ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে দিনেদুপুরে পিডিপি নেতার দেহরক্ষীকে মেরে তার রাইফেল ছিনিয়ে পালিয়েছে সন্দেহভাজন এক জঙ্গি। রাজ্যের কিশতাওয়ারে শুক্রবার এই ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংবাদসংস্থা পিটিআই। এ ঘটনায় কিশতাওয়ার জুড়ে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় সরকার। চালানো হচ্ছে সাঁড়াশি অভিযান।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা যায়, রাইফেলটি জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির জেলা প্রসিডেন্ট শেখ নাসিরের ব্যক্তিগত একজন দেহরক্ষীর। কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন অধিগ্রহণ ইস্যুতে ক্ষমতাসীন বিজেপিকে সমর্থন করে দলটি। শুক্রবার এ ঘটনার পরপরই পুরো জেলায় কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় সরকার। শহরজুড়ে বাড়ি বাড়ি আর দোকানপাটে তল্লাশি চালাচ্ছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে ৫ আগস্ট ভারতীয় সরকার কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন সংক্রান্ত আর্টিক্যাল ৩৭০ সংবিধান থেকে বাতিল করার ৪০ তম দিন গতকাল। প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিদ্রোহীদের ছোটখাট সংঘাত লেগেই আছে। প্রতি শুক্রবারই কাশ্মীরে গুরুত্ত্বপূর্ণ স্থানসমূহে কারফিউ জারি করছে সরকার।
কারণ, শুক্রবার জুমা'র নামাজকে কেন্দ্র করে মুসলমানদের বড়সড় জমায়েত ঘটে মসজিদগুলোতে। জমায়েতগুলো যেন কোনরকম মিছিল-আন্দোলন না করতে পারে সেজন্য সবসময় তটস্থ রাখা হয় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে। স্কুল-কলেজগুলো বেশিরভাগ সময়ই বন্ধ থাকছে। ল্যান্ডলাইন সচল থাকলেও কাশ্মীরের কুপওয়ারা এবং হান্দওয়ারা ছাড়া অন্য অংশগুলোতে মোবাইল সার্ভিস ও ইন্টারনেট সার্ভিস সীমিত রাখা হয়েছে। কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসনকামী সব শীর্ষ নেতাদের গৃহবন্দী রেখেছে ভারত সরকার।
এছাড়াও লাইন অব কন্ট্রোল (এলওসি) দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাকিস্তান থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গি ইতোমধ্যে কাশ্মীরে ঢুকে পড়েছে বলে আশংকা প্রকাশ করেছে দেশটির শীর্ষ গোয়েন্দাসংস্থা। ঢুকেই তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে সংস্থার পক্ষ থেকে।
ইত্তেফাক/মিশু/এসআর