আহাদ আদনান
আমার পরিচিত পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী মামা সারাদিন আড়তে বসে গান শুনেন। আগে ছিল রেডিও, এখন স্মার্ট ফোন আর ইউটিউব। মজার ব্যাপার হলো, যেই গানই শুনেন, তিনি সেগুলো বিশ্লেষণ করেন ব্যবসায়ী বুদ্ধিতে। দেখুন তার কিছু নমুনা
v বাজারে যাচাই করে দেখিনি তো দাম, সোনা কিনিলাম নাকি রুপা কিনিলাম :আবে হালায় কয় কী? তুই সোনা কিনবি, আবার রুপাভি কিনবি, মাগার দাম করবি না, কস কী? তোরে তো ভরা রাস্তায় টুপি পিন্দায়া টাট্টু ঘোড়ার লাহান ছাইড়া দিবরে পাগলা।
v সোনা সোনা সোনা, লোকে বলে সোনা, সোনা নয় তত খাঁটি :তুমি মামা চালু আছ। সোনার দোকানে গিয়া ঠিক এইরাম ফাঁপড় লইবা, ওই মিয়া খাঁটি কইয়া ভেজাল গছাও কেলা। তোমার পলিসিরে আমি লাইক দিলাম, না না লাভ রিঅ্যাক্ট দিলাম।
v এক বিন্দু ভালোবাসা দাও, আমি এক সিন্ধু হূদয় দিব :বলদে কয় কী, হূদয় কি নাজিরাবাজারের তেহারি নাকি, চাইলেই দিয়া দিবা? তুমি ব্যবসার কিছু বোঝ না দেখতাছি। শুনো, সে যদি ভালোবাসা এক বিন্দু দেয়, তাইলে প্রথমে কইবা, ওই মাইয়া, আমি আধা বিন্দু হূদয় দিমু। হইলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট অ্যাকসেপ্ট কর, নাইলে ফুটো। রাজি না হইলে পৌনে এক বিন্দু, এর বেশি না।
v তোমার ঘরে বাস করে কারা ও মন জানো না, তোমার ঘরে বসত করে কয়জনা :কেউ আমার মাথায় বরফ ঢাল, গানের কথা শুইনা মাথা গরম হইয়া গেছে। তুমি বাড়িওয়ালা, আর কয়জনরে ঘর ভাড়া দিছ এইটাই জানো না? তুমি তো কেস খাইয়া যাইবা? ভাড়াটিয়াদের জান-পেহচান কি, ব্যাচেলর কিনা, স্বভাব চরিত্র কেমন তাও জানো না। সামনে জানুয়ারি আইতাছে। ভাড়া কিন্তু বাড়াইতে হইব। (দুপুরে কোনো সুন্দরী ভাবি একলা থাকলে ফেসবুক আইডিটা একটু দিও তো!)
v পিরিতের বাজার ভালো না :পিরিতি কি কোনো দেশি কোম্পানি নাকি ফরেন মাল? দেশি হইলে সরকারি নাকি প্রাইভেট? তা এই কোম্পানির শেয়ার এত পড়তাছে কেন? আবার শেয়ার জালিয়াতির গন্ধ পাচ্ছি! যাউজ্ঞা ভাইগ্না, এইসব লস মালে ইনভেস্ট কইর না। পিরিতি ইজ অ্যা লস প্রজেক্ট।
v এ যে দেখি কানার হাটবাজার :কয় কি, ক্রেতা-বিক্রেতা সব কানা? এই বাজারই তো আমার দরকার। ঠিকানাটা দিও তো ভাইগ্না, ব্লাফ মাইরা কানার হাটবাজারে টু পাইস ইনকাম কইরা আসি।
v এই বুকে বইছে যমুনা, নিয়ে অথৈ প্রেমের জল, তার তীরে গড়ব আমি আমার প্রেমের তাজমহল :বাংলাদেশে আবার তাজমহল হইতাছে নাকি? জমি লিজ লইছ, আমার কমিশন কই? তাজমহল বানানোর টেন্ডার কারে দিছে? আমার ভাই-বেরাদর যদি টেন্ডার না পায় তাইলে হালায় প্রেমের যমুনা রক্তের যমুনা বানায়া দিমু।
v নাচ আমার ময়না তুই পয়সা পাবিরে :ক্যাডা, ময়না নাকি? নাচবা? নাচো, তয় ঠিকমতো বার্গেনিং কইরা লইবা। আজকাল আবার খ্যাপ মারলেও টাকা দেয় না। আগে টাকা বুইঝা লইবা, তারপর যা ইচ্ছা হয় নাচবা। আর শুনো, সামনের মাসে এই আঙ্কেলের বাড়িতে একটা পার্টি আছে। ফ্রিতে একটু নাইচা দিয়া যাইয়ো।
v এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হতো তুমি বলো তো, তুমিই বলো, তুমিই বলো, তুমিই বলো, তুমিই বলো, তুমিই বলো :আরে মিয়া, কী ‘তুমিই বলো, তুমিই বলো’ শুরু করছ? বাইক কি অকটেনে চলে না পানিতে চলে। এক জায়গায় বাইক থামায়া ঠিক কর আগে কে কইবা। আর তোমার হেলমেট কই? নগদে কেস খাইয়া যাইবা হালায়। আর পথ শেষ না হইলে কী কী হইব আমি কইতাছি তোমারে। বাইকের তেল শেষ হইয়া যাইব, মানিব্যাগ খালি হইয়া যাইব, রাইত হইয়া যাইব, আর রাইত হইলে ঠাটারিবাজারের গলিতে মুরগি নাসির ক্ষুর লইয়া খাড়ায়া আছে। একবারে সব কিছু রাইখা দিব।
মাতুয়াইল, ঢাকা।