স্থাপত্যকে আমরা দেখি চলচ্চিত্রের দৃশ্যে। ভূমিরূপ, ঘরবাড়ি, শহর হলো চলচ্চিত্রের একেকটি ফ্রেম। চিত্রনির্মাতারা মানুষ, জীবন এবং অনুভূতিগুলোকে সেঁটে দেয় সেই ফ্রেমে। তাদের সংযোগ কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই এবং কিছু ক্ষেত্রে এদের সমন্বয় অসামান্য ফলাফল বয়ে আনে। এই রচনায় ১০টি চলচ্চিত্র বাছাই করা হয়েছে, যেখানে স্থাপত্য মূল ভূমিকা পালন করেছে কখনো সরাসরি চিত্রনাট্যে অথবা কোনোটির নেপথ্য ভূমিকায় ছিলেন স্থপতি, স্থাপত্যের রূপকার। লিখেছেন তাসনুভা রাইসা
দি বেলি অব অ্যান আর্কিটেক্ট (১৯৮৭)
চলচ্চিত্রটিতে দেখা যায় শিকাগো থেকে আসা একজন স্থপতি স্টাউরলি ক্র্যাকলাইট রোমে আসেন একটি এক্সিবিশন কিউরেট করতে এবং এটি তার প্রিয় এবং দূরদর্শী আরেক স্থপতি এটিয়েন-লুই বাউলিকে উত্সর্গ করেন। পরিচালক গ্রিনাওয়ে এই চলচ্চিত্রটিতে নগর এবং এর ভাস্কর্য সৌধ, উর্বর চিন্তাভাবনা, নগর সভ্যতায় স্থপতির ভূমিকা, কীভাবে একজন স্থপতি তার নকশার স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখেন— এ সবকিছুর ভেতর দিয়ে এগিয়ে গিয়েছেন। প্রদর্শনীটি ছিল ঐতিহাসিক রোম শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ভিকটর এমানুয়েলের (তৃতীয়) শ্বেত পাথরের ভাস্কর্যটির স্থান। ছবির পরিচালক তিক্ত রসবোধ ব্যবহার করে স্থপতির ইউটোপিয়ান দিকটাও মেলে ধরেছেন, অসমাপ্ত এবং অবাস্তব প্রকল্প প্রদর্শনীর মাধ্যমে। স্থপতির উদ্ভট প্রতীক ব্যবহার, যার রয়েছে বিতর্কিত ব্যাখ্যা, যা কখনো স্বপ্নময় জগতের দিকে নিয়ে যায় আবার কখনো দুঃসহ পৃথিবীর অস্তিত্বের জানান দেয়। বৃত্তাকার গঠন প্রাধান্য বিস্তার করেছে এর দৃশ্যায়নে, এই তালিকায় আছে ফল-ফলাদি, গাইরোস্কোপ, নিউটনের সেনোটাফ, ক্র্যাকলাইটের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর পেট এবং এমনকি সবশেষে অনিয়ন্ত্রিতভাবে নিজের বেড়ে ওঠা ভুঁড়িও জানান দেয় তার অস্তিত্ব।
সাইড ওয়ালস (২০১১)
‘মানুষের একে অপরের ছাদ কখনো এতটা কাছাকাছি হয়নি এখন যতটা কাছাকাছি এবং মানুষের হূদয়ের দূরত্ব এতটা বেড়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।’ চলচ্চিত্রটির শিরোনাম বিষয়বস্তুর সঙ্গে প্রাসঙ্গিক এবং গুস্তাভো টারেট্টু যেন রবীন্দ্রনাথের ছুটি গল্পের ফটিকের সেই হাহাকার ‘ইটের পর ইট মাঝে মানুষ কীট, নাইকো ভালোবাসা নাইকো খেলা’— এই অনুভূতির ওপরেই গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেছেন। আমাদের নগর ব্যবস্থা ভবন ডিজাইনে আমরা সীমানা দেয়াল রাখি, এই দেয়াল এক অবিশ্বাস আর যোগাযোগহীনতায় অভ্যস্ত করছে নগরবাসীদের। ছবির দুই চরিত্রের ভেতর মার্টিন বুয়েনস আয়ার্সের একটি অ্যাপার্টমেন্টে একাতার কুকুর নিয়ে থাকে, পেশায় ওয়েব ডিজাইনার। তার প্রতিবেশী মারিয়ানা দোকানে ম্যানিকুইন পুতুল সাজানোর কাজ করে। পাশাপাশি