তরুণ নির্মাতা ও অভিনেতা জিয়াউল হক পলাশ। ব্যাচেলর পয়েন্ট শিরোনামের একটি ধারাবাহিকে অভিনয় করে তিনি ‘কাবিলা’ নামেই অধিক পরিচিত। মোস্তফা সারওয়ার ফারুকীর হাত ধরে অভিনয় জগতে আসা পলাশের পুরোদমে পরিচালক করার ইচ্ছে থাকলেও বর্তমানে তিনি অভিনয় নিয়ে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছেন। ব্যাচেলর পয়েন্টের বর্তমান অবস্থা ও বিভিন্ন প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি কথা বললেন বিনোদন প্রতিদিনের সঙ্গে। সাক্ষাতৎকার নিয়েছেন নুরুল করিম
ব্যাচেলর পয়েন্ট ধারাবাহিকটির মাধ্যমেই আপনি বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এটা অনেকদিন ধরেই বন্ধ। নতুন কোনো খবর আছে কী?
হ্যাঁ। আজ (গতকাল) থেকেই ব্যাচেলর পয়েন্টের শুটিং পুনরায় শুরু হচ্ছে। টানা শুটিং চলবে। আশা করি আগামী মাস থেকে দর্শকরা আবারো ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ দেখতে পাবেন। বাকি পর্বগুলো প্রচার হবে ধ্রুব টিভিতে।
ব্যাচেল পয়েন্টের ‘কাবিলা’ হিসেবে কাকে নিয়ে আপনি সবচেয়ে বিরক্ত?
হাবু ভাই। পুরাই প্যারা! কেন যে তিনি বড় ভাই হইছে, কে জানে। কোনো দায়িত্ব তিনি পালন করেন না। তার ছোটভাই হওয়া উচিত ছিল।
আপনার অভিনীত বা পরিচালিত নাটকগুলোতে নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা প্রাধান্য পায়। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাই...
আমার জন্মভূমি নোয়াখালী। আমার অভিনয় কিংবা মূল লক্ষ্য নোয়াখালীকে তুলে ধরা। নোয়াখালী নিয়ে ইতিবাচক ধারণা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমার কাজ করা।
ছোটপর্দার কোন অভিনেতাকে দেখে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ হন?
আমার ছোটবেলায় মোশাররফ করিম ভাই যখন আমাদের এলাকায় শুটিং করতে আসতেন তখন আমার কাছে মনে হতো, বাহ, মানুষটা তো খুবই জোস। তিনি যেখানে যান সেখানেই প্রচুর হইচই। চাও ঢেলে দেয় তাকে সবাই, খুব সম্মান করে। (হাসি) তখন ওনার মতো হতে চাইতাম। তবে এখন টেস্টটা অনেকটা চেঞ্জ হয়েছে। নিশো ভাইকেও খুব ভালো লাগে। তার পার্সনালিটি আমাকে খুব টানে। উনি যখন অভিনয় করেন তখন একদম চরিত্রের মধ্যেই ঢুকে যান।
পরিচালনায় আসার পরিকল্পনাটা কীভাবে?
আমরা যখন নাখালপাড়ায় থাকতাম তখন আমার বাসার সামনেই ছিল মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ভাইয়ের বাসা। ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখতাম। ছোটবেলা থেকে তার প্রতি আমার একটা কৌতুহল ছিল। প্রথম যেদিন এলাকায় নাটকের শুটিং হচ্ছিল, কখন যে ওনারা শুটিংয়ে আসেন তা আমি টেরই পেতাম না। নাটকের নাম মনে নেই, তবে অপি করিম আপু আর মাহফুজ ভাই ছিলেন। আমার অনেক ইচ্ছে ছিল শুটিংয়ে যাওয়ার, কিন্তু বাসায় আম্মুকে ম্যানেজ করতে করতেই ওনারা চলে যেতেন। যখন ধারাবাহিক নাটক ফোর-টুয়েন্টির শুটিং শুরু হয় তখন নিয়মিতই দেখতাম। তখন ফারুকী ভাইকে দেখতাম আর বলতাম, এই মানুষটা এতটা জোস। মানে তার কথায় পুরো সেট চলছে। এসব দেখেই মূলত পরিচালক হওয়ার ইচ্ছে জাগে।
যেহেতু আপনার লক্ষ্য পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। তাহলে অভিনয়ে কেন আসা? আগে থেকেই একটা ফ্রেম তৈরি করার জন্য?
না, এটা আমার কখনো ছিল না। কিন্তু এখন কোনো জায়গায় গেলে মানুষ আমাকে অভিনেতা পলাশ হিসেবেই একসেপ্ট করছেন। পরবর্তীতে হয়তো জানে যে, আমি একজন ডিরেক্টরও। কিন্তু আমি যখন সহকারী পরিচালক ছিলাম তখন আমার কখনোই মনে হয়নি যে, আমি অভিনেতা হবো। কিন্তু যখন দেখলাম ফারুকী ভাই, অমি ভাই অ্যাক্টিং ব্রিফ করতেন, সেটা দেখেই আমি অনেকটা আয়ত্ত্ব করে ফেলি। আর আমাকে প্রথম অভিনয় করার সুযোগটা দিয়েছিলেন অমি ভাই।
আপনার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা কী?
পরিচালনা করা আমার মূল টার্গেট। ভবিষ্যতে একটি হলেও চলচ্চিত্র বানাবো।
ইত্তেফাক/জেডএইচ