ব্রেক্সিট সংকটের এক্সিট মিলবে কি?

প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তাঁর

সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে এমপিদের সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যদিও অনেক এমপি

চাইছেন বেক্সিট চুক্তিতে

কিছুটা পরিবর্তন আনা হোক

 

তালেব রানা

 

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া যেটা ‘ব্রেক্সিট’ নামে পরিচিতি পেয়েছে তা নিয়ে ব্রিটেনের রাজনীতিতে ঝড় বইতে শুরু করেছে। চলতি সপ্তাহে এই ব্রেক্সিট সংকটের ‘এক্সিট’ মিলবে! ব্রিটেনের রাজনীতির আকাশে যে কালো মেঘ জমতে শুরু করেছে তা কেটে যাবে নাকি আরও ঘনীভূত হবে সেটাও নির্ধারিত হবে চলতি সপ্তাহে। প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র ভাগ্যও নির্দিষ্ট হবে।

১৮ মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনার পর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রেক্সিটের জন্য ইইউ’র সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন। থেরেসা মে’র দাবি এই চুক্তি সবচেয়ে ভালো এবং এর কোনো বিকল্প নেই। যদিও এই চুক্তির বিরোধিতা করে ইতোমধ্যেই মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী। এমনকি প্রধানমন্ত্রী মে’র বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের চেষ্টা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে তার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তিতে এমপিদের সমর্থন আদায়ের জোর চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। যদিও অনেক এমপি চাইছেন বেক্সিট চুক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আনা হোক। ২০১৬ সালে এক গণভোটের মাধ্যমে ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্য। সময়সূচি অনুযায়ী ২০১৯ সালের ২৯ মার্চ যুক্তরাজ্য আনুষ্ঠানিক ইইউ থেকে বের হয়ে যাবে।

গত ২৫ নভেম্বর ইইউ নেতারা প্রধানমন্ত্রী মে’র সঙ্গে সমঝোতা অনুযায়ী ব্রেক্সিট চুক্তি অনুমোদন করেন। ব্রাসেলস সম্মেলনে চুক্তিটি পাস করতে ইইউ নেতারা এক ঘণ্টারও কম সময় নেন। ইইউ নেতারা দুটি প্রধান ব্রেক্সিট ডকুমেন্টের অনুমোদন দিয়েছেন। এর একটি হলো ইইউ অপসারণ চুক্তি। ৫৮৫ পৃষ্ঠার এই নথিতে ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে যাওয়ার শর্তগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯০০ কোটি পাউন্ডের ডিভোর্স বিল, নাগরিক অধিকার এবং বাণিজ্য সংলাপ বন্ধ হলে আইরিশ সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার জন্য গৃহীত উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘ব্যাকস্টপ’ বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অনুমোদিত দ্বিতীয় নথিটি হলো রাজনৈতিক ঘোষণা সংক্রান্ত। এই নথিতে ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে যুক্তরাজ্য ও ইইউ এর মধ্যে সম্পর্ক কেমন থাকবে সে বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। বাণিজ্য ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এ নথির আওতায় রয়েছে।

ইইউ’র অনুমোদনের পর এই চুক্তি নিয়ে আগামী মঙ্গলবার ব্রিটেনের পার্লামেন্টে ভোটাভুটি হবে। সেখানে অনুমোদিত হলে এ চুক্তি নিয়ে চূড়ান্ত ব্রেক্সিটের পথে এগোবে দুই পক্ষ। যদিও ব্রিটেনের লেবার পার্টি, লিব ডিমস, এসএনপি, ডিইউপি এমনকি প্রধানমন্ত্রীর থেরেসা মে’র কনজারভেটিভ পার্টিরও অনেক নেতা এই চুক্তির বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের মতে, এই চুক্তিতে ব্রিটেনের স্বার্থ রক্ষিত হয়নি। ফলে চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বিরোধী দল লেবার পার্টি

 

 

বলেছে, ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে বাতিল হলে থেরেসা মে’র বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হবে।

এমন সংকটের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে গত বৃহস্পতিবার সতর্ক করে বলেছেন, খসড়া চুক্তি সংসদ সদস্যরা মেনে না নিলে ‘নো ডিল ব্রেক্সিটকেই’ ডেকে আনা হবে। আর যদি ‘নো ডিল ব্রেক্সিটও’ না চান, তাহলে তারা কার্যত ব্রেক্সিট বাতিলের দিকেই ঠেলে দেবেন যুক্তরাজ্যকে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, গণভোটের মাধ্যমে ব্রেক্সিটের যে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাকে সম্মান করা উচিত। তার মতে, এখন তিনটি পথ আছে:ইইউ থেকে কোনও চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে যাওয়া, সংসদে চুক্তি পাস করিয়ে ব্রেক্সিট কার্যকর করা অথবা ব্রেক্সিটের পরিকল্পনাই বাদ দেওয়া। মঙ্গলবারের ভোটাভুটিতে যদি প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র চুক্তি পাস না হয় তবে কী হবে? এমপিরা চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে বেশকিছু বিষয় ঘটতে পারে। আবারও গণভোট হতে পারে। পদত্যাগ করতে হতে পারে থেরেসা মে’কে। আগাম নির্বাচনও হতে পারে ব্রিটেনে।

ভোটাভুটি নিয়ে শনিবার ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার সিনিয়র সদস্য আম্বার রাড বলেছেন, মে’র প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি এমপিদের অনুমোদন না পেলে যে কোনও কিছু ঘটতে পারে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয়     গণভোট বা তথাকথিত নরওয়ে প্লাসের মতো     বিকল্প বিবেচনা করা হতে পারে। নরওয়ে ইইউ  সদস্য নয়, কিন্তু ইউরোপিয়ান অর্থনৈতিক অঞ্চলের অংশ। যদিও থেরেসা মে’র মতে, নরওয়ে প্লাস ব্রিটেনের জন্য কার্যকর হতে পারে  না।

এখন পর্যন্ত থেরেসা মে’র হাতে কোনো ‘প্লান বি’ নেই। যে কারণে ভোটে হারলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। এমনকি ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচনও হতে পারে। তবে অল্প ভোটের ব্যবধানে হারলে হয়তো প্রধানমন্ত্রী আবারও ব্রাসেলসে যাবেন চুক্তিতে কিছুটা পরিবর্তন আনার জন্য পুনরায় আলোচনা করতে। আর যদি প্রধানমন্ত্রী রাজি না হন সেক্ষেত্রে পুরো চুক্তিই ঝুঁকিতে পড়বে।