কমল কান্ত রায়
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা
নদীয়া কিশোর রংপুরের গঙ্গাচড়ায় খুবই পরিচিত একটি নাম। সহজ-সরল মনের গান পাগল একজন মানুষ। আর এই নদীয়া কিশোরের নামেই প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নদীয়া কিশোর ভাওয়াইয়া একাডেমি। ১৯৯৫ সালে অনেক ঘটনা আর হতাশা-ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে সংগঠনটি। আর সেই স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে আজো পথ চলছে নদীয়া কিশোর ভাওয়াইয়া একাডেমি। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার অবহেলিত বেতগাড়ী ইউনিয়নের শেরপুর পুটিমারী গ্রামে জন্ম নেন নদীয়া কিশোর। স্থানীয় গুরু প্রদীপ কুমার রায় ও ক্ষিতিশ চন্দ্র বয়াতীর সাহচর্যে শুরু হয় তার শিক্ষা। ১৯৮০-৮১ সালে প্রথম শ্রেণি থেকে গানে হাতেখড়ি নদীয়া কিশোরের। যখন নদীয়া গান শিখে তখন থেকে তার বাবা-মা নিষেধ করেন গান শিখতে। কিন্তু থেমে থাকেনি তিনি। ২০০৫ সাল থেকে রংপুর বেতারে নিয়মিত শিল্পী হিসেবে গান করছেন তিনি। বিটিভিতে কয়েকবার প্রোগ্রামে অংশ নেন নদীয়া কিশোর। এরইমাঝে মাথায় ঘুরপাক খায় একটি সংগঠন তৈরির। অনেক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে শুরু করেন সংগঠন তৈরির কাজ। সেসময় হারমোনিয়াম কেনার সামর্থও ছিল না নদীয়ার। বিভিন্ন জায়গায় ছোটাছুটি। প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিষ্ঠানটির জন্য ঘুরেছেন। অনেকে আশাহত করেছেন। কিন্তু থেমে থাকেনি নদীয়া। যে বাবা গান গাওয়ার নিষেধ করেছিলেন সেই বাবা ললীত চন্দ্র কৃষ্ণ দাস নিজেই পরবর্তীতে সংগঠনের জন্য দুই শতক জমি দান করেন। অনেক হতাশার মাঝেও শুরু হয় স্থানীয় ছাত্রছাত্রীদের গান শেখানোর পালা।