই হলো না। বরং হলুদ রঙের জামার সঙ্গে হলুদ জুতা, হলুদ গেঞ্জি, হলুদ টুপি, হলুদ মাথার চুলের ক্লিপ, হলুদ চুড়ি যুক্ত হলো। আমি মনের দুঃখে একদম চুপ করে গেলাম। কিন্তু আমার মা আমার অভিমানের বিষয়ে বুঝতেই পারলেন না।
v ঈদের দিন। ভেবেছিলাম ঈদের দিনে মা আমাকে সকালে গোসল করে জামাকাপড় পরিয়ে দেবেন এবং সকাল সকাল ঘুরতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু আমার ভাবনার সঙ্গে মায়ের কর্মকাণ্ডের তো বিশাল সংঘাত। তাই মা আমাকে সকালে ঘুম থেকে ডেকে তোলা তো দূরে থাক, আমাকে আরো ভালোভাবে ঘুম পাড়িয়ে দিলেন। যাতে মা তার সমস্ত কাজ-কর্ম শেষ করতে পারেন। আমার যখন ঘুম ভাঙে তখন ঘড়িতে তাকিয়ে দেখি সকাল দশটা বাজে। খুব মন খারাপ হলো। কোনো উপায় না দেখে কান্না শুরু করলাম। আমার কান্না শুনে মা দৌড়ে এসে দুধ খাওয়াতে লাগলেন। আপনারাই বলুন, ঈদের দিনে কেউ শুধু দুধ খায়? কোথায় মা আমাকে পোলাও, বিরিয়ানি খাওয়াবে তা না করে শুধু দুধ খাওয়াল। যত্তসব!
v ছোট বাচ্চাদের আরেকটা বড় জ্বালা হলো বাসায় আসা অতিথি। অতিথিদের আমি একদম সহ্য করতে পারি না। তার কিছু কারণও আছে। যাই হোক, ঈদের দিন সন্ধ্যায় আমাদের বাসায় অতিথি চলে এল। অতিথি বলতে আমার খালা, খালু, চাচ্চু, বড় ভাই-বোন। তারা এসেই আমার উপর যে অত্যাচার শুরু করে দিয়েছে, তা কেউ না দেখলে বিশ্বাসই করবে না। চাচ্চু আমাকে কোলে নিয়ে আদর দেওয়ার জন্য অনেক জোড়াজুড়ি করতে লাগলেন। কিন্তু চাচ্চুর মুখের সিগারেটের গন্ধে আমার দম বের হয়ে যাচ্ছিল। উপায় না দেখে কান্না শুরু করাতে তখনকার মতো চাচ্চুর মুখের গন্ধ থেকে রেহাই পেলাম। এরপর আমার বড় ভাই-বোন আমাকে নিয়ে তো ফুটবল খেলা শুরু করে দিয়েছিল। খুব রাগ হয়েছিল আমার। ভাবছিলাম একটু বড় হয়ে নিই, তারপর মজা দেখাব। অবশ্য আমার খালা, খালু আমাকে অতটা বিরক্ত করেনি; বরং আদর করেছে। কিন্তু তাদের অতি আদরে আমি ভীষণ রেগে গিয়েছিলাম। কারণ খালা, খালু আমাকে জোর করে করে খাইয়ে দিচ্ছিল। আর এভাবেই আমার এবারকার ঈদটা চলে গেছে। বাকিটা আর একদিন লিখব।
খিলক্ষেত, ঢাকা।