সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ

>> সাইফুল ইসলাম

 

বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে ব্যক্তি পর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ ও বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সরাসরি মানুষের কাছে গিয়ে তাদের সচেতন করা প্রায় অসম্ভব হয়ে ওঠে। সেক্ষেত্রে টেলিভিশন কিংবা অন্যান্য গণমাধ্যমের সহায়তা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে সমসাময়িক ঘটনাবলি, গুজব, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বরগুনা রিফাত হত্যাকাণ্ডের মতো বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা নিয়ে মানুষকে সচেতন করতে পায়ে হেঁটে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত পাড়ি জমিয়েছে দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম শান্তি।

বিভিন্ন ঘটনার প্রতিবাদ আর এর প্রেক্ষিতে মানুষকে সচেতন করতে পায়ে হেঁটে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া সাইফুলের জন্ম পঞ্চগড় সদর উপজেলার আমহার গ্রামে। মাথায় জাতীয় পতাকা, এক হাতে প্ল্যাকার্ড আর আরেক হাতে মাইক নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন শান্তি। তার যাত্রা শুরু হয়েছিল ২১ জুলাই, তেঁতুলিয়া উপজেলা সদরের চৌরাস্তার মোড় থেকে। প্রথম দিনই ৩৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে পঞ্চগড় জেলা শহরে পৌঁছান তিনি। এরপর সেখান থেকে ঢাকা মহাসড়ক দিয়ে বগুড়া হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করেন। পরে নারায়ণগঞ্জ হয়ে কুমিল্লা মহাসড়ক ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে এবং সর্বশেষ টেকনাফে পৌঁছান ২০ আগস্ট দুপুরে। সেখানেই শেষ হয় তার ৩১ দিনের দীর্ঘ যাত্রা। যাত্রাপথে সাইফুল যেখানে  স্কুল, কলেজ, বাজার ও মানুষের সমাগম দেখেছেন, সেখানেই তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘পদ্মা সেতুতে মাথা লাগে না। তাতে লাগে রড, সিমেন্ট, বালু ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।’ আরো বলেন, ‘আমি এই রকম সচেতনতা তৈরির বার্তাগুলোকে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ যাত্রার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল জানতে চাইলে শান্তি বলেন, ‘এই কাজটি মোটেও সহজ ছিল না। চলার পথে আমি নানা রকম বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হই। তবুও যাত্রা থেমে থাকেনি। গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে। যার জন্য আমাকে প্রতিদিন গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার হাঁটতে হয়েছে।’