দিনে রাজমিস্ত্রির সহকারী ও রাতে ছাত্র

বাবাকে হারিয়েছেন ছোটবেলায়। ঘরে অসুস্থ মা। ঘরে অভাব নিত্যসঙ্গী—এ পরিবেশে বড় হতে হয়েছে রুবেল মিয়াকে। এই অভাব-অনটনে থেকেও, দিনে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করেও কিশোরগঞ্জের ছেলে রুবেল মিয়া পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে কৃতিত্বের সাথে।

কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুবেল গত বছর জেএসসি পরীক্ষায় সেখানকার একমাত্র শিক্ষার্থী হিসেবে জিপিএ-৫ পেয়েছিল। ভালো ফলের কারণে পেয়েছে জুনিয়র বৃত্তিও। তবে ভালো ফল করলেও পড়ালেখা নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার। কারণ, একদিকে সংসারের দায়িত্ব, অন্যদিকে পড়াশোনার চাপ। এ নিয়ে তাকে প্রতিনিয়তই হিমশিম খেতে হচ্ছে। লেখাপড়া চালানোও হয়ে দাঁড়িয়েছে দুঃসাধ্য।

রুবেল জানায়, বাবার চেহারা তার মনে নেই। বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিয়ে ভাঙ্গা ঘরে বসবাস। রাজমিস্ত্রির সাথে কাজ করার সময় কখনো ২০০ কখনো ২৫০ টাকা মজুরিতে কাজ করে সে। এই টাকা দিয়েই পড়াশোনা ও সংসারের অন্যান্য খরচ চলে।

রুবেলের মা বললেন, ‘ঘরের চালে ফুটো থাকায় ঘরের ভিতরে বৃষ্টির পানি পড়ে। রুবেলের বইগুলো ভিজে গেছে, এমনও হয়েছে। পরে রোদে শুকিয়ে সেগুলো নিয়ে আবার পড়তে বসেছে রুবেল।’ আচমিতা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব উদ্দিন বলেন, ‘রুবেল খুবই মেধাবী ছাত্র। তাকে বিনা বেতনে পড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সুযোগ-সুবিধা পেলে সে ভালো করবে।’