উগ্র ডানপন্থিদের সঙ্গে সমঝোতা করবেন মারকেল!

এম এ আলআমিন

 

জার্মানির স্যাক্সোনি এবং ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজ্য দুটিতে ১ সেপ্টেম্বর যে নির্বাচন হয় তাতে উগ্র ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) অপ্রত্যাশিতভাবে ভালো ফল করে। ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত আগেরবারের নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি স্পষ্ট বোঝা যায়।

আগেরবার নির্বাচনে স্যাক্সোনিতে এএফডি পেয়েছিল ৯.৭ শতাংশ ভোট। সেটি এবার বেড়ে হয়েছে ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে ব্র্যান্ডেনবুর্গে পেয়েছিল ১২.২ শতাংশ ভোট যা এবার বেড়ে ২২ শতাংশে পৌঁছেছে। এ থেকে এটি পরিষ্কার যে দলটি জার্মান জনগণের সমর্থন আদায়ের ক্ষেত্রে বেশ অগ্রগতি অর্জন করেছে। চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মারকেলের নেতৃত্বাধীন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। মধ্য ডানপন্থি সিডিইউ নির্বাচনের ফল দলটির ভবিষ্যত্ নীতি নির্ধারকদের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে নিঃসন্দেহে। বিষয়টি মারকেলের বিদায় ত্বরান্বিত করা নয় শুধু উত্তরসূরি অ্যানেগ্রেট ক্রাম্প কারেনবাউরকেও সমস্যায় ফেলতে পারে।

এএফডি খুব পুরোনো দল নয়, ইউরো সংকটের পর ২০১৩ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি অর্থনৈতিকভাবে মধ্য ডানপন্থি নীতি অনুসরণ করে। অন্যদিকে জাতীয় ও আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে তারা পুরোপুরি ডানপন্থি। ২০১৬ সালের শুরু থেকে দলটির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। মারকেলের উদার অভিবাসন নীতির সমালোচনা তাদের জনপ্রিয়তার ভিত্তি তৈরি করে দেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ইসলাম ও অভিবাসন বিরোধী দল পেজিডার প্রচারণা। এর আগে ২০১৫ সালে নববর্ষে জার্মান শহর কোলনে নারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। অভিবাসী তরুণরা ঐ হামলার জন্য দায়ী বলে খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়টি বিভিন্ন দেশে অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ ধারণা তৈরি করে। ২০১৬ সালে জার্মানির দুটি রাজ্য এবং সাবেক পূর্ব জার্মানি পুরো অঞ্চলটিতে এএফডি রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে। ২০১৭ সালে ফেডারেল (সাধারণ) নির্বাচনে এএফডি ২০.২ শতাংশ ভোট পেয়ে ব্র্যান্ডেনবুর্গ রাজ্যে দ্বিতীয় স্থান এবং ২৭ শতাংশ ভোট পেয়ে স্যাক্সোনিতে প্রথম স্থান অর্জন করে। চলতি মাসে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নির্বাচনে ঐ ঘটনার প্রতিফলন লক্ষ্য করা যায়। স্যাক্সোনি, ব্র্যান্ডেনবুর্গ বা আরেকটি পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য থুরিঙ্গিয়ায় এএফডির অগ্রাভিযান মারকেলের দলের জন্য মূল সমস্যা নয়। থুরিঙ্গিয়ায় ২৭ অক্টোবর নির্বাচন হবে। ফেডারেল রাজনীতিতে ওই রাজ্য তিনটির গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত কম। পশ্চিম ও দক্ষিণের অর্থনৈতিকভাবে অগ্রসর ও প্রভাবশালী রাজ্যগুলোতে সিডিইউর জনপ্রিয়তা এখনো অক্ষুণ্ন আছে। মারকেলের আসল উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী কৌশল নির্ধারণ নিয়ে। কারণ সিডিইউর সমমনা দলগুলোর অবস্থান বিক্ষিপ্ত এবং তাদের মধ্যে যথেষ্ট মতপার্থক্য রয়েছে। রাজ্য ও ফেডারেল রাজনৈতিক ইস্যুর মধ্যে পার্থক্য লক্ষণীয়। পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সিডিইউ ও এএফডির মধ্যে রাজনৈতিক ইস্যুগুলোর মিল রয়েছে।

জার্মানির মূলধারার রাজনীতি এখনো পর্যন্ত এএফডিকে পাত্তা না দেওয়ার নীতিতে অটল আছে। আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর কাছেও এএফডি বা পেজিডার মতো দল বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে না। মারকেলের জন্য চিন্তার বিষয় হলো নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজ্য পর্যায়ে রাজনীতিতে সিডিইউর কৌশল নির্ধারণ নিয়ে। বিশেষ করে স্যাক্সোনি, ব্র্যান্ডেনবুর্গ বা থুরিঙ্গিয়ায় সিডিইউর অবস্থা খুব ভালো নয়। সেখানকার ভোটাররা প্রকাশ্যেই সিডিইউর সমালোচনা করছে। কারণ ঐ রাজগুলোতে সিডিইউ এএফডির সঙ্গে কোয়ালিশন করার কথা ভাবছেন। অথবা আরেকটি বিকল্প আছে বিরোধী আসনে বসা। দুটোই ক্ষমতাসীন সিডিইউর জন্য অস্বস্তিকর।

রাশিয়ার সঙ্গে আপসমূলক দৃষ্টিভঙ্গি জার্মানির পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর রাজনীতির অন্যতম ইস্যু। স্যাক্সোনি অঞ্চলের সিডিইউ নেতা মাইকেল ক্রেস্টচমারও একই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। এএফডি আন্তর্জাতিক নীতির ক্ষেত্রে মার্কিনবিরোধী এবং রুশপন্থি। এক্ষেত্রে এএফডির সঙ্গে স্থানীয় সিডিইউর মিল রয়েছে। এছাড়া সম লিঙ্গ বিয়ে বিরোধিতার ক্ষেত্রেও দল দুটির মধ্যে মিল রয়েছে। পার্লামেন্টারি রাজনৈতিক কৌশলের দিক দিয়ে এএফডি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে তা সিডিইউর জন্য কিছুটা হলেও চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ তারা সিডিইউর থেকে গোপনে কিছু মারকেল-বিরোধীকে ভাগিয়ে নিজেদের দলে নিয়ে আসতে পারে।