ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সেন্ট্রিফিউজ উন্নত করার কাজ পুনরায় শুরু করবে ইরান। ২০১৫ সালে ছয় বিশ্বশক্তির সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণু চুক্তির প্রতিশ্রুতি তৃতীয়বারের মতো কমানোর ঘোষণা দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এ কথা জানিয়েছেন।
টেলিভিশন ভাষণে রুহানি বলেন, পারমাণু জ্বালানি সংস্থাকে গবেষণা ও উন্নয়নের প্রয়োজনে সবকিছু এখনই শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ গতিশীল করতে শুক্রবার থেকে ইরান সেন্ট্রিফিউজ উন্নত করার কাজ করবে। শুক্রবারের মধ্যে ইউরোপ কোনো সমাধান না দিতে পারলে ইরান ব্যবস্থা নেবে বলে হুমকি দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পরেই এ নির্দেশ দিলেন রুহানি।
রুহানি আরো বলেন, শিগগিরই পারমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ইউরোপের সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনার সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আজ অথবা আগামীকালের মধ্যে ইউরোপের সঙ্গে কোনো সমাধানে পৌঁছানো যাবে না।’ তিনি বলেন, ইরানের নতুন কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ হবে। এতে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষক দলের নজরদারি থাকবে।
আরও পড়ুন : ত্রিপুরায় এলপিজি রপ্তানি করবে বাংলাদেশ
উল্লেখ্য, এর আগে আলাদা দুই ধাপে ২০১৫ সালের চুক্তির প্রতিশ্রুতি কমায় ইরান। তেহরানের দাবি চুক্তিতে এখনো বহাল থাকা ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের অর্থনীতি রক্ষায় যথেষ্ট ভূমিকা না নিলে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখা হবে।
সেন্ট্রিফিউজ উন্নত করার রুহানির ঘোষণার পরেই ইরানের বিপ্লবী গার্ড পরিচালিত একটি তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া ফ্রান্সও ইরানের সেন্ট্রিফিউজ উন্নয়ন পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি সহযোগিতামূলক আচরণ নয়। এর আগে ফ্রান্স প্রস্তাব দিয়েছিল, চুক্তি রক্ষা করলে এ বছরের শেষ পর্যন্ত ইরানকে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার দেওয়া হবে।
২০১৫ সালের জুনে ভিয়েনায় নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ সদস্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া, চীন ও জার্মানি ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষর করে। ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত এ চুক্তিকে ‘ক্ষয়িষ্ণু ও পচনশীল’ আখ্যা দিয়ে ২০১৮ সালের মে মাসে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নভেম্বর থেকে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া শুরু করে ওয়াশিংটন। তিনি ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি নিয়েছেন।
ইরানও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। কারণ, দেশটি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতারিত হয়েছে বলে মনে করছে। একই সঙ্গে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে বলে জানিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি।
ইত্তেফাক/কেআই