বন্ধুর রকমফের

শিমুল শাহিন

রাজশাহী

বন্ধু আমার, আপনার—সবারই আছে! কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন আপনার কাছের বন্ধু একেকজন কেমন? বন্ধু নিয়ে বিস্তর গবেষণার পর বন্ধুর রকমফের কেমন হতে পারে তাই নিয়ে এই লেখা

ধার বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধুর ধার নেওয়া স্বভাব! আপনার মাসিক বেতন ব্যাংকে জমা হয়েছে কিনা বা কবে নাগাদ জমা হতে পারে, তা আপনি নিজে না জানলেও এসব তথ্য ধার বন্ধুর নখদর্পনে থাকে! এমন গোপনীয় তথ্য এ জাতীয় বন্ধুর জানা থাকে বলে ‘বেতন পাইনি’ মিথ্যে বলেও এদের কাছে পার পাবেন না!

চিল বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধুর ঠোঁটের আগায় লেগে থাকে, ‘চল দোস্ত, চিল করি!’ আপনার ভালো কোনো সংবাদেই হোক কিংবা আপনি পরীক্ষায় ফেল করুন বা আপনার পকেটমার হোক, সবকিছুতেই এদের ‘চিল’ করা চাই!

ট্রিট বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধু তক্কে তক্কে থাকে কেমন করে আপনার কাছ থেকে ট্রিট আদায় করতে পারবে! আপনার জন্মদিন থেকে শুরু করে আপনার বোন, এমনকি আপনার প্রেমিকার জন্মদিনটাও তার জানা!

না বন্ধু :এ ধরনের বন্ধুর কাজই হচ্ছে কারণে অকারণে ‘না’ বলা! ‘যেতে পারব না’, ‘বাসা থেকে যেতে দেবে না’, ‘টাকা নাই’, ‘সময় নাই’ এই বিখ্যাত বাণীগুলো এ জাতীয় বন্ধুর মুখ নিঃসৃত! এরা বিশেষ বিশেষ ট্যুরগুলোতে বাগড়া দিতে খুবই পটু!

কিপটে বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধু প্রায়ই সবারই আছে! খেয়াল করলে দেখবেন এ জাতীয় বন্ধুরা অধিকাংশ সময় মানিব্যাগ বাসায় ভুলে রেখে আসে! আবার মানিব্যাগ সঙ্গে থাকলেও দেখবেন এদের পকেটে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড ছাড়া ক্যাশ টাকা থাকে না! আর ক্যাশ টাকা থাকলেও দেখবেন সেটি বহু যত্নে রাখা তিন-চার ভাঁজওয়ালা কড়কড়ে একহাজার টাকার একটা নোট!

রাক্ষস বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধু রামায়ণের কুম্ভকর্ণের আকার আকৃতির হয়ে থাকে! উদোর পূর্তি করেও ‘দোস্ত, পেট ভরল না’ এদের প্রিয় ডায়ালগ!

প্রেমিক বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধু সবসময় ঠাটবাট বজায় রেখে চলে! সুযোগ পেলে আপনার পছন্দের মামাতো-চাচাতো বোনকে নিমিষেই পটিয়ে ফেলে আপনাকে ‘নায়ক বাপ্পারাজ’ বানিয়ে ফেলবে!

চাপা বন্ধু :এ জাতীয় বন্ধুর নিজের কিছু থাকে না, তবে মুখে সবসময় শুনবেন তার দাদার এটা ছিল, সেটা ছিল!