বাং লাদেশে ব্যবসার খরচ বেড়ে যাচ্ছে। এটি কমানো উচিত। না হলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে পণ্য রপ্তানি করে টিকে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়বে। একইসঙ্গে এখানকার উচ্চ সুদহার উদ্যোক্তাদের ক্রমেই নতুন বিনিয়োগে নিরুত্সাহিত করছে। বিশ্বের কোথাও এত বেশি হারে ব্যাংক ঋণের সুদ নেই। কথাগুলো একজন উদ্যোক্তার। যিনি দেশের জন্য কিছু করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় নিয়ে ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। বিনিয়োগ করেন ফুড প্রসেসিং বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে। মানুষের জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় কৃষি-খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াকরণ করে রপ্তানির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার মজুত করতেও ভূমিকা রাখছেন তিনি। তার নাম মোহাম্মদ ইসহাকুল হোসেন সুইট। তিনি ইউনিফ্রেশ ফুড অ্যান্ড এগ্রো লিমিটেড, প্রিমিয়ার ট্রেডিংয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। ২০০৪ সালে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। জড়িত আছেন বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গেও। বাংলাদেশ রাইস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ চায়না চেম্বারেরও সহসভাপতি।
একজন উদ্যোক্তার সমস্যাদি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের তুলনায় কর্মসংস্থানের সুযোগ কম। সে কারণে উদ্যোক্তা বিকাশের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নীতিসহায়তাসহ কিছু সমস্যার কারণে সম্ভাবনা থাকার পরও অনেকেই বিনিয়োগ করছেন না। ইসহাকুল হোসেন সুইট বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি মোটেই সহজলভ্য নয়। এখানে উচ্চ সুদ তো রয়েছেই। তার ওপর দণ্ড সুদও আরোপ করা হয়। জ্বালানিসংকট তো রয়েছেই। কৃষি প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকে থ্রাস্ট সেক্টর ঘোষণার পরও সিঙ্গেল ডিজিটে ঋণপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা হয়নি। অথচ রপ্তানিতে যে সম্ভাবনা রয়েছে তা কাজে লাগাতে হলে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ‘ফাইটোস্যানিটারি সার্টিফিকেট গ্রহণ করতে আগে লাগত ৫ পয়সা, এখন প্রতিটনে আড়াই হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এখানে ১৮টি প্রতিষ্ঠান আমাদের মনিটর করে। অথচ এগুলো এক পয়েন্টে বা ওয়ানস্টপ করতে পারলে উদ্যোক্তাদের হয়রানি কম হতো।’
এফবিসিসিআই সদস্য, তোহফা এন্টারপ্রাইজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসহাকুল হোসেন বলেন, বিশ্ব জুড়ে অর্গানিক এবং হালাল ফুডের চাহিদা বাড়ছে। এই বিশাল বাজার ধরতে হলে পরিকল্পনামাফিক আগাতে হবে। সেজন্য দরকার নীতিসহায়তা। দরকার ইকোনমিক জোনগুলোতে জমি বরাদ্দ দেওয়া। সরকারের ভ্যাট আদায়কারী প্রতিষ্ঠানকেও সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট আদায় সন্তোষজনক না হলে প্রতিষ্ঠানে ‘হলুদ’ ও ‘লাল’ স্টিকার দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা। কিন্তু ভ্যাট কর্মকর্তারা সরাসরি চালান দেখতে চান। কম্পিউটার জব্দ করে নিয়ে যান। এগুলো একজন উদ্যোক্তার জন্য মনঃপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে চাই। সেটি সহনীয় এবং নিয়ম মাফিক হতে হবে।’ নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জ নিতে হবে। সমস্যাদি থাকবে। সেগুলো মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।’
—জসিম উদ্দিন