বাস করলেই তাদের মধ্যে কখনো দেখা হতো না। চলচ্চিত্রটির কাহিনী এগিয়ে গিয়েছে আমাদের চেনা পরিচিত ঘটনা, আধুনিক সমাজের বর্তমান অসুস্থতার বিষয়গুলো— একাকিত্ব, আলাদা থাকার বাসনা, অনেকের সঙ্গে মেশার অযোগ্যতা এসব কিছুকে ঘিরে। দৃশ্যায়নগুলো সহজ এবং বাস্তবসম্মত ভাবে দেখানো হয়েছে : ফ্ল্যাটের ব্লকগুলোর সীমানাহীন লাইন আমাদের সেই অস্বস্তিকর ‘হরনেটস নেস্ট’-এর কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে কংক্রিট জঙ্গলে সবুজ গাছেরা বেড়ে উঠছে অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে আর সাইড ওয়ালের জানালাগুলোতে আলো প্রবেশের ব্যাপারটিও যেন অবৈধ।
লাইফ আউট অব ব্যালান্স (১৯৮২)
চলচ্চিত্রটির একটা সাধারণ ধারণার ওপর নির্মিত। প্রকৃতির গরিমার সঙ্গে মানুষের তৈরি অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলার বৈপরীত্য— আলোচ্য বিষয়। এর পরিচালনায় ছিলেন গডফ্রেরেজিও আর সঙ্গে রয়েছে ফিলিপ গ্লাসের চমত্কার সাউন্ডট্র্যাক। সব মিলিয়ে এই চলচ্চিত্রটির আকর্ষণীয় দৃশ্যায়ন আর আবহ সংগীত দর্শকদের ভালো লাগবে। ছবিটিতে মানুষ দ্বারা সৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে। ১৯৭০ সালের যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিরূপ এবং স্থান দেখানোর পাশাপাশি, মিসৌরির সেন্ট লুইয়ের পাবলিক হাউজিং প্রজেক্ট প্রুইট-ইগোই-এর (Pruit–Igoe) ধ্বংস দেখানো হয়েছে। এই প্রকল্পের নকশা প্রণয়ন করেন আধুনিক ধারার স্থপতি মিনোরু ইয়ামাসাকি, তার এই ডিজাইন দীর্ঘ সময় ধরে নগর নবায়নের এক আদর্শ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে।প্রুইট-ইগোই নিঃশেষহওয়ার পেছনে রয়েছে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, শিল্প-কারখানার অর্থনৈতিক মন্দা এবং শ্রমিক গোষ্ঠী‘ ঘেট্টো’-এর প্রতি বর্ণবাদমূলক বৈষম্য দৃষ্টিভঙ্গি এবং এটি আর কখনো আগের অবস্থায় ফিরে আসেনি। এই প্রজেক্ট ধ্বংস একই সঙ্গে মডার্নিজম আর্কিটেকচারেরও অবসান জানান দেয়।
ইন এক্সচেঞ্জ অব ফাইভ অ্যাপার্টমেন্টস অ্যান্ড ওয়ান শপ! (২০০৫)
গ্রিক এই প্রামাণ্য-রচনায় বর্ণিত হয়েছে এথেন্সের স্থাপত্য এবং সামাজিক বিবর্তন। এখানে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক রূপান্তরের কারণে এথেন্সের সিটি এস্কেপের যে সাধারণ পরিবর্তন হয়েছে, তার ওপরেই আলোকপাত করা হয়েছে। স্থাপত্য এবং সমাজবিদ্যাগত এই পরিবর্তনের গতিধারাকে পাঁচটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে সূচনা, নিষ্পাপকাল, বিস্ফোরক কৈশোর, প্রাপ্তবয়স্ক এবং উপসংহার। স্থপতিরা নগর সভ্যতার রূপকার। নান্দনিক স্থাপত্য নকশার অন্যতম সূতিকাভূমি গ্রিস তথা এথেন্স। এই প্রামাণ্য তথ্যচিত্রে সময়ের পরিক্রমায় এর বিবর্তন ইতিহাস স্থাপত্যবিদ্যার জন্য বেশ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
