ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানে সর্বোচ্চ সংখ্যক জিপিএ-৫ নয়, প্রতিদিনের শ্রেণিপাঠ শিক্ষকরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বুঝিয়ে পড়াবেন এবং তার ওপর শিক্ষার্থীরাই তাত্ক্ষণিক প্রশ্ন ও উত্তর তৈরি করবে। আক্ষরিক অর্থে এটাই সৃজনশীল নান্দনিক শিক্ষা। এজন্য সৃজনশীলে দক্ষ শিক্ষক কর্তৃক সময় নিয়ে ক্লাস নেওয়াসহ আসন সংখ্যা নির্ধারণ করা উচিত শিক্ষক অনুপাতে। তাতে করে ক্লাসেই পঠিত বিষয়ের পরীক্ষা নিয়ে দুর্বলতাগুলো শনাক্ত করে সমাধান করা সম্ভব। এতে করে শিক্ষার্থীদের আর প্রাইভেট টিউটরের শরণাপন্ন হতে হয় না। আমাদের শিক্ষার্থীদের এভাবেই পড়ানো হয়—কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ, শিক্ষানুরাগী ও উদ্যোক্তা হামিদা আলী। বর্ণাঢ্য ৫ দশকের শিক্ষকতা জীবনে ভিকারুননিসা নূন কলেজকে যিনি দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে উন্নীত করেছেন। এরপর তিনি অত্যন্ত সীমিত সময়ের ব্যবধানে সাউথ পয়েন্টকে সাফল্যের শীর্ষে উন্নীত করেছেন। সৃজনশীল শিক্ষাদানের প্রত্যয়ে ২০০২ সালে মাত্র ২০০ ছাত্রছাত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল। এখন প্রায় ১২ হাজার ছাত্রছাত্রী পড়াশোনা করছে সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজে। বিশিষ্ট শিল্পপতি ও উদ্যোক্তা প্রকৌশলী এম এ রশিদের পৃষ্ঠপোষকতায় এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীদের নানা অর্জনের মাধ্যমে। সাউথ পয়েন্ট বনানী শাখা জার্মান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের PASCH (School:Partners for the Future) নামক একটি প্রোগ্রামের আওতায় জার্মান ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যার অধীনে শিক্ষার্থীরা প্রতি বছর বৃত্তি সুবিধায় জার্মানে উচ্চশিক্ষার সুযোগসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় জার্মান সফর করছে তাদের অর্থায়নেই। ২০১৩-তে সাউথ পয়েন্ট বনানীর একদল শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের নাসাও সফর করেছে। অন্যান্য শাখার শিক্ষার্থীরাও সহশিক্ষামূলক কার্যক্রমে জাতীয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অর্জন করছে সাফল্য। প্রতিষ্ঠানটির স্পোর্টস ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, ডিবেট ক্লাব ও কালচারাল ফোরাম এসব আয়োজন করে থাকে। যেমন :২০১৮ সালের নভেম্বরে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়ান ক্লাব কাপ থ্রোবল’ প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় রানার আপ হয় এদের শিক্ষার্থীরা। একই বছর শ্রীলঙ্কার কলোম্বাতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জুনিয়র দাবা প্রতিযোগিতায় ৫ম স্থান অর্জনসহ বিভিন্ন অর্জন তাদের ঝুলিতে যোগ হয়েছে। সাউথ পয়েন্টের ইংরেজি মাধ্যম শাখার শিক্ষার্থীরা শুরু থেকেই ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় ‘কান্ট্রি হায়েস্ট’ রেজাল্ট অর্জনের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং ক্যামব্রিজ লার্নার অ্যাওয়ার্ড ও ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সর্বশেষ ২০১৯ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষায়ও সাত বিষয়ের ৬টিতেই ‘এ+’ ও একটিতে ‘এ’ গ্রেড এবং ‘এ’ লেভেল পরীক্ষায় ৫ বিষয়ের মধ্যে ৩টিতেই ‘এ+’ ও ২টিতে ‘এ’ গ্রেড অর্জনসহ অভূতপূর্ব ফলাফল করে। আর এই ফলাফলের জন্য ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলে যথাক্রমে ৭৯% ও ৫৭% শিক্ষার্থী ডেইলি স্টার অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে। সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা মাধ্যম ও ভার্সনের পাসের হার প্রতিবছরই শতভাগ। সেই সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে জিপিএ ফাইভ সংখ্যাও। গত বছর গুলশান থানায় ৮৫ জন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭৫ জনই সাউথ পয়েন্টের। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে পেয়েছে ১৮ জন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি এবং উক্ত বছরেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ৯ম স্থান লাভ করে। সাউথ পয়েন্টের ৫টি শাখাতেই রয়েছে দক্ষতাসম্পন্ন শিক্ষক। বনানী শাখার অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছেন মো. মতিউর রহমান। বারিধারা, মালিবাগ, মিরপুর, উত্তরা ও ধোলাই পাড়ে রয়েছেন যথাক্রমে অধ্যক্ষ উইং কমান্ডার এ এম আমজাদ হোসেন (অব.), কর্নেল মো. শামসুল আলম পিএসসি (অব.), লে. কর্নেল শেখ আমজাদ হোসেন (অব.) ও ক্যাপ্টেন গোলাম মো. সবুর (অব.), বিএন। এখানে সর্বমোট ৯০০ মেধাবী শিক্ষক-শিক্ষিকাসহ ১২০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের এই প্রতিষ্ঠানটির মালিবাগ, বনানী, বারিধারা, মিরপুর, উত্তরা ও ধোলাই পাড়ে মোট ৬টি শাখা রয়েছে। যেখানে প্লে গ্রুপ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। বারিধারায় ৮ বিঘা জমিতে তৈরি করা হয়েছে এর সুরম্য ক্যাম্পাস। বিরাট মাঠ, স্বাস্থ্যসম্মত ক্যান্টিন, স্পেসিয়াস অডিটোরিয়াম, হাইস্পিড ইন্টারনেট সুবিধাসহ ই-লাইব্রেরি ও ল্যাব সমেত একটি আধুনিক পূর্ণাঙ্গ ক্যাম্পাস এটি। অনুরূপ মালিবাগেও ৬ বিঘা জমিতে তৈরি করা হচ্ছে স্থায়ী অত্যাধুনিক ক্যাম্পাস। উত্তরায়ও নেওয়া হয়েছে ৭ বিঘা জমি। এভাবে সকল শাখায়ই নির্মাণ করা হবে সবুজে আবৃত মাঠ সম্বলিত নিজস্ব বিশাল ক্যাম্পাস।