আমাদের ব্যাচমেটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছ্যাঁকা খেয়েছিল আসিফ। সে মাসে যতবার জামা বদলাত, তার থেকে বেশিবার প্রতি মাসে ছ্যাঁকা খেত। আমরা সবাই ভেবেছিলাম যে, আসিফের আর বিয়ে হবে না। কিন্তু অবশেষে আসিফেরও বিয়ে হয়েছে। আসিফ আর ঐশীর বিয়ে হয়েছে পারিবারিকভাবে। কেউ আগে থেকে কাউকে চিনত না। সেদিন বাংলাদেশের খেলার দিন আসিফ আমাদের সব বন্ধুকে ওর বাসায় দাওয়াত দিয়েছিল। আমরা সব বন্ধুরা সঠিক সময়ে যেয়ে হাজির হয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পরেই প্লেট ছোড়াছুড়ির শব্দ আর ভাঙচুরের শব্দ পেলাম। আমি ভাবলাম, এখন তো আর কোনো হরতাল অবরোধ নেই যে বাইরে ভাঙচুর হচ্ছে। আবার ভাবলাম যে, বিএনপির তো ঈদের পরে আন্দোলন করার কথা ছিল। তার মানে বিএনপি কি এতগুলো ঈদ পার করে আন্দোলন শুরু করে দিল? কিছুক্ষণ পর আসিফ আর আসিফের স্ত্রী মীমের ঝগড়ার আওয়াজে সব ঘটনা পরিষ্কার হয়ে গেল। বন্ধুুদের বাসায় দাওয়াত করাতে আসিফের স্ত্রী মীম রেগেমেগে আগুন। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আগেই আমরা সব বন্ধুরা আসিফের বাসা থেকে চলে আসলাম আর ওদিকে আসিফ চেঁচিয়ে বলতে লাগল, ‘প্রেম করে বিয়ে করলে শেষমেশ কপালে আর এরকম দুর্ভোগ থাকত না।’
দুই.
উত্স আর কথার মধ্যে অনেকদিনের প্রেম ছিল। আমরা সবাই ক্যাম্পাস লাইফে তাদের সেরা জুটি বলতাম। ভার্সিটি লাইফে বেশিরভাগ সম্পর্কগুলো কিছুদূর যাওয়ার পরেই শেয়ারবাজারের মতো বড়োসড়োভাবে ধসে পড়ে! কিন্তু উত্স আর কথার সম্পর্ক একদম সুপার গ্লু আঠা দিয়ে লাগানোর মতো ছিল। বিয়ের আগে তাদের মধ্যে কখনো ঝগড়া হতে দেখিনি।
আমার বাসায় টিভিতে নাটক দেখার জন্য বিশ্বকাপ খেলা দেখতে পারছিলাম না। তাই নিশ্চিন্তে খেলা দেখার জন্য উেসর বাসায় যেয়ে হাজির হলাম। কিন্তু এখানে এসেও সেই একই সমস্যা। টিভিতে নাটক দেখা আর বিশ্বকাপ খেলা দেখা নিয়ে উত্স আর কথার মধ্যে তুমুল ঝগড়া হয়েছে। উত্সকে গত দুইদিন যাবত্ কথা কোনো খাবার রান্না করে দেয়নি। প্রেম করে বিয়ে করার পরও শেষমেশ উেসর কপালে দুর্ভোগই জুটল!
তিন.
আমাদের বন্ধু আরিফের ধারণা ছিল যে, বিসিএস ক্যাডার হলে সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করতে পারব এবং বিসিএস ক্যাডার হওয়ার কারণে বিয়ের পর তেমন ঝগড়া হবে না। বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পর আরিফ যে মেয়েকে বিয়ে করেছিল, সেই মেয়েরও স্বপ্ন ছিল তার স্বামী একজন বিসিএস ক্যাডার বড় অফিসার হবে। আমরা বন্ধুরা ভাবতাম যে, প্রেম করেই হোক আর পারিবারিকভাবেই বিয়ে হোক, বিসিএস ক্যাডার নাহয়ে বিয়ে করলে জীবনে শান্তি নেই। আমাদের সবার ধারণা ছিল যে, ক্যাডার আরিফ খুব সুখে আছে। একদিন সব বন্ধুরা মিলে আরিফের বাসায় খেলা দেখতে গেলাম। আরিফের বাসায় যেয়ে আমরা সবাই অবাক। কারণ আরিফ কোনো ঝামেলা ছাড়াই আরাম করে শুয়ে-বসে খেলা দেখছিল। আরিফের বাসায় অনেকক্ষণ খেলা দেখার পর আমরা বন্ধুরা নিজেদের মধ্যে বলাবলি করতে লাগলাম যে, আরিফ খুব সুখে আছে এবং বিসিএস ক্যাডার হওয়ার পরেই বিয়ে করা উচিত। আমি আরিফকে বললাম, ভাবিকে যে দেখছি না। সে কি ঘুমাচ্ছে? আরিফ বলল, তোর ভাবি বাপের বাড়ি চলে গেছে। প্রতিদিন তার সাথে টিভি দেখা আর বাজার করা নিয়ে ঝগড়া হতো। কোনো কিছু বাজার করে আনার পর সে বলত যে, ‘আমি তোমাকে এটা আনতে বলছিলাম কিন্তু তুমি সেটা নিয়ে আসোনি কেন?’ এরকম সারাদিনই তার সাথে ঝামেলা চলত। এই বিশ্বকাপ খেলা দেখা আর টিভিতে নাটক দেখা নিয়ে সেদিন তুমুল ঝগড়া হয়েছিল এবং সে রাগ করে বাপের বাড়ি চলে গেছে আর আমি হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে খাচ্ছি। আমি আরিফকে সান্ত্বনা দিয়ে বললাম, তোর মতো বিসিএস ক্যাডারের কপালেই শেষমেশ দুর্ভোগ না, এই দুর্ভোগ প্রায় সব বিবাহিত ছেলেদের!
বি.দ্র. আপনি যেভাবেই বিয়ে করুন না কেন, শেষমেশ আপনার কপালে দুর্ভোগ আছে!