ডার্ক সিটি (২০০৮)
এলেক্স প্রোয়েসের বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক চলচ্চিত্র ডার্ক সিটি আমাদের সামনে উপস্থাপন করে এক অলীক পৃথিবীর যেখানে আদর্শ সমাজ বানানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ডার্ক সিটি মানে যে শহরে আলো নেই এবং ঘড়ির কাঁটায় যখন মধ্যরাত তখন মানুষের স্মৃতি পাল্টাতে শুরু করে। সিনেমাটিতে দেখানো হয় ‘কৃত্রিম সমাজ’ থেকে কিছু লোক সংগ্রহ করে স্ট্রেঞ্জাররা এই পরীক্ষা চালায়। সব মানুষ চেতনা হারায়। সব মেশিন অচল হয়ে পড়ে। শহরের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। উঁচু অট্টালিকাগুলো আন্ডারওয়ার্ল্ড থেকে নিক্ষেপ হয়, স্থাপত্য পরিকল্পনা করা হয়, ঘরগুলো অধিবাসীদের বসবাসের জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।
দি ইনফাইনাইট হ্যাপিনেস (২০১৫)
এই চলচ্চিত্র ড্যানিশ স্থপতি বার্কে ইংগেলসের কাজের ওপর নির্মিত হয়েছে, বিশেষ করে কোপেন হেগেনে তার উদ্ভাবিত ‘এইট হাউজিং’ প্রকল্পের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। এই প্রজেক্ট নিয়ে স্থপতির সরাসরি সাক্ষাত্কারের পরিবর্তে চলচ্চিত্র নির্মাতা ইলা বেকা এবং লুই লিমোনি কমিউনিটি বসবাসকারীদের জীবনকে দেখিয়েছেন, যারা নতুন বাসস্থানে তাদের বসবাসের অভিজ্ঞতার অনুভূতিগুলো চিত্রায়িত করেছেন। বেশিরভাগই মজার এবং আনন্দের কাহিনীই ব্যক্ত করেছে, প্রতিদিনকার গল্পে উঠে এসেছে জন্মদিন, আউটডোর অ্যাক্টিভিটি থেকে শুরু করে হ্যালোউইন এবং ফ্যামিলি গেট টুগেদারের মতো ব্যাপারগুলো। এদের মাঝে একজন তার আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন যে কিছু পর্যটক এই ভবন টিকে পাবলিক স্থান বলে ভাবতে পারে। স্থাপত্য নকশার গুরুত্ব বিবেচনায় ‘এইট হাউজ’ এক নতুন উচ্চতায় অবস্থান করে। এটি একটি মাল্টিফ্যামিলি হাউজিং প্রজেক্ট, যেখানে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন এবং আনন্দদায়ক প্রবেশযোগ্য র্যাম্প ব্যবহারের মাধ্যমে অনুভূমিক সামাজিক যোগাযোগ এবং ভবনের আশপাশের প্রতিবেশী গ্রামের রাস্তার সঙ্গেএকটা মিথস্ক্রিয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।এই ধরনের হাউজিং ব্যবস্থা ডেনমার্কের মতো দেশে অনেক মতাদর্শগত বাধা পেরোনোর একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ব্লেড রানার (১৯৮২)
লস অ্যাঞ্জেলেস, ২০১৯। পৃথিবী ছেড়ে মানুষের জীবন ছড়িয়ে গেছে অন্য গ্রহেও। শুধু কথায় নয়, আদতেও আকাশছোঁয়া দালানে বাস করা মানুষের এই জীবনে সাহায্যকারী হিসেবে তৈরি করা হয় মানুষের মতো করেই তৈরি করা বায়ো-ইঞ্জিনিয়ার্ড অ্যান্ড্রোয়েড, যাদেরকে বলা হয় রেপ্লিকেন্ট। টাইরেল করপোরেশনের তৈরি এই রেপ্লিকেন্টের পৃথিবীর বাইরের বিদ্রোহের কারণে নিষিদ্ধ করা হয় পৃথিবীর মাটিতে। আর তাই পুলিশের বিশেষ স্কোয়াড ব্লেড রানারদের দায়িত্ব দেওয়া হয় রেপ্লিকেন্টদের ‘রিটায়ার্ড’ করতে অর্থাত্ মেরে ফেলতে।
