জো ক স

সত্যজিত্ বিশ্বাস

শেষ চেষ্টা

রোগীর স্ত্রী :আমার স্বামী ‘মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায়’ এ কথা শোনার পর থেকে সেই যে সোজা হয়ে শুয়ে পড়েছে আর কোনো কথা নেই। কত ডাক্তার দেখালাম কিছুতেই কিছু হচ্ছে না।     

ডাক্তার সাহেব :তো, আমার কাছে নিয়ে এলেন কী মনে করে?  

রোগী :সাইনবোর্ডে লেখা দেখলাম, সব চেষ্টা বিফল হওয়ার পরে শেষ চিকিত্সা হিসেবে আসুন। তা আপনি, এলোপ্যাথি না হোমিওপ্যাথি কি চিকিত্সা দেন?   

ডাক্তার সাহেব :আমি একেবারেই অন্যরকম চিকিত্সা দেই।   

রোগী :কী সেটা? 

ডাক্তার সাহেব :সিমপ্যাথি। 

 

দেশের ৮০ শতাংশ দর্শক বিটিভি দেখে

এটা জানার পর আপনার মনে হতেই পারে—

v সংবাদটা কি আশি শতকের শেষের দিকের।

v দেশের সব ডিশ চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে।

v দেশের ৮০ শতাংশ লোক দেখে, তাহলে কি আপনি দেশের আমজনতার মধ্যে পড়েন না?

v এই বিটিভি কি নতুন কোনো হিন্দি ডিশ চ্যানেল?  

v ‘০’ সংখ্যাটা কি ভুলে পড়ে গেছে?

গ্যাস নেই, তাতে কী!

সকালে স্বামীর অফিসে যাওয়ার তাড়া। তার খাবার প্লেটে কিছু দিতে হবে তো। বাচ্চার স্কুল, তার জন্যও চাই চটপট নাস্তা। গিন্নি দৌড়ে গেল গ্যাসের চুলার কাছে। চুলার সুইচ ঘোরাতেই নিশ্চিন্ত হলো, সে ঢাকা শহরেই আছে। ‘গ্যাস’ মর্নিং ওয়াকে গেছে, ফিরতে বেলা তো  হবেই। কিন্তু সে কথা মেনে নেবে এমন স্বামী কই? এর সমাধান দিতে পারে একমাত্র মোবাইল সিম। গ্যাসের এই অবস্থা দেখে গিন্নি বিদ্যুত্ বেগে ছুটে গেল মোবাইল ফোনের দিকে। না না, ফোন করতে না। মোবাইল ফোন থেকে চট করে খুলে ফেলল সিমটা। তারপর চুলার বার্নারে সিমটা রেখে তুড়ি দিয়ে বলে উঠল, ‘জ্বলে ওঠো আপন শক্তিতে’। ব্যস, রান্না কমপ্লিট। এই না হলে গিন্নি!

 

সমঝদারকে লিয়ে ইশারাই কাফি

রাস্তায় প্রচণ্ড জ্যাম। ভিড় বাসে একজন মহিলা কোনোমতে বাসে উঠে তাকিয়ে দেখে মহিলা সিটে একজন পুরুষ বসা। সাথে সাথে মহিলাটি পুরুষ যাত্রীটিকে হাত ইশারা করে দেখাল, ‘দেখতে পাচ্ছেন, বাসের গায়ে কী লেখা? এটা মহিলা সিট, উঠুন।’ যাত্রীটি হাত উঁচু করে তার উল্টো দিকের লেখাটার দিকে দেখাল। ওখানে লেখা—আপনার কোনো সমস্যা থাকলে কন্ডাক্টরকে বলুন। মহিলা কন্ডাক্টরের দিকে তাকাতে কন্ডাক্টর বাসের গায়ে আরেকটা লেখার দিকে দেখিয়ে দিল। সেখানে লেখা—আপনার অভিযোগ ড্রাইভারকে বলুন। মহিলা ড্রাইভারকে বলতেই ড্রাইভার তার মাথার পাশের লেখাটার দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিল। সেখানে লেখা—গাড়ি চলাকালে ড্রাইভারের সাথে কথা বলা নিষেধ। এসব দেখে মহিলার পক্ষ হয়ে দু-তিনজন যাত্রী কন্ডাক্টরের কলার চেপে ধরতেই কন্ডাক্টার আবার তার আঙুল নিশানা করলো একটা লেখার দিকে। সেখানে লেখা, ব্যবহারে বংশের পরিচয়। সমস্ত বাস আবার চুপচাপ।    

 

দিন শেষে পুরুষেরাই সব হারায়

প্রেমিকা :কী ব্যাপার? দিন দিন তোমার মাথায় টাক পড়ছে কেন? 

প্রেমিক :একটা শিক্ষা দিতে।

প্রেমিকা :কী শিক্ষা?

প্রেমিক :দিন শেষে পুরুষেরাই সব হারায়।

মশার এইডস হয় না কেন?

স্যার :তোরা তাহলে বুঝলি তো, এইডস কিভাবে ছড়ায়?

ছাত্র :সবই বুঝলাম কিন্তু স্যার একটা ব্যাপার বুঝলাম না।

স্যার :কী বুঝলি না?

ছাত্র :এইডস বহনকারী শরীরের রক্ত যদি অন্য শরীরে প্রবেশ করে, তাহলে তারও এইডস হবে?

