মহিলা অঙ্গন প্রতিবেদক
স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করতে গিয়ে একটা বিষয় মাথায় রাখতে হয়, তা হলো কাস্টমার ম্যানেজমেন্ট যে কোনো ব্যবসার জন্য খুবই গুরুত্ব বহন করে। অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ও ব্যবসার মূলধন হিসেবে কাজ করে। তারা শুরুও করেছিলেন অল্প থেকেই। উদ্যোক্তা নারীদের বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা নিয়ে তারা গল্প করেছেন ইত্তেফাকের কাছে।
নাজিয়া হক
কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করার পর একটা প্রাইভেট সফটওয়্যার ফার্মে যোগ দিই। কিছুদিনের মধ্যে অনুভব করি, এইটা আমার জন্য নয়। সেই সময়টায় দেশে ই-কমার্স/এফ-কমার্সের উত্থান শুরু হয়। ২০১৭-এর এপ্রিলের দিকে অনেকটা হঠাত্ করেই ফেসবুকে নিজের বিজনেস পেজ খুলে ফেলি। ইন্ডিয়া, পাকিস্তান আর তাইওয়ানে পরিচিত মানুষ থাকার সুবাদে সেসব দেশের পণ্য সংগ্রহ করে অনলাইনে ব্যবসা করার ধারণা এবং সাহস পাই। প্রথমে একটু সমস্যা হলেও ধীরে ধীরে অনেক পাইকারি বিক্রেতার সঙ্গে কাজে অগ্রগতি হয়। বর্তমানে বেশ কিছু উত্পাদকের সঙ্গে সরাসরি কাজ করছি। ‘নাজ’স ম্যানেকুইন‘ নামক পেজে আমার লক্ষাধিক ক্রেতা ও শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছেন। যদিও গ্রাহকের কাছ থেকে অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে হাতে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত ঝক্কি খুব কম নয়, তবুও সমস্ত কাজ এখন পর্যন্ত আমি একাই সামলে নিচ্ছি। যেহেতু এখন ধীরে ধীরে বিক্রি বাড়ছে এবং কাজের চাপও বাড়ছে, তাই খুব শিগিগরই দু-তিন জনকে আমার দলে নেব বলে ভেবেছি।
ফারজানা ইসলাম সোনিয়া
ছোটোবেলা থেকে ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হব। পুতুল কেটে অপারেশন করতাম। সুযোগ না পাওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হয়ে গেলাম। ভালোই চলছিল পড়ালেখা। ফাস্ট সেমিস্টারের সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেলাম। হঠাত্ আমার বিয়ে হয়ে গেল ২০১১-এ। বিয়ের পর পড়ালেখা চালু, ২০১৩-তে আমার কোল আলো করে এলো আমার মেয়ে শৌখিন। এক বছর গ্যাপ দিয়ে পরিবারের সকলের সহযোগিতায় আবার পড়ালেখা শুরু করলাম। খুব হতাশ লাগত, নিজের একটা পরিচয় চাইতাম। ২০১৪-তে একটা পেজ খুললাম ‘শৌখিন শাড়িজ’ নামে। কিন্তু কাপড় কই থেকে আনব? কার থেকে আনব? কীভাবে আনব? কিছুই বুঝতেসিলাম না। সাহায্য করার মতোও কেউ নাই। নিজে নিজে রাত-দিন খুঁজে খুঁজে আল্লাহর রহমতে সবকিছু পেয়ে গেলাম আস্তে আস্তে। প্রথম দিকে তেমন কেউ সাপোর্ট করেনি, কাপড় বিক্রি করব এটা কেউ মানতে পারছিল না। মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে প্রি-অর্ডার নিলাম। বাধা এসেছে কিন্তু আমি হার মানিনি।
নাবিলা রহমান
অনার্সের ছাত্রী থাকা অবস্থায় ২০১৪-এর জানুয়ারিতে যোগ দিই পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে পার্ট টাইম রাইটার হিসেবে। পড়াশোনা, গ্র্যাজুয়েশনের পর চাকরি প্রস্তুতির পাশাপাশি বাসায় থেকে নিজের উপার্জনের একটা সাপোর্ট হিসেবে কী করা যায় তাই ভাবছিলাম। তখন মাথায় আসে ছোটো পরিসরে অনলাইন ব্যবসা করার চিন্তা, যা আমাকে পরবর্তীতে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। আমি আর আমার বন্ধুর পরামর্শক্রমে ছোটো করে গহনার কেনাবেচা নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করি। গহনার গুণমানসংক্রান্ত সব কাজ, মার্কেটিং এবং কাস্টমার কমিউনিকেশন এর কাজের দায়িত্ব নিয়ে পরিপূর্ণ ভাবে যাত্রা করি। ইন্ডিয়ান গয়নার পাশাপাশি দেশীয় গয়নার কারিগরও আমার আছে এখন। আমি নিজের করা ডিজাইনগুলো দেশীয় কারিগর দিয়েই করাই। দেশীয় কারিগরদের নিজেদের ডিজাইন ও আয়নাঘরে পাওয়া যায়। আয়নাঘরের দেশীয় গয়নার উপকরণ মূলত ব্রাশ মেটাল।