‘গেল দশ বছরে দেশে অবকাঠামো, বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু উন্নয়নের সুফল সমহারে বণ্টিত হয়নি, বৈষম্য বেড়েছে। শিক্ষিতদের মাঝে বেকারত্ব বেড়েছে।’ এজন্য আসন্ন নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে অর্থনীতি নিয়ে সুস্পষ্ট ঘোষণা আশা করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বাধীন পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষ্যে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। পর্যালোচনা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় বলেন, গত ১০ বছরে দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। অর্থনীতির আকার বেড়েছে, বিনিয়োগ বেড়েছে। জ্বালানি খাতে বড় বিনিয়োগের ফলে আমূল পরিবর্তন এসেছে। এক কথায় দেশের অর্থনীতির ইতিবাচক উন্নতি হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থনীতির এই উন্নতি নিষ্কলুষভাবে যে হয়েছে তা কিন্তু নয়। অর্থনীতির এই উন্নয়নের ক্ষেত্রে গুণগত অবনমন হয়েছে। বিভাজিতভাবে বৈষম্যের ধারা দ্রুততম হয়েছে। বৈষম্য শুধু ধনী দরিদ্র্যের ব্যবধান বেড়েছে এমনটি নয়। বৈষম্য শহর ও গ্রামের মধ্যে যেমন, তেমনি নারী ও পুরুষের মধ্যে, বয়স্ক ও তরুণের মধ্যে, সংখ্যালঘুর মধ্যেও বেড়েছে, সামাজিক বৈষম্য বেড়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের নতুন উদ্যোগ ও উদ্যোম গ্রহণের ক্ষেত্রেও ঘাটতি দেখা গেছে। আমরা উদ্যোক্তা শ্রেণি দেখিনা, কারণ তাদের ভেতরে গণতান্ত্রিক আচরণে ঘাটতি রয়েছে। দেশের ভেতরে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা কমে গেছে এর মূল কারণ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া। প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখে বৈষম্য কমাতে হবে।
তিনি বলেন, নির্বাচন আসন্ন, অথচ এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো আলোচনা শুরু হয়নি। এটা উদ্বেগের বিষয়। নির্বাচন কী ভাবে হবে সেটি নিয়ে সবাই কথা বলছে অথচ জীবন-জীবিকার কী হবে সেই আলোচনা নেই।
আরও পড়ুন: উইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডেতেও দাপুটে জয়ে শুরু বাংলাদেশের
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির বিষয়গুলো আনতে হবে। সেইসঙ্গে কী ভাবে বিভিন্ন সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন হবে তার নির্দেশনা থাকতে হবে। শিক্ষিতদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে। সেইসঙ্গে শ্রমঘন শিল্পায়ন লাগবে। কেবল তা রফতানির জন্য নয়। স্থানীয় বাজারের জন্য শিল্পায়ন প্রয়োজন। কৃষিপণ্যের প্রণোদনা দিতে হবে। কৃষিতে আধুনিকায়নের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে হবে। মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিতের মাধ্যমে শিক্ষিত মানুষের কর্মসংস্থান ঘটাতে হবে। স্বাস্থ্যখাতে বৈষম্য কমাতে হবে। কারণ স্বাস্থ্য খাতে ৭০ ভাগ ব্যয় নিজেদের করতে হচ্ছে। এই খাতে অবনতি হয়েছে। কী দামে অবকাঠামো সুযোগ ও জ্বালানি ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। কর আহরণ বাড়াতে হবে। কেবল আয়করের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সম্পদের ওপর কর আরোপ শুরু করতে হবে। মেগা প্রকল্পগুলো চলমান রেখে পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
ইত্তেফাক/এমআই