বর্তমান বিশ্বে এখনো প্রধান সামরিক শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সেই পূর্ব খ্যাতি এখন আর নেই। দীর্ঘদিন ধরেই বিশেষজ্ঞরা উদীয়মান সামরিক শক্তিধর দেশ হিসেবে চীনের কথা বলে আসছিলেন। কিন্তু সেই বিশ্লেষণ এখন সেকেলে হয়ে যেতে পারে। চীন এখন আর কোনো উদীয়মান সামরিক শক্তি নয়; সামরিক শক্তিধর দেশ হিসেবে চীনের উত্থান হয়ে গেছে এবং অনেক ক্ষেত্রেই তারা এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
সম্প্রতি মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক শক্তিতে এশিয়ায় শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে চীন। এ কারণে এশিয়া মহাদেশে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন যদি এশিয়ায় চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ হয়, তবে বেকায়দায় পড়ে যাবে ওয়াশিংটন। এশিয়ায় যুদ্ধে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চীনের কাছে পরাজিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউনাইটেড স্টেটস স্টাডি সেন্টারের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সিএনএনের ওই খবরে বলা হয়, চীনের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে যেসব ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, তা এশিয়াতে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিগুলোকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নাস্তানাবুদ করতে পারবে। অন্যদিকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিরক্ষা কৌশল রয়েছে, তা দিয়ে চীনকে দমানো কঠিন হবে। যার অর্থ হলো, অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য মিত্র দেশকে এখন নিজেদের সামরিক নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নতুন করে ভাবতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ দিতে চীন উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করে রেখেছে। যদিও চীন বলছে, তাদের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুরোপুরি আত্মরক্ষামূলক।
এ বিষয়ে বিবিসির এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে এখন সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব আর বজায় রাখতে পারছে না যুক্তরাষ্ট্র। একইসঙ্গে এই অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
নিবন্ধে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রভাব বিস্তারের জন্য যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক শক্তি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে চীন। অন্যদিকে পরমাণু শক্তিতে ওয়াশিংটনের চেয়ে অনেক গুণ পিছিয়ে বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং আধুনিক প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের দিক থেকেও প্রযুক্তিগতভাবে যুক্তরাষ্ট্র চীনের চেয়ে অনেক গুণ বেশি এগিয়ে রয়েছে। এশিয়া ও ইউরোপে মিত্র ও ন্যাটোর মতো সামরিক জোটের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অনেকটা নির্ভর করতে পারে। কিন্তু এ ধরনের বড়ো কোনো মিত্র বা সামরিক জোটের ব্যবস্থায় নেই চীন। তবে এটা সত্য যে, চীন দ্রুততার সঙ্গে ওয়াশিটনের প্রযুক্তিগত উত্কর্ষতা খেয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের বিবেচনায় চীন পিছিয়ে থাকলেও এশিয়ার ক্ষেত্রে বলতে হবে প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় তারা এখন সুপারপাওয়ার।
চীন এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা ও যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কার্যকর কৌশল প্রণয়ন করেছে। চীন এমনভাবে কাজ করছে, যাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উপকূলসীমার অনেক দূরত্ব থেকে অভিযান চালাতে বাধ্য হয়। শুরুর দিকে এই পদক্ষেপ ছিল আত্মরক্ষামূলক। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন চীন তাদের সক্ষমতা এমনভাবে বাড়িয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো হামলা ঠেকাতে তারা এখন আত্মবিশ্বাসী।