নান্দনিক সিঁড়ি

সিঁড়ি যে শুধু বাড়ির দুটি ভিন্নতলার মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করে, তা নয়। এক চিলতে নান্দনিক সিঁড়ি ঘরের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বাড়ির ইন্টেরিয়র ডিজাইনের সঙ্গে সংযুক্ত করতে সিঁড়িকে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। তবে সিঁড়ির এসব ব্যবহার নির্ভর করে আপনার বাড়ির আকৃতি, আয়তন ও বাদবাকি ইন্টেরিয়রের ওপর। সিঁড়ির সাজ নিয়ে লিখেছেন মোস্তাফিজুর রহমান

বাড়ির এই সিঁড়িকে একটু ভিন্ন আঙ্গিকে সাজাতে ইন্টেরিয়রে কিছুটা পরিবর্তন আনুন। এতে করে আপনার গড়া এত যত্নের সিঁড়িটা আরেকটু প্রাধান্য পাবে। প্রথমেই এর জন্য সিঁড়ির পাশের দেয়ালে একটু পরিবর্তন আনুন। দেয়ালটায় একটু রাফ লুক আনতে পারেন। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন টেরাকোটা। ওয়ালপেপার দিয়েও ঢেকে দিতে পারেন দেয়ালটা। দেয়াল সাজাতে ব্যবহার করতে পারেন বড় কোনো পেইন্টিং। ছোট ছোট ৩-৪টা পেইন্টিং একসঙ্গে ব্যবহার করতে চাইলে এই দেয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে এক্ষেত্রে দেয়ালের লাইটিংটা একটু মনোযোগ দিয়ে সাজাতে হবে। ফারজানা’স ব্লিসের স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার ফারজানা গাজী বলেন, ‘সিঁড়ির আলোকসজ্জাটা ভিন্ন আঙ্গিকে করার উপযোগী অনেক ধরনের লাইট এখন দেশেই পাওয়া যায়। উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ঝুলে থাকবে এমন কিছু লাইটও এখন বিক্রি হচ্ছে লাইটিং শোরুমগুলোতে। সিঁড়ির উপর থেকে স্পটলাইট সাজিয়ে তৈরি করুন আলো-ছায়ার ছায়াপথ। ল্যান্ডিংয়ের নিচে আলোর ব্যবস্থা করতে পারেন একটু বেশি, এখানেই চাইলে রাখতে পারেন গাছের গুঁড়ি বা বড় কোনো মাটির তৈরি ফুলের টব।

সিঁড়ি তৈরির উপকরণেও ভিন্নতা রাখতে পারেন। আপনার রুচি, নান্দনিকতা প্রকাশে এবং বাড়ির ইন্টেরিয়রের একটা ভূমিকা হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এই সিঁড়ি। পুরো ঘরের ইন্টেরিয়রে যদি এথনিক ভাবটা বজায় রাখতে চান, তাহলে সিঁড়িটা কাঠের তৈরি করুন। ঘরের মাঝের সিঁড়িটা একটু হালকা ডিজাইনের হলেই ভালো। এই ধরুন, মোটা একটা থামের গায়ে পেঁচিয়ে পেঁচিয়ে ল্যাকার পলিশ কাঠের একেকটা তাক দিয়ে তৈরি করুন সিঁড়ি, সঙ্গে কাঠের হাতল ব্যবহার করতে পারেন। এমন সিঁড়িতে কিছুটা আধুনিকতার সঙ্গে এথনিক ভাবও বজায় থাকে। যদি ইন্টেরিয়র পুরোপুরি জিওমেট্রিক স্টাইলের হয়, তাহলে সিঁড়িতেও তার একটা ছোঁয়া রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে সিঁড়ি তৈরিতে অ্যালুমিনিয়াম অথবা স্বচ্ছ কাচ ব্যবহার করতে পারেন। সিঁড়ির হাতলে কিছুটা ভিন্নতা আনতে স্টেইনলেস স্টিলের ফ্রেম অথবা রাফ কাঠ ব্যবহার করতে পারেন। অন্দরের সিঁড়িগুলোতে হাতলটা একটু হালকা গড়নে তৈরি করুন। তবে যদি বাড়িতে বাচ্চাকাচ্চা খুব বেশি না থাকে, তাহলে হাতল ছাড়াই ছেড়ে দিন সিঁড়িটাকে। দেখতে মন্দ লাগবে না। যদি পুরো সিঁড়িটা সিমেন্টে তৈরি করতে হয়, তাহলে সিমেন্টের স্ল্যাব দিয়ে তৈরি করুন সিঁড়ির তাকগুলো। খেয়াল রাখুন তাকগুলোর মাঝে যেন ফাঁকা জায়গা থাকে।’

যে বিষয়গুলোয় খেয়াল রাখতে হবে

l সিঁড়িটা এমন জায়গাতে হতে হবে, যে স্থানটার অবস্থান মোটামুটি ঘরের সব জায়গা থেকেই দেখা যায়।

l উপরটা জুড়ে দিতে পারেন ডুপ্লেক্স দোতলায়। সেক্ষেত্রে সিঁড়ির অবস্থানটা ঘরের এক পাশ থেকে তৈরি করুন। আর চেষ্টা করুন সিঁড়ির নিচটা ব্যবহার উপযোগী করে রাখতে।

l যদি সিঁড়ি ছাদের সঙ্গে জুড়তে হয়, তাহলে সিঁড়ির অবস্থান হতে পারে ঘরের ঠিক মাঝখান থেকে। আর এই সিঁড়ির অবস্থান এমন হতে হবে যেন সব ঘর থেকেই সহজে এই সিঁড়ি ব্যবহার করে ছাদে ওঠা যায়।

l অনেক সময় বাড়ির বাইরের বাগান থেকে সিঁড়ি পেঁচিয়ে ঘরের মধ্যে টেনে আনা যায়। তবে সেক্ষেত্রে বাইরের সিঁড়িটা কোনো বড় জানালা, দরজা অথবা কাচের দেয়াল ঘেঁষে হওয়া উচিত, যেন ঘরের ভেতর থেকেও বাইরের সিঁড়িটার অবস্থান টের পাওয়া যায়।