সবাই আমাকে রূপাঞ্জেল বলেই ডাকে: দৃতি হুমায়রা মৌ

দৃতি নামটা তো অনেক সুন্দর। কে রেখেছে নামটা, মা না বাবা?

দৃতি : বন্ধু। বন্ধু মানে আমার বাবা। বাবাকে আমি বন্ধু বলেই ডাকি।

 

বিজ্ঞাপন, শর্ট ফিল্ম, ওয়েব সিরিজ সব জায়গায় একইসঙ্গে কাজ করছ তুমি। এর মধ্যে কোন ক্ষেত্রে অভিনয় করতে বেশি ভালো লাগে?

দৃতি : বিজ্ঞাপনে কাজ করতেই আমার বেশি ভালো লাগে। কারণ, প্রতিটা টিভির প্রোগ্রামের বিরতিতেই অনেকবার করে বিজ্ঞাপন দেখানো হয়। আর বন্ধুরাও আমাকে অনেকবার টিভিতে দেখার সুযোগ পায়।

 

সাকিব আল হাসানের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে অভিনয় করেছ তুমি। সাকিবের খেলার পাশাপাশি তাঁর সুন্দর হাসিতে যেমন মুগ্ধ সবাই, তেমনটা অভিনয়ের পাশাপাশি তোমার হাসিতেও। তুমি কি বলতে পার দুজনের মধ্যে কার হাসি বেশি সুন্দর?

দৃতি :অবশ্যই সাকিব আল হাসানের হাসি বেশি সুন্দর। তিনি খুব মিষ্টি করে হাসেন। কাজ করার সময় অনেক আদরও করেছেন আমাদের। মানে আমরা ছোটরা যারা ওনার সঙ্গে বিজ্ঞাপনটিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম।

 

দেশের প্রথম ইসলামিক ওয়েব সিরিজ ‘দ্য পিস’। এখানে অভিনয় করতে গিয়ে বিশেষভাবে কোন জিনিসটি শেখা হয়েছে?

দৃতি : ‘দ্য পিস’ অবশ্যই বাংলাদেশের প্রথম শিক্ষণীয় ইসলামিক ওয়েব সিরিজ। যেটা পুরো রমজান মাস জুড়েই প্রচারিত হয়েছিল। এখান থেকে আমি যে বিষয়টা খুব গভীরভাবে শিখতে পেরেছি, সেটা হলো সবসময় অবশ্যই সত্য কথা বলতে হবে।

 

টিভিতে অভিনয় করতে দেখার পর থেকে স্কুলের টিচাররা কি আগের চেয়ে এখন একটু বেশিই আদর করেন?

দৃতি : মনে হয় তারা আমাকে এখনো সেলিব্রেটি হিসেবে দেখেন না। আগের মতো নিজের মেয়ে বলেই মনে করেন। আদর আগেও যেমনটা ছিল, এখনো ঠিক তেমনটাই আছে। এটাই সত্যিকারের ভালোবাসা।

 

রূপকথার গল্পের চরিত্র রূপাঞ্জেলের অনেক সুন্দর চুল ছিল। তোমার চুলগুলোও তো তেমনই সুন্দর। বাস্তবে কি কেউ তোমাকে সত্যি সত্যিই রূপাঞ্জেল বলে ডাকে?

দৃতি :সচারাচর আমার বয়সী কারোরই এত লম্বা চুল দেখা যায় না। আমাকে রূপাঞ্জেল বলে ডাকাটা সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছেন আমার এক ভাইয়া। যখন থেকে তিনি আমাকে রূপাঞ্জেল বলে ডাকতে শুরু করেন, তখন থেকেই স্কুলের বন্ধুরা বা শুটিংয়ের সেটেও সবাই আমাকে সত্যিকারের রূপাঞ্জেল বলে ডাকে।

 

বড় হয়ে কি অভিনয়ই করতে চাও, নাকি অভিনয়কে শখ হিসেবে ধরে রেখে পেশা হিসেবে বেছে নিতে চাও অন্যকিছুকে?

দৃতি :আসলে অভিনয়টা শখের বশেই করা হয়। বড় হয়ে আমি একজন শিক্ষক হতে চাই।

 

দৃতির নিজেরই তো এখন অনেক ভক্ত আছে। কিন্তু দৃতির কি এমন কোনো পছন্দের সেলিব্রেটি আছে, যার অনেক বড় ভক্ত সে?

দৃতি : আমার মা-ই আমার কাছে সবচেয়ে বড় সেলিব্রেটি। এককথায় মা আমার পরিবারের অলরাউন্ডার।

 

নতুন কী কাজ করছ তুমি?

দৃতি : সর্বশেষ একটা ঈদের নাটকে ‘আমরা যাবো কবে’ কাজ করেছিলাম। সেখানে আমার বাবা ও মায়ের ভূমিকায় ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী আঙ্কেল এবং তিশা আন্টি। নাটকটি এন টিভিতে প্রচারিত হয়েছিল।

 

কে বেশি আদর করেছেন নাটকের কাজটি করার সময়—চঞ্চল আঙ্কেল নাকি তিশা আন্টি?

দৃতি : আদর-ভালোবাসার পরিমাপ করা যায় কি! দুজনেরই অনেক আদর পেয়েছি আমি। দেশের বড় দুইজন অভিনয়শিল্পীর আদর পেয়েছি, এটা তো আমার জন্য সৌভাগ্য।