হঠাত্ করেই অস্থির হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। বাজেট প্রস্তাবে জ্বালানির ওপর কর বৃদ্ধির সুপারিশ করায় রাজপথে প্রতিবাদ মিছিলে নেমেছিল বিক্ষুব্ধ জনতা। তরুণ সমাজের ওই বিক্ষোভ পরিচিতি পায় ‘হলদে জামার আন্দোলন’ হিসেবে। যা শক্ত হাতে দমন করতে না পেরে বাজেটে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব গুটিয়ে নেয় সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় এবার শুরু হয়েছে সরকার বিরোধী আন্দোলন। যদিও তা দমনে গোটা ফ্রান্সে প্রায় নব্বই হাজার নিরাপত্তা কর্মী মোতায়েন করেছেন ইমানুয়েল ম্যাঁক্রর সরকার। তরুণ এই প্রেসিডেন্ট পড়েছেন তার শাসনামলে সবচেয়ে বড় সংকটে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সংক্ষুব্ধ পরিস্থিতি সুচারুরূপে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে ম্যাঁক্র সরকারের টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
জ্বালানি খাতে কর বৃদ্ধির প্রস্তাব আসলে পুরোপুরি প্রত্যাহার করেনি ফরাসি সরকার। মূলত তা নির্দিষ্ট মেয়াদে স্থগিত করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার করা হয়, বিক্ষোভের মুখে ‘ইউটার্ন’ নিয়েছে সরকার। সব মিলিয়ে যেন প্রাণ পায় অন্যান্য দাবিতে মনোযোগ আকর্ষণকারী বা চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলো। আন্দোলন যে আবারো দানা বাঁধতে পারে, সে বিষয়টিও জানা আছে সরকারের। তাই কর প্রস্তাব স্থগিত ঘোষণার পাশাপাশি আন্দোলনে যারা রাস্তায় বেরুতে চায়, তাদের আগাম শাসিয়ে রাখে প্রশাসন। অন্যদিকে, সরকার বিরোধী আন্দোলনে শনিবার মাঠে নামার ঘোষণা দেয়া হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এর পরপরই নিরাপত্তার ছক কষে ফেলে সরকার। কারণ বিক্ষোভের হুমকিকে আর ছোট করে দেখছে না সরকার। শুরুতে সারাদেশে ৬৫ হাজার নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগের কথা বলা হলেও পরে তা বাড়িয়ে প্রায় ৯০ হাজার করা হয়। শনিবার কেবল রাজধানী প্যারিসেই মোতায়েন করা হয় প্রায় ৮ হাজার পুলিশ এবং ১২টি সাঁজোয়া যান। ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে দোকান-পাট, এমনকি আইফেল টাওয়ার, লুভার ও মুজে দোরসেসহ জনপ্রিয় সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়।
‘হলদে জামার আন্দোলন’ শুরু হয়েছিল তিন সপ্তাহ আগে। তবে সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, এই আন্দোলন ছিনিয়ে নিয়েছে অতিসহিংসপ্রবণ বিক্ষুব্ধরা। আন্দোলনকালে গ্রেফতার করা হয় কয়েকশ’ বিক্ষোভকারীকে। সহিংসতায় আহত হয় অসংখ্য। প্যারিসে এই বিক্ষোভকে দেখা হচ্ছে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতা হিসেবে। ‘হলদে জামার আন্দোলনকারীরা নিজেদের তথাকথিত নাগরিক আন্দোলন ‘জিলেস জুন্সের’