ব্লেড রানার ১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি মার্কিন চলচ্চিত্র। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক এই চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেন রিডলি স্কটচলচ্চিত্রটিতে তারকা অভিনেতা হ্যারিসন ফোর্ড ব্লেড রানার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন, যিনি রেপ্লিক্যান্ট নিধন করতেন। বক্স অফিসে খুব বেশি সাড়া না ফেললেও একটি বিশেষ শ্রেণির দর্শকপ্রিয়তা পায় চলচ্চিত্রটি। ছবিটির মাস্টারপিস ভিজ্যুয়াল অ্যাফেক্ট সেই সময়ের জন্য ছিল এক অসাধ্য সাধন, যা আজও জনপ্রিয়। এই সিনেমার আবেদন গল্পের চেয়ে বেশি এর মেকিংয়ে। নিও-নয়্যার জন্যা এবং চিয়ারোস্কুরো (অন্ধকারাচ্ছন) সিনেমাটোগ্রাফির সঙ্গে আছে এর বিশাল সেট আর নন-ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল অ্যাফেক্ট, যেটাকে অন্যতম সেরা অ্যাফেক্ট হিসেবে গণ্য করা হয়। আর তাই আর্ট ডিরেকশন এবং ভিজ্যুয়াল অ্যাফেক্ট; দুই বিভাগেই অস্কার নমিনেশন লাভ করে ‘ব্লেড রানার’।
স্থপতিরা নকশায় নিত্যনতুন উদ্ভাবন যেমন করেন, তেমন পুরনোকে সংরক্ষণের মানসিকতাও থাকে তাদের নকশায়। ছবিতে একদিকে দেখানো হয়েছে ব্লেড রানার ডেকার্ড বসবাস করত ফ্র্যাংক লয়েডের নকশাকৃত অ্যান্সি হাউজে। টাইরেলের আকাশছোঁয়া দালান আর মাটিতে চলা সাধারণ মানুষের মাঝে তুলনা করে দেখানো হয়েছে স্বর্গ-মর্ত্যের তফাত। দেখানো হয়েছেলস অ্যাঞ্জেলেসের ফিউচারিস্টিক সিটিস্কেপ, চলচ্চিত্রে বাহ্যিকভাবে অনেক আধুনিক স্থাপনার দেখা মেলে, সুউচ্চ অট্টালিকা ছাড়াও প্রযুক্তি ও গাড়িগুলোও যে সময়ের সঙ্গে দ্রুততম এগিয়ে গেছে তা বোঝা যায়। অন্যদিকে অন্দরসাজে সমপূর্ণ বিপরীত চিত্র লক্ষ করা যায়। একেবারেই সাদামাটা ফার্নিচার সব, চিরায়ত সব জিনিসপত্র। এর থেকে প্রতীয়মান হয়, পুঁজিবাদী সমাজ সংকীর্ণ হয়ে এসেছে এবং স্থাপত্য কেন্দ্রিক আমাদের বসবাসের তাত্পর্য।
সানজিয়া হাউরেন/স্টিল লাইফ (২০০৬)
সানজিয়া হাউরেন বাস্টিল লাইফ আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত চাইনিজ চলচ্চিত্র, যার অর্থ ‘Good People of Three Georges’। প্রমত্তা ইয়াংজি নদীতে থ্রি জর্জেস বাঁধ নির্মাণের পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাংজি কাউন্টির এক ছোট শহর ধ্বংসের সম্মুখীন এবং ক্রমেই পানির নিচে ডুবে যাচ্ছে। এর প্রধান কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একজন পুরুষ ও নারী তাদের হারিয়ে যাওয়া পরিবারকে খুঁজতে এ শহরে আসে এবং সামাজিক পরিবর্তন দেখতে পায়, এই ঘটনাকে কেন্দ্রকরে। ফ্যাংজি ক্রমেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে, নতুন ল্যান্ডস্কেপ গঠন করছে— তার অধিবাসীদের বিশ্বাসও ডুবে যাচ্ছে যারা দেখছে তাদের জায়গা বদলে যাচ্ছে এক মুহূর্ত থেকে আরেক মুহূর্তে।
