মির্জাপুরে ব্রিজ ও সরকারি খাল দখল করে দোকান নির্মাণ

মির্জাপুরে সরকারি ব্রিজ ও খালের মুখ দখল করে দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল সরকারি ব্রিজ ও খালের মুখ দখল করে দোকান নির্মাণ করায় পানি প্রবাহিত হতে পারছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, শুধু খাল ও ব্রিজ নয়, বাজারের আশপাশও প্রভাবশালীরা দখল করে নিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে যাচ্ছে। এতে সরকারের লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকি হচ্ছে। 

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সংযোগ রোড গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা আঞ্চলিক রোডের টাঙ্গাইলের মির্জাুপর উপজেলার ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়নের বাঁশতৈল বাজারে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্রিজ ও খালের মুখ বন্ধ করে দোকান নির্মাণের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেন, বাঁশতৈল বাজারের পশ্চিম ও পুর্ব দিকে কৃষি জমির পানি প্রবাহিত হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে এই ব্রিজ ও খাল। যুগ যুগ ধরে এই খাল দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে আসছে। বাঁশতৈল নয়াপাড়া এলাকার লাল মিয়া (৬০) গংরা এই ব্রিজের নিচে খালের জমি দাবি করে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দিয়ে দোকান নির্মাণ করেছে। ফলে দুই পাশে কৃষি জমিতে জলাবদ্ধতা হওয়ার আশংকা করছেন এলাকার কৃষকরা। বাঁশতৈল বাজার কমিটির কর্মকর্তাগনও ঘটনাটি না দেখার ভান করছেন বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মো. লাল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটি সম্পতি আমাদের ক্রয়কৃত জমি। এটা সরকারি কোন খাল নয়। জমির বৈধ কোন কাগজপত্র আছে কি না এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, কাগজপত্র ও দাখ-খতিয়ান আমার জানা নেই।

এ ব্যাপারে ১৩ নং বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মো. আতিকুর রহমান মিল্টনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'বাঁশতৈল বাজারের গুরুত্বপুর্ন স্থানে সরকারি জমি এবং গোড়াই-সখীপুর-ঢাকা রোডের বাঁশতৈল খালের ওপর নির্মিত ব্রিজ এবং খাল দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল দোকান-পাট নির্মাণ করছে। এতে সরকারের কয়েক কোটি টাকার সম্পতি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া খাল দখল হওয়ায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।

অবৈধ দখলদারের উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: মিঠাপুকুরে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মইনুল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমাকে স্থানীয়ভাবে জানানো হয়নি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইত্তেফাক/নূহু