পূজার ফ্যাশনে ভিন্নতার ছোঁয়া

বাঙালির কাছে সার্বজনীন এক উত্সবের নাম দুর্গাপূজা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব বাঙালির এক মহামিলনের কেন্দ্র হয়ে ওঠে দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলো। তাই এই উত্সব উদযাপনে পোশাকের প্রতি সবারই থাকে আলাদা নজর। আসছে পূজার ফ্যাশনের খবর নিয়ে লিখেছেন নওশীন শর্মিলী

এখন প্রকৃতিজুড়ে বিরাজ করছে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশফুলের স্নিগ্ধতা। ঠিক এমনই শুভ্র প্রকৃতির মাঝে সিঁদুর রাঙা আমেজ নিয়ে আসবে শারদীয় দুর্গাপূজা। পূজা আর শরত্ মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় উত্সবের বর্ণিল পোশাক আর সাজসজ্জায়। কাশফুলের শুভ্রতা দেখা যায় পূজার শাড়িতেও। সাদা গরদের এই শাড়ির লাল পাড় ধারণ করে শক্তির প্রতীক। আর সাদা যে শান্তির বার্তা পিঠে করে স্বর্গ হয়ে পৃথিবী ঘুরে বেড়ায়। সেই আদিকাল থেকেই সাদা আর লালের সঙ্গে সখ্য গড়ে পূজায় সেজে আসছে মানুষ। লাল পেড়ে সাদা শাড়ির সঙ্গে আলতা রাঙানো পা ও সিঁদুরের রক্তিম ছোঁয়া পূর্ণ করে সনাতনী সাজকে। কপালে বড় একটি সিঁদুরের টিপ আর শাঁখা-পলার উপস্থিতি সেই সাজের জৌলুসকে বাড়িয়ে দেয় আরো কয়েকগুণ। তবে এ সাজ কেবল বিবাহিত নারীদের জন্যই। একটু কম বয়সীরা শাড়ির পাশাপাশি বেছে নিতে পারেন সালোয়ার-কামিজ কিংবা জিন্স-ফতুয়া ও কুর্তাকে। লাল-সাদার পাশাপাশি বিভিন্ন উজ্জ্বল রং উঠে আসতে পারে পূজার পোশাকে। কেননা দুর্গাকে সাদরে বরণ করতে ঐতিহ্য আর সনাতনী সাজের পালে আজ লেগেছে নতুন হাওয়া। যে হাওয়াটা আধুনিকতার মলাটে মোড়ানো। তাই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার স্বাচ্ছন্দ্য মেলবন্ধনে দেখা যায় গতানুগতিক রঙের পাশাপাশি সবুজ, নীল আর বেগুনিসহ অনেক রং এসে ধরা দেয় এই উত্সবে। শাড়ির পাশাপাশি এখন সালোয়ার-কামিজ, জিন্স ফতুয়া, টপস ও কুর্তায় দেখা যায় এসব রং। ফেব্রিক হিসেবে এখনকার পোশাকে প্রাধান্য পেয়েছে ভয়েল, সুতি, অ্যান্ডি সিল্ক, হাফ সিল্ক ও মসলিন। আর এসবে ব্যবহার করা হয়েছে এমব্রয়ডারি, স্ক্রিন প্রিন্ট, অ্যাপলিকের কাজসহ সিকোয়েন্স ও মেটালের কম্বিনেশন। অনেক কিছুর মতোই পূজার ফ্যাশনকেও প্রভাবিত করেছে সময়। ফলে মাত্র দশক তিনেক আগেও যে ধুতি ছিল ওতপ্রোত, সেই ধুতির জায়গা নিয়েছে পায়জামা বা আরো এগিয়ে বললে জিন্স। অন্যদিকে শাড়ির জায়গায় অনেকদিন আগেই প্রবেশাধিকার পেয়েছে সালোয়ার-কামিজ বা চুড়িদার কামিজ। এমনকি জিন্সও ব্রাত্য নেই। ফলে কোনো মণ্ডপে জিন্স-পাঞ্জাবি বা জিন্স-ফতুয়া পরা তরুণ আর জিন্স-কুর্তিতে কোনো তরুণীকে দেখলে আজ আর আমরা অবাক হই না। কারণ সমসময়ে থাকাই তো ফ্যাশন। তাই সংযোজন আর বিয়োজনকে নিয়েই এগিয়ে চলেছে পূজার ফ্যাশনও। আমাদের ফ্যাশন হাউসগুলো নান্দনিক ডিজাইনের পূজার পোশাক দিয়ে সাজিয়েছে তাদের আউটলেট। আপনি পূজার দিনের জন্য পছন্দের পোশাক কিনতে যেতে পারেন বিশ্বরঙ, অঞ্জন’স, কে ক্র্যাফট, রঙ বাংলাদেশ, বিবিআনা, নগরদোলা, বাংলার মেলাসহ অন্যান্য ফ্যাশন হাউসে। উত্সবের ফ্যাশনে শুধু নতুনত্বই নয়, ঐতিহ্যের ছোঁয়া আছে বলেই উত্সবের সাজে সার্বজনীনতা খুঁজে পাওয়া যায়।

 

ডি জা ই না র  ভা ব না

পূজার মূল আনন্দই হলো দল বেঁধে বন্ধুদের সঙ্গে কিংবা সপরিবারে মন্দিরে মন্দিরে ঘুরে বেড়ানো। আর দেবী দর্শনসহ পূজার অনুষ্ঠানগুলো আনন্দঘন করে তোলা। আর এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে স্বাচ্ছন্দ্যময় পোশাক। দুর্গাপূজার এবারের আয়োজনে রয়েছে শাড়ি, থ্রি-পিস, পাঞ্জাবি, ফতুয়া, কুর্তা, টি-শার্টসহ সকল পোশাকে দেবী দুর্গা ও দুর্গার দশ অস্ত্রের ফর্ম, দুর্গাকে নিয়ে বিভিন্ন শ্লোকের মোটিফ নান্দনিকভাবে ব্যবহার করা ডিজাইনের অনুষঙ্গ হিসেবে। আমরা এবার প্রধানত সুতি কাপড় নিয়েই কাজ করেছি। এছাড়া ক্রেতাসাধারণের রুচি ও মূল্যবোধ অনুসারে দৃষ্টিনন্দন এক্সক্লুসিভ এন্ডি, এন্ডি সিল্ক, সিল্ক, জামদানি, মসলিন, রেশমি কটন, ডুপিয়ান কাপড় নিয়ে কাজ করেছি। কাপড়ের বুননে ও রঙে অনেক পরির্বতন আনা হয়েছে।

এই আয়োজনে প্রাধান্য পেয়েছে ব্লক, স্প্রে, টাই-ডাই, স্ক্রিন-প্রিন্ট, অ্যাপলিক, হাতের ভরাট কাজ, লেস, চুমকি ও বিভিন্ন সিকোয়েন্সের কাজ। রং বৈচিত্র্যে লাল, কমলা, সাদা রঙের কম্বিনেশন ব্যবহূত হয়েছে পূজার সম্ভারে।

বিপ্লব সাহা

 

নন্দিত ফ্যাশন ডিজাইনার

ও স্বত্বাধিকারী, বিশ্বরঙ

মডেল         তানিয়া ও সিনথিয়া

পোশাক       বিশ্বরঙ

স্টাইলিং        বিপ্লব সাহা

ছবি            অনিক চন্দ্র