১৯৭৬ সালে ‘এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিউট’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয় উত্তরবঙ্গের একমাত্র কৃষি সম্পর্কিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর কৃষি কলেজে উন্নীত হয়ে ১৯৯৯ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ঘোষিত হয় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রাক্তন ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও অগ্রগতি এবং তাদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন— মো. সোয়াদুজ্জামান সোয়াদ
কাবিদ আহমেদ মানিক
২য় ব্যাচ, হাবিপ্রবি, দিনাজপুর
কৃষি বিষয়ে ১২৫ জন শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্যদিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়, যেখানে বর্তমানে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে গুণগত শিক্ষা ও গবেষণার মাধ্যমে এগিয়ে চলছে। সময়ের পরিক্রমায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯টি ব্যাচ ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ৯টি অনুষদের অধীন ২৩টি স্নাতক ডিগ্রি এবং পোস্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের অধীন ৩২টি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে। এ সাফল্য আমাদের ক্যাম্পাসের; সব হাবিপ্রবিয়ানদের। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি সামনের দিনগুলোয় এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে এবং শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে হাবিপ্রবি।
০০০
সাবিরা মাফরুজ
কৃষি অনুষদ, লেভেল-৪ সেমিস্টার-১
ক্যাম্পাসটা খুব বড়ো না হলেও শিক্ষার্থীদের স্বপ্নগুলো ঠিকই আকাশ ছোঁয়া। সেগুলোকে ধরার আপ্রাণ চেষ্টায় অনেকেই সফল হচ্ছেন প্রতিনিয়ত। খেলার মাঠ থেকে গবেষণার ক্ষেত্রে, দেশ থেকে বিদেশে আধিপত্য বিস্তার করছে শিক্ষার্থীরা। ভার্সিটি এগিয়ে চলছে সফলতার সোপান বেয়ে। সিটনির্ভর পড়াশোনার গণ্ডি এড়িয়ে আসতে পারলে তা হবে আরো দূরন্ত। তবে এত সফলতার মধ্যেও অপ্রাপ্তি যেন লেগেই আছে। আবাসন সমস্যা সবার শীর্ষে। আছে সেশনজট, নেই কোনো ভাষ্কর্য, হলগুলোও রিডিং রুম বিহীন। চিকিত্সা সেবাসহ গবেষণার ক্ষেত্রগুলো আরো বেশি প্রসারিত হোক, মাদকমুক্ত সুন্দর ক্যাম্পাস গড়ে উঠুক।
০০০
মো. মাসুদ রানা
এমএস ইন ফিজিওলজি
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পার হওয়ার পরও হাবিপ্রবির ঝুলিতে খুব বেশি অর্জন না হলেও যা হয়েছে তা মোটেই কম নয়। এখানে গবেষণা করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অ্যাডভান্সড এনিম্যাল রিচার্স ফার্ম। এই ফার্মে গবেষণার জন্য রয়েছে উঠ পাখি, খরগোশ, বন মোরগ, টার্কি, ময়ূর, আঁচিল মুরগী। এসব প্রাণীর জেনেটিক্সসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করা হয় এখানে। ‘হাজী’ ও ‘দানেশ’ নামে দুটো উন্নতজাতের কুমড়ার আবিষ্কারক এ বিশ্ববিদ্যালয়েরই গবেষক। ‘টু স্টেজ গ্রাইন ড্রায়ার’ নামক শস্য শুকানোর যন্ত্রের আবিষ্কারও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক্সট্রা কো-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন সংগঠন, হাবিপ্রবি, এত কিছু প্রাপ্তির মধ্যেও মনে হচ্ছে কি যেন অনুপস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ গঠিত হয়নি। নেই কোন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। শিক্ষার্থীদের ক্লাসরুম, ল্যাব সংকট, শিক্ষকের ঘাটতি, আবাসন, পরিবহন ও লাইব্রেরির আসন সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা বিদ্যমান।
০০০
রাজীব আহমেদ
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, লেভেল-৪ সেমিস্টার-১
প্রায় ২০০ বিদেশি শিক্ষার্থীর এ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা-গবেষণা, সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত তত্পরতায় সারা দেশে এক উজ্জ্বলতর অবস্থান ধরে রয়েছে। তবে শ্রেণিকক্ষ সংকট, শিক্ষক সংকট এবং ফলিত শাখাগুলোর জন্য ল্যাবরেটরি সংকট এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। একটা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি চর্চার অন্যতম তীর্থভূমি। কিন্তু হাবিপ্রবি সংস্কৃতি চর্চায় একটু পিছিয়ে আছে বলেই মনে করি। এর কারণ, প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যকলা, বাংলা কিংবা লোকসাহিত্য সম্পৃক্ত তেমন কোনো বিষয় (ইংরেজি ও সমাজবিজ্ঞান ব্যতীত) খোলা হয়নি। দ্বিতীয়ত, সংস্কৃতিচর্চার উপকরণ যেমন, মুক্তমঞ্চ, নির্ধারিত ভবন/কক্ষ নেই। অন্যদিকে আটটি আবাসিক হল থাকলেও শিক্ষার্থীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে সেটা অপ্রতুল। অদূর ভবিষ্যতে ১৩০ একর আয়তনের এ ক্যাম্পাস সুপরিকল্পিতভাবে আরো বেশি নান্দনিক ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস হিসেবে পরিণত হবে বলে আমরা আশাবাদী।