ঝালকাঠিতে নাশকতা, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টির লক্ষে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য গোপন বৈঠকের সময় জামায়াতের সেক্রেটারিসহ ১৬ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৃথক এক অভিযানে বাড়ির মালিক এটিএম মহিউদ্দিন খোকনকে শহরের কামারপট্টি মোড়ে তার বোনের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ৪টি মোটরসাইকেল, জেহাদি বই, রেজুলেশন খাতা ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল হক, ঝালকাঠি সরকারি বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আঃ কুদ্দুস ও বাসার ভাড়াটিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক মনিরুজ্জামান, পৌর জামায়াতের আমীর আব্দুল হাই, জামাত নেতা ও ঝালকাঠি সদর ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার সাহাব উদ্দিনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফরিদুল হকের নেতৃত্বে এই বৈঠক চলছিল। ঝালকাঠিতে ২০০৫ সনে জেএমবির হামলায় ২ বিচারক হত্যা, ২০০৭ সনে বিচারক হত্যা মামলার আইনজীবী পিপি হত্যার পর আরেকটি নাশকতার পরিকল্পনায় এ বৈঠক হতে পারে।
পুলিশের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, খুব শিগগির আদালতের মাধ্যমে রিমান্ডে এনে এদের জিজ্ঞাসাবাদে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে না জানিয়ে এদের ঘর ভাড়া দিয়ে আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার অপরাধে বাড়ির মালিক এটিএম মহিউদ্দিন খোকনকে এ মামলায় আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রতিবেশী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় ২ বছর আগে মহিউদ্দিন খোকন
ও তার পরিবার রাজাপুর তারাবুনিয়া ওয়াহেদিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামানের কাছে ঘরটি ভাড়া দেয়। সেই থেকেই এ বাড়িতে অপরিচিত বহিরাগত লোকজন খুব ভোরে এবং গভীর রাতে আসা যাওয়া করতো। প্রায় সময় ঘরের দরোজা জানালা বন্ধ রেখে তারা ভিতরে অবস্থান করত।
এ বিষয়ে ভাড়াটিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক জামায়াত নেতা মনিরুজ্জামান জানান, আমরা দীর্ঘ দিন থেকে ফজরের নামাজের পর প্রায়ই কোরআনের তাফসির করতে এখানে সমবেত হই। এটা দোষের কিছুই নয়। এর মধ্যে জেলা জামায়াতের ৭/৮ জন নেতা এবং অন্যরা জামায়াতের কর্মী সমর্থক বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন: ১০৪ বছরেও ভাতা পাননি মোরেলগঞ্জের সখিনা বিবি
এ বিষয়ে ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল এম.এম. মাহমুদ বলেন, এরা সরকার বিরোধী কোনো চক্রান্ত করতে এখানে প্রায়ই মিলিত হতো বলে জানা গেছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে বিস্তারিত জানা যাবে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা বৈঠকের কথা স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা দায়ের করেছে। ওই মামালায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।
ইত্তেফাক/নূহু