বিদেশি মিউজিক
তা হ মি না মি লি
তার পুরো নাম লরেন মিচেল জারিগুই মোরগাডো। তবে সবাই তাকে লরেন জারিগুই হিসেবে চেনে। জনপ্রিয় গার্ল ব্যান্ড ফিফথ হারমোনির একজন প্রাক্তন সদস্য লরেন। একাধারে গায়িকা, গীতিকার। বয়স মাত্র ২৩। সুকণ্ঠী লরেন খুব অল্প সময়েই দুনিয়াজুড়ে শ্রোতামহলে বিশেষ মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন। বিভিন্ন ধরনের গান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গান লেখায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মেধা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। হ্যালসি, স্টিভ অ্যাত্তকি ও ম্যারিয়ান হিলের সঙ্গে কাজ করেছেন বেশ কিছুদিন। তার সৃজনশীলতা, গায়কি ও উদ্ভাবনী ক্ষমতা যে কাউকে খুব সহজেই আলোড়িত ও আকৃষ্ট করে। ফলে অল্পদিনেই লরেন সংগীত তারকা হয়ে উঠেছেন। গত বছর মেমাস থেকে নিজের নতুন সলো অ্যালবামের কাজ শুরু করেন লরেন। এজন্য বিশ্বখ্যাত কলম্বিয়া রেকর্ডসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। গত বছরের অক্টোবরে লরেনের ডেব্যু সলো অ্যালবাম ‘এক্সপেক্টেশনস’ প্রকাশিত হয়েছে। এ বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে মিউজিক ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর তার আরেকটি নতুন গান ‘মোর দ্যান দ্যাট’ রিলিজ হয়েছে। সুন্দরী মেধাবী তন্বী এই গায়িকার ডেব্যু অ্যালবাম আগামী ২০২০ সালে আসবে বলে জানা গেছে। ফ্লোরিডার মিয়ামিতে লরেনের জন্ম। তার বাবা-মা দুজনই কিউবা থেকে আসা। বাবা ছিলেন একজন প্ল্যান্ট ম্যানেজার এবং মা একজন শিক্ষক। ফিদেল কাস্ট্রো ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে তারা কিউবা ছেড়ে আমেরিকায় পা রাখেন। লরেন কথাবার্তায় স্প্যানিশ ভাব কিছুটা থাকলেও কিউবান টানটা একটু বেশি। পরিবারের আরো দুজন ছোট ভাই-বোন রয়েছে। ছোটবেলায় ক্যাথলিক স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। স্কুলজীবনের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলায় নিজেকে সম্পৃক্ত রাখতে রাখতে গানের প্রতি ঝুঁকে পড়েন। গানের পাশাপাশি, নাচ, লেখালেখি, পিয়ানো বাদন, ছবি আঁকায় তার আগ্রহ রয়েছে। ২০১২ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে আমেরিকান ট্যালেন্ট হান্ট শো ‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর ইউএস’-এর দ্বিতীয় সিজনের একজন প্রতিযোগী হতে অডিশনে অংশ নিয়েছিলেন লরেন জারিগুই। সেখানে অংশ নিয়ে বাজিমাত করেন এবং সবার মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হয়েছিলেন।
‘দ্য এক্স ফ্যাক্টর ইউএস’ প্রতিযোগিতা থেকে শেষ পর্যায়ে বাদ পড়ার পর অ্যালি ব্রুক, নোরমানি, ডিনা জেইন, ক্যামিলা কাবেলাকে নিয়ে একটি আলাদা গ্রুপ গড়ে তোলেন লরেন। যা পরবর্তীতে ‘ফিফথ হারমোনি’ নামে আত্মপ্রকাশ লাভ করে। গার্লস ব্যান্ড ‘ফিফথ হারমোনি’র একজন অন্যতম সদস্য হিসেবে সবার নজর কেড়েছিলেন। ছোটবেলা থেকে বিখ্যাত সব ব্যান্ড ও শিল্পীর গান শুনতে শুনতে বেড়ে উঠেছেন লরেন মিচেল জারিগুই মোরগাডো। ফলে তার মধ্যে পপ, ল্যাটিন মিউজিকের প্রভাব সুস্পষ্ট। বিশেষ করে আর অ্যান্ড বি, অল্টারনেটিভ রক প্রভৃতির প্রভাব এড়াতে পারেননি এই গায়িকা। তিনি নিজেই স্বীকার কেরন লানা ডেল, জন ম্যায়ার, লরেন হিল, প্যারামোর, অ্যালিসিয়া কিজ, জেনিলি মোনায়ে, ক্রিস্টিনা অ্যাগুয়েলেরা, অ্যামি ওয়াইহাউজ ও ফ্রাঙ্ক ওশেনের প্রভাব রয়েছে তার ওপর। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার নানা আন্দোলনে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষার প্রসারে জনগণকে নানা বিষয়ে সচেতন করে তুলতে লরেন সবসময় নিজেকে এগিয়ে রাখতে চান। গত মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের গানের মাধ্যমে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ট্রাম্পের নানা কর্মসূচির কট্টর সমালোচনা করেছেন লরেন সোচ্চার কণ্ঠে। বিশেষ করে ‘মুসলিম ব্যান’ কর্মসূচিকে অমানবিক বলে উল্লেখ করেন।