স্যার :হ্যাঁ হবে।

ছাত্র :তাহলে মশার এইডস হয় না কেন, স্যার?

 

আসছে মানবাধিকার দিবসে...

মফিজ সাহেব খুব ই সচেতন মানুষ।

বউকে রোজ-ডে তে রোজ দেয়।

চকলেট-ডে তে চকলেট কিনে দেয়।

পিকনিক দিবসে পিকনিকে নিয়ে যায়।

এমনকি নারী দিবসে অভিনন্দন জানায়।

বাঘ দিবসে অভিনন্দন জানায়।

মফিজ সাহেব খুবই আশায় আছে, আসছে ১০ শে ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস। বউ নিশ্চয়ই কিছু দেবে।   

 

মনোনয়নপত্র কি বাতিল হইছে? 

নেতা :আজ আমি ভোট চাইতে আসিনি। আমি আজ ধনী-গরিব সব দূরত্ব ফেলে কাছে এসেছি সাধারণ মানুষ হয়ে।

ভোটার :কেন, মনোনয়নপত্র কি বাতিল হইছে? 

 

ডোরা কাটা দাগ দেখে বাঘ চেনা যায়, ইলেকশনকে কি দেখে চিনবে বলো?

v দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার আর দেয়াল লিখনই আপনাকে বলে দেবে আপনি এখন ইলেকশন মৌসুমে আছেন।

v তারপরেও যদি টের না পান, পাশের চায়ের দোকানে ঢুকলেই আর কোনো সন্দেহ থাকবে না।

v চায়ের দোকানেও যদি যাওয়ার অভ্যাস না থাকে, তবে প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠার দিকে তাকান। কী পানির মতো ক্লিয়ার তো বিষয়টা? 

v যারা পেপার দেখারও সময় পান না, ফেসবুকে ব্যস্ত সময় কাটান তারা ট্রলবাজ সেলিব্রিটিদের স্ট্যাটাসগুলোর দিকে তাকান, ইদানীং সময়ের ট্রলের বিষয়বস্তু কী বা কারা। বুঝতে অসুবিধা হবার কথা না, শীত না আসলেও ইলেকশন আসছে ঝড়ো বেগে। 

v এলাকার বড় বড় নেতাদের যাদের নাম শুনেছেন সামনে থেকে দেখা হয়নি, তাদের এখন লাইভ দেখবেন আপনার চোখের সামনে। তাঁরা এখন এলাকায় কেন, সেটাও কি বলে দিতে হবে?

v ঢাকা শহরের মানুষের গায়ে শীতের কাপড় না উঠলে কি হবে, দেয়ালগুলো কিন্তু গরম কাপড় পড়ে ফেলেছে। সেই গরম কাপড়গুলোর দিকে তাকালেই বুঝে ফেলবেন দৌড়ে শীতকে পিছনে ফেলে, আগে ছুটছে ইলেকশন।  

 

g কার্টুন রবিউল ইসলাম সুমন

 

মনোনয়ন পেপার আছে না?

প্রেমিকা :আমি কিচ্ছু শুনতে চাই না, আগামীকাল বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসবে তুমি। 

প্রেমিক :কী বলো এসব? শুনেই তো বুক কাঁপছে। কী নিয়ে দাঁড়াব শুনি? 

প্রেমিকা :কেন? মনোনয়ন পেপার আছে না? ওটা নিয়েই দাঁড়াবা। বাসার পরিবেশটাই পাল্টে যাবে তখন।

 

টেস্ট শেষ তিনদিনেই

প্রথম বন্ধুু :তিন দিনেই দুটো টেস্ট শেষ হবার রহস্য কী হতে পারে বল তো?

দ্বিতীয় বন্ধুু :মনে হয় শীতে বেশিক্ষণ খেলতে রাজি না প্লেয়াররা।

প্রতিশোধ

প্রথম বন্ধু :তিন দিনেই দুটো টেস্ট জিতে নেওয়ার রহস্য কী বল তো?

দ্বিতীয় বন্ধু :জিম্বাবুয়ের কাছে সাড়ে তিনদিনে হার ভোলা + প্রতিশোধ।

অমায়িক না অ-মাইক

 

গার্জিয়ান :স্যার, আমার ছেলেটাকে আপনার স্কুলে ভর্তির সুযোগ দেন। নিজের ছেলে বলে বলছি না, ওর মতো এমন ইংরেজির জাহাজ, এমন অমায়িক ছেলে আর দুটো পাবেন না।

হেডস্যার :এত করে যখন বলছেন, তখন ওকে নিচ্ছি। এ স্কুলের কিন্তু অনেক সুনাম আছে। আপনার কথার যদি চুল পরিমাণ নড়চড় যদি দেখি তাহলে ভর্তি বাতিল। মনে থাকে যেন।

গার্জিয়ান :অবশ্যই স্যার।   

ভর্তির দুইমাস পর—   

হেড স্যার :এই আপনার ইংরেজির জাহাজ? ওর ইংরেজি শুনে স্যারদের অবস্থাই তো টাইটানিকের মতো।

গার্জিয়ান :ইয়ে মানে স্যার, যে জাহাজের মান ভালো তার তো ডোবার কথা না। তাই না? 

হেড স্যার :আর অমায়িক? ওর চেঁচামেচিতে যে স্কুলের জানালার সব কাচ ভেঙে চৌচির।     

গার্জিয়ান :বলেছিলাম না? এমন অ-মাইক ছেলে আর দুটো পাবেন না?