ঐতিহ্যবাহী পাটবাড়ী আশ্রমে শ্রী শ্রী হরিদাস ঠাকুরের নির্যান তিথী মহৌৎসব অনুষ্ঠিত

বৈষ্ণবকুল শিরোমনি নামাচার্য্য শ্রী শ্রী হরিদাস ঠাকুরের ভজন কানন পাটবাড়ী আশ্রম। যশোহর জেলার বেনাপোলে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমটি দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল সীমান্তে অবস্থিত। প্রতি বছর এখানে হরিদাস ঠাকুরের নির্যান তিথী মহৌৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এবার আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের শেষ দিন আজ।
 
দেশ-বিদেশ থেকে হাজারো ভক্তের আগমনে মুখরিত হয়ে উঠেছে দুই দিনের জন্য আয়োজিত ধর্মীয় এ অনুষ্ঠানটি।  বুধবার থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠান চলছে বৃহস্পতিবার সারা দিন। দেশের ৬৪টি জেলা এবং বিভাগীয় শহর থেকে কয়েক শত গাড়ির বহরে কয়েক হাজার ভক্তের  সমাবেশ ঘটে এখানে। তাছাড়া  এ সময়  পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতসহ অন্যান্য দেশের ভক্তরাও যোগ দেন এ  অনুষ্ঠানে।
 
কালের আবর্তে হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ী আশ্রমটি আজ হয়ে উঠেছে  একটি দর্শনীয় স্থান। এখানে রয়েছে প্রায় ছয়শ বছরের মাধবীলতা আর সুপ্রাচীন তমাল বৃক্ষ। আর এই  তমাল বৃক্ষের  ছায়াতলে শ্রী শ্রী ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের পাটবাড়ী আশ্রম। দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমে হিন্দু সম্প্রদায়ের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান জাকজমকপুর্ণভাবে পালিত হলেও ব্রহ্ম হরিদাস ঠাকুরের জীবনী, ভাগবত আলোচনা,কীর্ত্তন, নির্যান লীলা আস্বাদন, ভক্তিগীতি ও পদাবলী কীর্ত্তন নিয়ে এখানে পালিত হয় নির্যান তিথী মহৌৎসব। 
 
এবার নির্যান তিথী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সুকুমার দেবনাথ জানান, সনাতন ধর্মের অন্যতম তীর্থ স্থান পাটবাড়ি আশ্রম  নামে খ্যাত পূণ্যভূমি। ভক্ত এবং সাধু সন্যাসীদের শুভ আগমনে মুখরিত হয় এ আশ্রম। ১১ ও ১২  সেপ্টম্বর  অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেই অনুষ্ঠান ।  তবে এবার ভক্তের সংখ্যাও বৃদ্ধি  পেয়েছে।
 
পাটবাড়ী আশ্রমের সাধারণ সম্পাদক শ্রী ফনি ভূষণ পাল জানান  ঐতিহ্যবাহী এ আশ্রমটি আজ দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের সকল ধর্মীয় অনুষ্ঠান এখানে স্বাধীনভাবে পালন করা হয়। 
 
আরও পড়ুন: খুলনার বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা
 
আশ্রমের সভাপতি  তাপস কর্মকার জানান এ আশ্রমে দেশ-বিদেশ থেকে যে সমস্ত ভক্ত বা দর্শনার্থীরা আসেন তাদের এখানে থাকা খাওয়ার সুব্যবস্থা করা হয় আশ্রমের পক্ষ থেকে। তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনিক ব্যবস্থাও করা হয়েছে। পাটবাড়ী আশ্রমে আসা দর্শনার্থী ও ভক্তদের মাঝে এ অনুষ্ঠানে বয়ে যায় আনন্দের বন্যা। হিন্দু-মুসলমান কোন ভেদাভেদ থাকে না এখানে। ধর্ম ভিন্ন হলেও স্থানীয় মুসলমানদের যেন দায়ভার বেশি। তাই সকলের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানগুলি হয় মুখরিত।
 
ইত্তেফাক/নূহু