হলিউডের অ্যাকশন থ্রিলার মুভি ‘অ্যাঞ্জেল হ্যাজ ফলেন’ মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি। ছবিটির বক্স অফিস রিপোর্ট বেশ ভালো। ফলেন ফিল্ম সিরিজের এটি তৃতীয় কিস্তি। এর আগে এই ফিল্ম সিরিজের ‘অলম্পাস হ্যাজ ফলেন’ ও ‘লন্ডন হ্যাজ ফলেন’ ছবিদুটি যথাক্রমে ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল। এবারের তৃতীয় কিস্তি ‘অ্যাঞ্জেল হ্যাজ ফলেন’ ছবিতে জিরার্ড বাটলার, মরগ্যান ফ্রিম্যান, জাডা পিঙ্কেট স্মিথ, ল্যান্স রেড্ডিক, ড্যানি হিউস্টন প্রমুখের সঙ্গে একটি অন্যতম চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাইপার পেরাবো। এবারের পর্বে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার একজন অ্যাজেন্ট মাইক ব্যানিংয়ের বিভিন্ন দুঃসাহসী কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ওপর সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় একজন সিক্রেট সার্ভিস অ্যাজেন্ট, কতটা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন, সেটাই দেখানো হয়েছে এ ছবিতে। এখানে মার্কিন সিক্রেট সার্ভিস অ্যাজেন্ট, মাইক ব্যানিংয়ের স্ত্রী লিয়া ব্যানিং চরিত্রটি রূপায়ণ করেছেন পাইপার পেরাবো। ৪২ বছর বয়সী এই হলিউডি অভিনেত্রী ১৯৮৮ সাল থেকে ছোট পর্দা-বড় পর্দা দু জায়গাতেই বিচরণ সমানভাবে বজায় রয়েছেন। ২০০০ সালে প্রথম তিনি সবার নজর কাড়েন ‘কুয়াইট আগলি’ ছবির মাধ্যমে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘লস্ট অ্যান্ড ডেলিরিওয়াস’, ‘চিপার বাই দ্য ডজন’, ‘দ্য প্রেস্টিজ’, ‘বেভারলি হিলস চিহুয়াহুয়া’, ‘লুপার’ প্রভৃতি। ২০১০ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ইউএসএ নেটওয়ার্কে স্পাই ড্রামা সিরিজ ‘কোভার্ট অ্যাফেয়ার্স’-এ অ্যাজেন্ট অ্যানি ওয়াকারের ভূমিকায় অভিনয়ের সুবাদে দর্শকদের কাছে পরিচিতি লাভ করেছেন। এ জন্য গোল্ডেন গ্লোব অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন লাভ করেন পাইপার পেরাবো। তার জন্ম টেক্সাসের ডালাসে। তার মা একজন ফিজিক্যাল থেরাপিস্ট এবং বাবা একজন কলেজ শিক্ষক। তার নাম শুনে কেউ কেউ তাকে পর্তুগিজ বংশোদ্ভূত ভেবে ভুল করেন। নিউ জার্সিতে বড় হয়েছেন পেরাবো। একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী পাইপার লোরির নামানুসারে বাবা-মা তার নাম রেখেছিলেন। তিন ভাইবোনের মধ্যে পাইপার পেরাবো সবার বড়ো। ১৯৯৪ সালে টম রিভার হাইস্কুল নর্থ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেন তিনি। এরপর নাট্যকলার ওপর ব্যাচেলর ডিগ্রি লাভ করেন অনার্স টিউটোরিয়াল কলেজ থেকে। ওটা ওহাইও ইউনিভার্সিটির আওতাধীন একটি বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এছাড়া শিল্পকলা বিষয়ক নানা কোর্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। ল্যাটিন, পদার্থ বিজ্ঞান, কবিতা ইত্যাদি বিষয়ে তাকে অধ্যয়ন করতে হয়েছে ফাইন্যাল ইয়ারে এসে। কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার এক বছর আগেই পেরাবো নজর কেড়েছিলেন। নিউ ইয়র্কে থাকতে অডিশন দিতে গিয়ে পরিচালকদের চোখে পড়ে গিয়েছিলেন পেরাবো। এই সময়ে তাকে ওয়েট্রেসের চাকরিও করতে হয়েছে। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার ক্লাব করার সময়ে বিবিধ চরিত্রে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা হয়েছে তার। প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান কমেডি সিনেমা ‘হোয়াইট বয়েজ’-এ। তার অভিনীত সায়েন্স ফিকশন ফ্যান্টাসি সিনেমা ‘স্পনটেনিওয়াস’-এর কাজ চলছে বর্তমানে। এ বছরেই ছবিটি মুক্তির জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে আশা করা যায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য টিভি সিরিজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘হাউস’, ‘ল অ্যান্ড অর্ডার : ক্রিমিন্যাল ইন্টেন্ট’, ‘কোভার্ট অ্যাফেয়ার্স’, ‘গো অন’, ‘নটোরিয়াস’, ‘টার্ন আপ চার্লি’ প্রভৃতি। হালে ‘অ্যাঞ্জেল হ্যাজ ফলেন’ ছবির বিরাট সাফল্যের সুবাদে পাইপার পেরাবোর ক্যারিয়ারের পালে নতুন করে হাওয়া লেগেছে। আগামীতে তার জন্য আরো ভালো সময় অপেক্ষা করছে বলে মনে মনে আশা করছেন এই সুন্দরী।