সাভারে গৃহবধূকে পিটিয়ে ও বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ

সাভারে পোশাক কারখানা ছুটির পর বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ায় এক নারী শ্রমিককে পিটিয়ে ও বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। নিহত ওই নারীর নাম কঙ্কন রানী দাস (২৬)।

কঙ্কন সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার কাদিরপুর গ্রামের কালিপদ দাসের মেয়ে। তার স্বামী হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার পাহারপুর গ্রামের সুকান্ত দাস শৈলান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুকান্ত দাস শৈলান পলাতক। খবর পেয়ে সাভার মডেল থানা পুলিশ শুক্রবার বিকেলে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ওই নারী শ্রমিকের মরদেহটি উদ্ধার করেছে। 

পুলিশ জানিয়েছে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনী মহল্লার একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। তারা দুজনেই স্থানীয় পাকিজা ডাইং এন্ড প্রিন্টিং কারখানায় চাকরি করতেন।

পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর রাতে কারখানা ছুটির পর দেরিতে বাসায় ফিরেন কঙ্কন রানী দাস। এ সময় তার স্বামীর সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে পাষণ্ড স্বামী সুকান্ত দাস শৈলান তাকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে সে তার স্ত্রীর মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে কঙ্কন রানী দাসকে উদ্ধার করে স্থানীয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৫দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার বিকেলে পোশাক শ্রমিক কঙ্কন রানীর মৃত্যু হয়।

নিহতের পিতা কালিপদ দাস অভিযোগ করে বলেন, 'একটু দেরিতে বাসায় ফেরায় স্বামী সুকান্ত দাস শৈলান তাকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে আহত করে এবং মুখে বিষ দিয়ে হত্যা করে। পরে প্রতিবেশীরা খবর পেয়ে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আমি এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।'

আরও পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৭ জন আহত

সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক বলেন, 'নিহত নারীর মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক স্বামী সুকান্ত দাস শৈলানকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।'

ইত্তেফাক/নূহু