সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের যত্নে এস্থেটিকা

  ইফফাত ই ফারিয়া

 

ডা. নাতাশা নাসির চৌধুরী ২০১৩ সালে মেডিক্যাল কলেজ ফর ওমেন এন্ড হসপিটাল থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। এরপর আসে ইন্টার্নী করার পালা। সেটি শেষ করে ২০১৬ সালে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক হেলথ বিষয়ে মাস্টার্স করেন। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ থেকে ছয় মাসের ডারমাটোলজি ট্রেনিং নেন। এরপরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিপ্লোমা ইন ডারমাটোলজি অ্যান্ড ভেনেরোলজি সম্পন্ন করেন। এবার নিজ উদ্যোগে কিছু করার লক্ষ্যে তিনি ২০১৯ সালের শুরুতে ‘এস্থেটিকা’ নামের একটি স্কিন ক্লিনিক প্রতিষ্ঠা করেন, যেখানে ত্বকের সকল সমস্যার সমাধান ও উন্নতমানের সেবা প্রদান করা হয়।

অন্য অনেক স্কিন/লেজার ট্রিটিং সেন্টারে দেখা যায় একেক সমস্যার জন্য রোগীকে একেক বিষয়ের ডাক্তারের কাছে ছুটোছুটি করতে হয়; কিন্তু এস্থেটিকায় যে কোনো ক্লিনিক্যাল ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা রয়েছে। শুরুটা ছিল মিরপুর-১২তে একটিমাত্র রুম নিয়ে, সময়ের সঙ্গে বেড়েছে সেবার মান ও প্রসার। দ্রুতই ধানমন্ডিতে একটি নতুন শাখা খোলা হবে বলে জানালেন ডা. নাতাশা। বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে যে কোন লেজার ইকুইপমেন্ট এনে সেটি ব্যবহার করতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে প্রচার প্রয়োজন, তা পাওয়া খুবই কষ্টসাধ্য।

আমাদের দেশে প্রচুর মেয়ে এবং ক্ষেত্রেবিশেষে অনেক ছেলেও রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করেন, সাময়িক উজ্জ্বলতা দেখা দিলেও অচিরেই তারা ত্বকের নানান সমস্যায় ভুগেন। ভুলভাবে ব্রণের চিকিত্সা বা চুল ঘন-লম্বা করার জন্য নানান তেলের পিছনে দুই হাত ভরে টাকা খরচ করেও অনেকেই যখন কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাচ্ছেন না, এস্থেটিকা তখন দিচ্ছে সবচেয়ে কম খরচে ত্বকের প্রত্যেক সমস্যার সুনির্দিষ্ট সমাধান। 

আজকের এই অবস্থানের পেছনে ডা. নাতাশা উল্লেখ করতে চান তার পুরো পরিবার ও শিক্ষকদের অক্লান্ত সহায়তার কথা, দিনরাত এক করে মানবসেবায় নিজেকে নিয়োজিত করার যাত্রায় নিজ জীবনসঙ্গী ও ভাইয়ের সহায়তা ছাড়া ঘরের বাইরের অনেক কাজই কঠিন হয়ে যেত বলে তিনি জানান। কিছু প্রচলিত কথা আছে— লেজার করলেই ফর্সা হওয়া যায় বা এটি করলেই ক্যানসার হবে— এধরনের ভয় থেকে যারা চিকিত্সা নিতে অনিচ্ছুক, তাদের জন্য তিনি বলেন, ‘সঠিক হাতের সঠিক চিকিত্সা যে কোনো রোগকে সারিয়ে তুলতে পারে।’