বাজারে এলপি গ্যাসের সংকট সৃষ্টির পাঁয়তারা চলছে। এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এলওএবি) বটলিং প্ল্যান্টসমূহে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ায় খুচরা বাজারে এলপিজি’র দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বেসরকারি বটলিং প্ল্যান্টগুলো এলপিজি সংকটে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত প্রায় ২ মাস যাবত্ এলপিজি আমদানি করা বেসরকারি প্ল্যান্টগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। ফলে বর্তমানে গুটিকয়েক এলপিজি আমদানিকারক দেশের এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে বলে পাইকারী বিক্রেতরা অভিযোগ করছেন। সাড়ে ১২ কেজি ওজনের প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৩০০/৪০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বটলিং প্ল্যান্টের সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেছেন।
বেসরকারি বটলিং প্ল্যান্টগুলোতে এলপিজি সরবরাহ চালু করার দাবি জানিয়ে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মাহাবুবুল আলম ইত্তেফাককে বলেন, এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক এলপিজি সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে ইতোমধ্যেই দেশের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সৃষ্ট কৃত্রিম সংকটের ফলশ্রতিতে জনদুর্ভোগের পাশাপাশি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েশনের নামে হঠাত্ এমন একতরফা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা মুষ্ঠিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর মনোপলি ব্যবসা পরিচালনার পাঁয়তারা কিনা তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি আরো বলেন, এ অনৈতিক কর্মকাণ্ড অনতিবিলম্বে দূর করে সকল স্তরের ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনার সমান সুযোগ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে বাল্ক এলপিজি সরবরাহ পুনরায় চালু করার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম কমেছে। ফলে দেশের পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমদানিকারকরা সিন্ডিকেট করে বটলিং প্ল্যান্টগুলোতে হঠাত্ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। দেশে বর্তমানে বেসরকারি প্রায় ৯টি বটলিং প্ল্যান্ট চালু রয়েছে। তারা এলপিজি আমদানিকারকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে বোতলজাত করে বাজারে বিক্রি করে। বটলিং কোম্পানিগুলোতে প্রায় ১৫ লাখ সিলিন্ডার রয়েছে। ফলে আমদানিকারকরা তাদের নিজস্ব ফ্যাক্টরিতে বোতলজাত করে খুচরা বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা জন্য পাঁয়তারা করাছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে দেশের এলপি গ্যাসের খুচরা বাজার তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।
সরকারিভাবে দুটি এলপিজি প্ল্যান্ট রয়েছে। এই দুটি থেকে ২০ হাজার টন এলপিজি সরবরাহ করে থাকে। এসব গ্যাস বিপিসির নিয়ন্ত্রণাধীন পদ্মা, মেঘনা, যমুনা প্রতি সিলিন্ডার ডিলারদের নিকট ৬৭৫ টাকায় বিক্রি করে থাকে। বিপিসির অনুমোদিত প্রায় ৩ হাজার ডিলার রয়েছে। তাদের মাধ্যমে বিপিসির এলপি গ্যাস বাজারজাত করা হয়। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার গ্যাস ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করার নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু বাজারে চড়া দামে সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইত্তেফাক/আরকেজি