ফাইজা আরুশা
আজকে বিয়েটা হয়ে গেল শেষমেশ। পুরো ব্যাপারটায় আমি বেশ নার্ভাস ছিলাম। জীবনে কোনো মেয়ের দিকে চোখ তুলে পর্যন্ত তাকাইনি বললে চলে। এই মেয়েটা, মানে একটু আগে যে আমার বউ হয়ে গেল, তার সঙ্গে পরিচয় বলতে ওই ফেসবুকের কয়েকটা পোস্টে। মেয়েটাকে এক দেখায় আমার তো আক্কেলগুড়ুম। অন্য কাউকে আর ভালোই লাগে না। বউ আমার বেশ সুন্দরী, চোখ ফেরানো যেন পাপ। আমিও আজকের যুগে পাত্র হিসেবে একদম পছন্দসই। মানে আপনাদের ভদ্র ভাষায় যেটাকে এটিএম বুথ বলে, সেরকম।
তারপর আর কী, একদম বিয়ে। বিয়ের আগে বউ আমার বলেছিল, অবশ্য তার কিছু সমস্যা আছে। আমি তেমন পাত্তা দিইনি। মেয়েমানুষ মাত্রই সমস্যা। সমস্যা জিনিসটা তাদের জন্য অনেকটা ধর্মের মতো। পালন করা ফরজ। না থাকলেও তৈরি করা আরো ফরজ। তাছাড়া হুমায়ূন স্যার বলেছেন, ‘সুন্দরী মেয়েদের সব দোষ মাফ করে দিতে হয়। এদের ওপর রাগ করা যাবে না।’ এটাই নাকি নিয়ম! একটু আধটু সমস্যা থাকবেই। ও তেমন কিছু না। আমার শাশুড়ি অবশ্য বলেছিল, ‘বাবা, আমার মেয়েটার একটু সমস্যা আছে, বড্ড বেশি মুড সুইং হয়, একটু দেখে রেখ।’
এ আবার এমন কী! এটা কোনো সমস্যা নাকি ধ্যাত্! এটা তো ওদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। মুড সুইং ব্যাপারটা কিন্তু কিউট।
কিন্তু সমস্যা তো অন্যখানে। বিয়ে হয়ে গেছে। কাজী সাহেবও বিদায় নিল একটু আগে। এইদিকে দ্বিতীয় দফার খাওয়াও শেষ প্রায়। একটু পরেই বিদায় নেব।
কিন্তু বউ তো আমার হাসে না!
মুখে তো কিছু বলেও না।
জিজ্ঞাসা করার সাহসও নেই। পাছে রাগে কি না কে জানে! আচ্ছা প্রেমঘটিত ব্যাপার নয় তো?
আরে! কখনো জিজ্ঞেসই তো করিনি। থাকলেই কী! সে তো আমার বউ এখন।
আর হুমায়ূন স্যার তো বলেছেনই, ‘সুন্দরী মেয়েদের সব দোষ মাফ করে দিতে হয়। এদের ওপর রাগ করা যাবে না।’
কিন্তু মনের খচখচানি কিভাবে বন্ধ করি। অতঃপর তার এক বান্ধবীর দ্বারস্থ হলাম। তাকে সব খুলে বুঝিয়ে বললাম, ‘দেখ তো কী ব্যাপার?’
‘কীরে, মন খারাপ কেন? কোনো সমস্যা হচ্ছে?’
‘না তেমন কিছু না।’
‘কারো কথা মনে পড়ছে? আঙ্কেলকে বলব?
‘নারে।’
‘ছেলে পছন্দ হয়নি?’
‘আরে না ধ্যাত্! সেটা না।’
‘তো, মুখ কালো কেন?’
‘না, একটু আগে কবুল বলার সময়, ক্যামেরাম্যান যখন ছবি তুলছিল...’
‘হুমম তো?’
‘আমি চোখের পানি মুছে ফেইক ক্যান্ডিড কিছু পোজ দিলাম, মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম, রাতে বাসায় ঢুকেই ‘got married’ লিখে এটা পোস্ট করব।’
‘হুমম দিবি, তাতে সমস্যা কী?’
‘আরে একটু আগে বেটা স্যাম্পল পাঠায় দিল, সবগুলা ঝাপসা আসছে, বাকিগুলোতে আমি কাতল মাছের মতো কাজল ল্যাপটায় কাঁদতেছি।’
‘কী আর করার বাদ দে।’
‘বাদ দিব, মানে কী? আমার এত্ত ফলোয়ারকে আমি কী জবাব দিব? ফাইজলামি নাকি! আবার কাজি ডাকতে বল, এ বিয়ে আমি মানি না।’
সব শুনে তো আমার মাথায় হাত! মুড সুইং শুধু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য না, এ এক চরম ব্যাধিও বটে। কিন্তু আমার তো কিছুই করার নেই, কারণ হুমায়ূন স্যার বলেছেন, ‘সুন্দরী মেয়েদের সব দোষ মাফ করে দিতে হয়। এদের ওপর রাগ করা যাবে না।’