—মোহাম্মদ আরিফুজামান
একজন সফল উদ্যোক্তা রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মোহাম্মদ আরিফুজামান। যিনি সবধরনের আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করেই তার রিয়েল স্টেট কোম্পানির প্রকল্পগুলোকে সাজিয়েছেন। তিনি দেশ ও সরকারের সহযোগী হিসেবেই সামনে এগিয়ে চলতে চান সর্বদা। তরুণ সফল এ উদ্যোক্তা প্রজন্মের কাছে বলেছেন জীবনের শুরু থেকে এই পর্যায়ে আসার গল্প।
আপনার বেড়ে ওঠার গল্প জানতে চাই।
আমার বাবা আবুল বাসার একজন সত্ ও নিষ্ঠাবান সরকারি অডিট কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০১ সালে তিনি আমাদের ছেড়ে চলে যান না-ফেরার দেশে। আমার মা মিসেস নুরজাহান বেগম বহু যত্নে আমাদের চার ভাইকে শিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ করে তোলেন। ধানমন্ডি গভমেন্ট বয়েজ হাই স্কুল থেকে এইচএসসি বিজ্ঞান অনুষদ হতে উত্তীর্ণ হয়ে এইচএসসি পাস করি আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে। এরপর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কৃতিত্বের সঙ্গে অর্নাস ও মার্স্টাস পাস করি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে।
ক্যারিয়ারের প্রাথমিক পর্যায়টি কেমন ছিল?
অর্নাস পরীক্ষা দিয়েই বন্ধুদের সঙ্গে নিছক মজা করে জীবনের প্রথম চাকরির ইন্টারভিউ দিই মাল্টিন্যাশনাল ব্যাংক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে, ভাবতেও পারিনি চাকরিটা এক ইন্টারভিউতেই এত সহজে হয়ে যাবে। যাক, আল্লাহর অশেষ রহমতে ২০০৪ সালে প্রথম ক্যারিয়ার শুরু করি, আর এক বছরের মধ্যেই কেবল মাত্র দক্ষতা আর পরিশ্রম দিয়ে মিলে গেল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কনজুমার ব্যাংকিংয়ের সরাসরি স্থায়ী কর্মকতার কাজ। পরের বছরই ব্যাংকের বাংলাদেশ ও এশিয়াটিক জোনের সেরা বিক্রয় প্রতিনিধি নির্বাচিত হই। আমি এখনো গর্ব ও দৃঢ়ভাবে বলি বিক্রয় ও বিপণনে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক আমাকে যা শিখিয়েছে, তার ফলেই আজ আমি এই পর্যায়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। রিয়েল এস্টেট সেক্টরে মার্কেটিং ও সেলস বিভাগে প্রবেশ করলাম ২০০৮ সালে। জীবনের প্রথম বেতন ছিল ৩,৫০০ টাকা। আর হেড অব সেলস ও ডিরেক্টর মার্কেটিং হিসেবে দীর্ঘ ১৪ বছরের চাকরি জীবনের সমাপনী টানি ৩,৫০,০০০ টাকা মাসিক বেতন অর্জনের মাধ্যমে।
কবে প্রথম এই সেক্টরে কাজ শুরু করলেন এবং এই সেক্টরকেই কেন বেছে নিলেন?
২০১৭ সালে রিয়েল এস্টেট সেক্টরে চাকরি জীবনের ইতি টানি। এরপর থেকেই এই সেক্টরে কাজ শুরু করি। এদেশে পরিকল্পিত নগরী গড়ে তুলতে এবং নতুন করে নতুন আঙ্গিকে নতুন কিছু গড়ার স্বপ্ন থেকেই রিয়েল এস্টেট সেক্টরে আমার মূলত প্রবেশ।
বর্তমানে আপনার প্রজেক্টগুলো কী কী?
বর্তমানে রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি আর সি প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড নিয়ে। এ কোম্পানির মাধ্যমে কেরানীগঞ্জে ‘আর সি মায়া কানন’ নামক আবাসন প্রকল্প এবং পূর্বাচলের নিকটেই ‘আর সি রিভারি ভিলেজ’ নামক পেশাভিত্তিক আরেকটি আবাসন প্রকল্পের কাজ করছি। এছাড়াও আর সি হোল্ডিংস লিমিটেডের ব্যানারে আমরা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘প্রিয়জন গৃহায়ণ প্রকল্প’ নামক একটি আবাসন প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমাদের ঢাকা, খুলনা, সাভার, কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে আকর্ষণীয় অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাট প্রকল্পও রয়েছে, যেখানে সবধরনের আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করেই প্রকল্পগুলোকে সাজানো হচ্ছে। এগিয়ে যাচ্ছে দেশ, এগিয়ে যাক রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপ।
তরুণ পেশাজীবীদের জন্য আপনার পরামর্শ কী?
আমাদের রিয়েল ক্যাপিটা গ্রুপের ব্র্যান্ডিং ও সেলস টিম তরুণ পেশাজীবীদের জন্য ভিন্নধর্মী পলিসিতে কাজ করে যাচ্ছে। তরুণ পেশাজীবীদের আমি একটা কথাই বলব, ‘চাকরির জন্য চাকরি’ না করে ‘দক্ষ কর্মজীবী’ হওয়ার জন্য চাকরিতে যোগদান করুন। স্বপ্ন ও লক্ষ্য স্থির থাকলে অসাধ্য থাকে না কিছু।