জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগের বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও টেন্ডার ছিনতাইকারীদের শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনিক ভবন অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তবে আন্দোলন চলাকালে উপ-উপাচার্যদ্বয়, ট্রেজারার ও প্রক্টর এসে আন্দোলন থামানোর চেষ্টা করেও তাদের ফেরাতে পারেননি। উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিলে তার (উপাচার্যের) অধীনে আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানান আন্দোলনকারীরা।
এ বিষয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষক দর্শন বিভাগের অধ্যাপক রায়হান রাইন সাংবাদিকদের বলেন, ‘যেহেতু উপাচার্য নিজেই অভিযুক্ত তাই তাকে নির্বাহী প্রধান করে আমরা কোন আলোচনায় বসতে পারি না। রাষ্ট্রপক্ষের কোন প্রতিনিধি আলোচনায় নির্বাহী প্রধান হলে আমরা আলোচনায় বসবো। সেটা হতে পারে আচার্যের কোন প্রতিনিধি, ইউজিসির সদস্য অথবা মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তি।’
তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এর আগেও একাধিকবার হয়েছে। উপাচার্যকে তার অনড় অবস্থান ত্যাগ করতে হবে। তিনি ইতিবাচক মনোভাব রাখলেই কেবল আলোচনা সফল হবে। অন্যথায় আলোচনা করা অনর্থক।’
আরো পড়ুন: বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন
এর আগে বুধবার সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল চারটা নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে অবরোধ করেন তারা।
সকাল ৯টার দিকে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক নূরুল আলম এবং পরে সকাল ১০টার দিকে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আমির হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কোন আলোর মুখ দেখেনি। ফলে আন্দোলনকারীরা তাদের অবরোধ অব্যাহত রাখেন।
পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অবরোধের সমর্থনে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। বিকাল চারটার দিকে দিনব্যাপী অবরোধ স্থগিত ঘোষণা করে জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আশিকুর রহমান উপস্থিত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদেরকে বলেন, ‘আমাদের যৌক্তিক দাবিতে বৃহস্পতিবারও অবরোধ কর্মসূচি চলমান থাকবে। তবে উপাচার্য যদি আলোচনায় বসতে চান তাহলে তৃতীয় পক্ষের নেতৃত্বে আলোচনায় বসতে পারি। অভিযুক্তর সঙ্গে অভিযোগকারীদের কখনো দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হতে পারে না।’
ইত্তেফাক/বিএএফ