এইচ আই হামিদ
একটা বদ্ধপাগল, কলার সুতরা একটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া লাগিয়ে লাগিয়ে মাইকের তার বানায়। আর নারিকেলের মালোয়কে মাইক্রোফোন বানিয়ে, গলা ফাটিয়ে গান করে ‘জন্মদিনে কী আর দেব তোমায় উপহার, বাংলাতে নাও ভালোবাসা হিন্দিতে নাও পিয়ার’। ভাতের সঙ্গে লঙ্কা তার চাই-ই চাই, লঙ্কা ছাড়া সে এক গাল ভাতও খায় না। কেউ ভাত দিলে খায়, না দিলে না খায়। কারো কাছে হাত পেতে কোনো দিন কিছুই চায় না। নামধাম কিছুই বলতে পারে না। কিছুদিনের জন্য মাঝেমধ্যে কোথায় যেন উধাও হয়ে যায়। কেউ জানে না কোথায় যায়, কেন যায়। গাছের ডালে নতুন বসা মৌচাকের মতোই আবার হঠাত্ চোখে পড়ে। আমার সঙ্গে তার দেখা হলো রাস্তায়। দাঁড়ি-মোচে মুখখানা তার আষাঢ় মাসের মাঠ। একটা নোংরা ছেঁড়া পাঞ্জাবি পরা। পরনের লুঙ্গিটা হাতে। পাগলের পরনের লুঙ্গি হাতে দেখে গ্রামের চেয়ারম্যান রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে হাসতে হাসতে আমাকে ডেকে বলল, ‘ঐ দ্যাখ পাগলের কাণ্ড, পাগলে কিনা করে আর ছাগলে কিনা খায়, যাকে বলে বদ্ধপাগল।’ চেয়ারম্যান চলে গেল। হাতে লুঙ্গি দেখে কৌতূহলবশত একটু দাঁড়ালাম। কী করে দেখার জন্য। জায়নামাজের পাটির মতো লুঙ্গিটা বিছিয়ে দিল সবুজ ঘাসের ওপর। নিচে রাস্তার ধারের ছোট-বড়ো ইটের টুকরো, মাটির দলা কুড়িয়ে কুড়িয়ে লুঙ্গির ওপর রাখতে লাগল। পরে লুঙ্গি পেঁচিয়ে কাঁধে করে রাস্তায় উঠে এল। রাস্তার মাঝে গর্ত। গর্তের ওপর ইটের টুকরোগুলো ঢেলে দিল। পাগলের কাজ দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। মনকে বললাম, এই কাজ যদি হয় পাগলামি, এই যদি হয় পাগলের কাজ; এই লোক যদি হয় বদ্ধপাগল, তাহলে আমরা কী?
প্রভাষক, সিলেট সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সিলেট।