এর মাঝেই দেখা যায় স্যানমিং এবং শেন, প্রধান দুটি চরিত্র তাদের হারিয়ে যাওয়া পরিবার খুঁজে বেড়াচ্ছে কিন্তু স্বতন্ত্রভাবে, কখনও তাদের দেখা হয় না। শেনের সঙ্গে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা স্বামীর সঙ্গে দেখা হলে জানতে পারে স্বামীর অন্য জায়গায় সমপর্ক গড়ে উঠেছে। আর শেনের স্ত্রী ও কন্যা শেনের সঙ্গে যেতে রাজি হয় না। এই রূপান্তরিত এবং ক্ষয়িষ্ণু পরিবেশে তারা তাদের অতীতকে পেছনে ফেলে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।
সিটি (২০০৮)
২০০৮-এর ছবি ২৪ সিটি বা টুয়েন্টিফোর সিটির নির্দেশনায় ছিলেন চাইনিজ চলচ্চিত্রকার জিয়া ঝ্যাং কে।এই ছবির চরিত্রগুলোতে চ্যাংদু শহরের তিন প্রজন্মকে (১৯৫০, ১৯৭০ এবং বর্তমান) দেখানো হয়েছে, যারা অ্যারোপ্লেনের ইঞ্জিন তৈরির কারখানায় কাজ করে। কারখানা ভেঙে ওই জায়গায় প্রস্তাবিত অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স নির্মাণের ঘটনাকে কেন্দ্র করেএই ছবির কাহিনী আবর্তিত হয় এবং কারখানার বদলে নির্মিত অ্যাপার্টমেন্ট প্রজেক্টের নাম ‘২৪ সিটি’ অনুসারেই চলচ্চিত্রটির নামকরণ করা হয়েছে। ছবিটিতে ডকুমেন্টারি এবং ফিকশনের ভেতর একটা ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন পরিচালক জিয়া ঝ্যাং কে। স্থানীয় লোকদের সাক্ষাত্কার দেখানো হয়েছে, যাদের জীবন ও জীবিকা পুরোপুরি ওই কারখানাটির ওপর নির্ভর ছিল। একুশ শতকের সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তনের অস্থিরাবস্থা মোকাবেলায় তারা কী পরিমাণ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, তা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ব্যক্ত করে। নগরায়ণ এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য অধিবাসীদের আবাসস্থল বা কর্মস্থল অধিগ্রহণের ফলে অধিবাসীদের জীবনে মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক প্রভাবগুলো উন্নয়নের কারিগরদের বিবেচনা এবং গবেষণার বিষয়।
দি আর্কিটেক্ট (২০১৬)
২০১৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই চলচ্চিত্রটিতে পরিচালক জোনাথন পার্কার ‘স্থপতি’ চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার জন্য স্থপতি সংক্রান্ত ছকে বাঁধা বা প্রচলিত ব্যাপারগুলো তুলে এনেছেন এর কেন্দ্রীয় চরিত্রটিতে, যার ভূমিকায় মাইলস মস অভিনয় করেছেন। একটি দম্পতির বাড়ির নকশা প্রণয়নের জন্য তাকে নিয়োগ দেয়া হয়। তিনি ছিলেন উদ্ধত, আত্মকেন্দ্রিক এবং কাজপাগল। তিনি কি দম্পতির জন্য তাদের স্বপ্নের বাড়িটি ডিজাইন করবেন নাকি সেটি হয়ে উঠবে স্বপ্নের মাস্টারপিস? হালকা কমেডি ধাঁচের এই ছবিটি দেখলে আরও জানা যাবে এই পেশা সম্পর্কে বাস্তব চিত্র এবং অন্যরা কভািবে এটিকে দেখে।