প্রত্যাশা মেটাতে চান সাকিব

সম্প্রতি বিশ্বকাপে এক অতিমানবীয় পারফরম্যান্স করে এসেছেন। এবার বিশ্বকাপের অবিসংবাদিত সেরা অলরাউন্ডার ছিলেন তিনি। ফলে সব ফরম্যাটেই সাকিব আল হাসানের ওপর প্রত্যাশাটা একটু বেড়েছে। সেই প্রত্যাশা মেটানোর মতো করেই বাংলাদেশ দলের জন্য অবদান রাখতে চান তিনি।

টেস্টে হারানো এক নম্বর অলরাউন্ডারের স্থানটা নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না। বলছেন, দলের জন্য অবদান রাখতে পারলে অবস্থান এমনিতেই ফিরে পাবেন।

নিজের ওপর তৈরি হওয়া বাড়তি প্রত্যাশা নিয়ে সাকিব বলছিলেন, ‘প্রত্যাশা সবসময়ই থাকে। একেক সময় একেক রকম প্রত্যাশা থাকে। প্রত্যাশার চাপও থাকে। কিন্তু আমার চাওয়া সবসময়ই থাকে দলের জয়ে যতটুকু অবদান রাখা সম্ভব, ততটুকু যেন করতে পারি। সবসময় হয় না। সবসময় ওভাবে প্রস্তুতিও নেওয়া যায় না। তবে চেষ্টার কখনো কমতি থাকে না।’

ওয়ানডেতে নিজেকে আরো শক্ত করলেও টেস্টে এক নম্বর জায়গাটা হারিয়েছেন জেসন হোল্ডারের কাছে। সম্প্রতি বেন স্টোকসও সাকিবকে টপকে গেছেন। কিন্তু সাকিব বলছেন, তার মাথায় কাজ করে দলের জন্য পারফরম করা। আর সেটা করতে পারলে র‌্যাংকিং এমনিতেই পক্ষে আসবে, ‘একটা জিনিসই কাজ করে যে দলের জয়ের পেছনে কতটা অবদান রাখতে পারি। সেটি যদি বেশি রাখতে পারি, স্বাভাবিকভাবেই র‌্যাংকিং তার জায়গাটা আপনা-আপনি করে নেবে। এই কারণেই আমার র্যাংকিং নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। আমার চেষ্টা থাকে দলের প্রয়োজনে ভালো কিছু করার। সেটা কম হোক বা বেশি, সেটি আমার কাছে ম্যাটার করে না। সেটা করতে গিয়ে যদি র্যাংকিংয়ে ভালো কিছু হয়, আমি অবশ্যই সেটি নেব।’

টেস্ট অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিবের আরেকটা সমস্যা হলো—এই ফরম্যাটে তিনি ব্যাটিংটা একটু পেছনের দিকে করেন। সেটার কারণও ব্যাখ্যা করে সাকিব বলছিলেন, ‘যেহেতু বিশেষ করে আমাদের দেশে বা উপমহাদেশে খেলায় অনেক ওভার বোলিং করতে হয়, এত ওভার বোলিং করে সঙ্গে সঙ্গে ওপরে ব্যাট করা কঠিন। যদি কখনো ওরকম সুযোগ আসে যে বোলিং কমিয়ে দিচ্ছি বা ওরকম কিছু, হয়তো ইচ্ছে আসতেও পারে যে ওপরের দিকে ব্যাট করলাম। শেষ যখন আমরা ওয়েস্ট ইন্ডিজে খেলেছি, আমি চারেই ব্যাট করেছিলাম। তবে সত্যি কথা হলো—তিন-চারে ব্যাটিং করলে, দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে, ২৫-৩০ ওভার বোলিং করে আবার তখনই ব্যাটিং করার কঠিন। মনোযোগ টেস্টে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যাটসম্যানের জন্য। মনোযোগ ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলো—কতটা তরতাজা অবস্থায় ব্যাট করতে পারেন। এ জন্য একটু পরে ব্যাট করাটাই আমার জন্য মনে হয় ভালো।’

ইত্তেফাক/এমআরএম