নড়াইলের কালিয়ায় ব্যক্তি মালিকানার ফসলি জমিতে কৌশলে ঘের তৈরি করায় ৫০ একর জমির আমন ধান গাছ মাছে খেয়ে ফেলেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জারজিদ মোল্যা ওই ঘের তৈরি করেন।
দুটি হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামি ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা তো দূরের কথা ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। ক্ষতিগ্রস্তরা সাংবাদিকদের বলেছেন, “ আপনারা অইছেন দেহে যান, কতা বললি আমাদের জান থাকপে নানে।”
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পেড়লি ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জারজিদ মোল্যা তিন মাস আগে এলজিএসপি এবং কর্মসৃজন ৩টি প্রকল্পের আওতায় কদমতলা রমজান মেম্বরের বাড়ি থেকে আশরাফ মাওলানার বাড়ি আবার সেখান থেকে কদমতলা বিল অভিমুখী এবং কদমতলা হিন্দু পাড়ার ডোব থেকে চর জামরিলডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার কাচা রাস্তা নির্মাণ করেন।
কৃষকের উৎপাদিত ফসল আনা-নেয়া, সেচ সুবিধা ও যাতায়াতের সুব্যবস্থার কথা বলে কৃষকদের জমির ওপর দিয়ে ওই রাস্তা নির্মাণ করা হয়। আবার রাস্তার পাশে দেড় কিলোমিটার জুড়ে লম্বা খালের তৈরি করেন তিনি।
প্রায় দেড় মাস আগে ওই খালে বৃষ্টির পানি জমার সঙ্গেই চেয়ারম্যান সেখানে দেড়শ মণ গ্রাস কার্প মাছের পোনা ছাড়েন। কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে মাছের পরিচর্যা শুরু করেন। আর রাস্তা ঘেরে থাকা জমিতে কৃষকরা চাষ করেন আমন ধান। ধান গাছ বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে মাছও বেড়ে উঠতে থাকে।
ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, নতুন রাস্তা নির্মাণের ফলে খালের পানি বের হওয়ার সুযোগ নেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চেয়ারম্যান মাছ ছেড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে মাছ ভেসে দেড়শ কৃষকের ৫০ একর ফসলি জমিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চাষকৃত আমন ধানের গাছ খেয়ে ফেলছে।
সরেজমিনে ওই এলাকায় গেলে, চেয়ারম্যানের ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়নি। ক্ষতিগ্রস্তরা শুধু বলেছেন, ‘আইছেন, দেহে যান। চিয়ারমেনের সাথে কতা বলেন। তার বিরুদ্ধে কতা বললি আমাগে জান থাকপে নানে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি মেম্বার জানান, চেয়ারম্যান উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিলের মধ্যে রাস্তা নির্মাণের নামে ঘের তৈরি করেছেন। এ নিয়ে কেউ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছে না।
জানা গেছে, পেড়লি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বদরুল ইসলাম এবং কদমতলা গ্রামের শুকুর হত্যা, দুই-তিন বছর আগে নড়াইলের দুই সাংবাদিককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী মামলার আসামি চেয়ারম্যান জারজিদ মোল্যা।
জারজিদ মোল্যা জানান, কদমতলার ডোব এলাকায় ১০-১২ বিঘা জমির আমন ধানের ফসল নষ্ট হয়েছে। কৃষকদের ডেকে বলেছি তোমাদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। মাছ উঠে গেলে তারা এখানে ইরির ব্লক করতে পারবে। এ রাস্তা করতে ১০ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। সরকার থেকে পেয়েছি ৩ লাখ টাকার মতো। বাকি টাকা নিজের কাছ থেকে খরচ হয়েছে। কৃষকদের সম্মতিক্রমে এবং ভালোর জন্য এ রাস্তা করা হয়েছে।
কালিয়া থানার ওসি মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে কিছু জানি না এবং কেউ কোনো অভিযোগও দেয়নি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/আরকেজি