চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা হেলাল মোহাম্মদ নুরির। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন তিনি। নব্বই দশকে এদেশের গার্মেন্টস খাতের চাকরি ছিল তরুণদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসতেন হেলাল মোহাম্মদ নুরি। তাই যোগ দেন এই সেক্টরেই। গার্মেন্টস সেক্টরের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছাতে নুরির পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা পথ। ১৯৯৫ সালে কোরিয়ান কোম্পানি ইয়াঙ্গুন কর্পোরেশনে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সেখান থেকেই ট্রেনিংয়ের জন্য দেশের বাইরে চলে যান এবং উন্নত প্রযুক্তির সঙ্গে কাজ করার দীক্ষা নেন। ফলে নাইকি ও টিম্বারল্যান্ডের মতো কোম্পানির সঙ্গে কাজ করার সুযোগও পান। এরপর সিএমআর বায়িং অফিসের কান্ট্রি ম্যানেজার হিসেবে চট্টগ্রামে ফেরেন তিনি। সেখানে মার্কেটিং, যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পণ্যের চাহিদা বজায় রাখার মন্ত্র আয়ত্ত করেন। এরপর অনেকটা কাল অতিবাহিত করেন বেক্সিমকোতে। সেখানে প্রায় দশ বছর বিভিন্ন সেকশনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন সেকশনের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক, যেমন কেলভিন অ্যান্ড ক্লেইন, জেসিপেনিদের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি। এখন থেকে প্রায় চার বছর আগে সিলভার লাইন গ্রুপের সিইও হিসেবে যোগ দেন তিনি।
কর্পোরেট চাকরির ক্ষেত্রে উপরে ওঠার সময় যে লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘২০০৬ ও ২০০৭ সালে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বেক্সিমকোর মোটামুটি খারাপ সময় পার করছিল। সেই সময়, আমি এর বিপণনে একটি মুখ্য ভূমিকা নিয়েছিলাম এবং সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’
সিলভার লাইনে কাজ করার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এর গার্মেন্টস বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সেটআপ থেকে শুরু করে উত্পাদন, বিপণন ও প্রশাসনের সমস্ত কিছুর তদারকি করার দায়িত্ব আমার। আমাকে সমস্ত প্রকল্প অনুসরণ করতে হবে। যদিও আমাকে সিইওর পদে মনোনীত করা হয়েছে, তবে আমি মনে করি, কেউই নেতা হয়ে জন্ম নেয় না, তাদের কর্ম ও ভূমিকা তাদের নেতায় পরিণত করে। আরএমজি খাতের লাভ ও লোকসান প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও দলের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করে। আমি এখনো একজন পেশাদার ও দক্ষ নির্বাহী হতে পারিনি। আমি এখনো নেতৃত্ব শিখছি।’
কোম্পানির জন্য তার ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, সিলভার লাইন গ্রুপ ২০০২ সালে একটি স্পিনিং মিল হিসেবে যাত্রা শুরু করে। পরের দশ বছর ধরে সুতা তৈরি করে এর ব্যবসা বৃদ্ধি করে চলেছে। আমাদের প্রতিষ্ঠাতা ফেব্রিক উত্পাদনের প্রসারণে আগ্রহী ছিল এবং আমরা ২০১৪ সালে আমাদের প্রথম টেক্সটাইল মিল স্থাপন করেছি। আমরা ধীরে ধীরে ইয়ার্ন ডায়িং, সলিড ডায়িং, ডিজিটাল প্রিন্টিং, রোটারি প্রিন্টিং এবং পোশাক উত্পাদন লাইনগুলো ১৬ থেকে ৩২ লাইন উত্পাদন সুবিধায় প্রসারিত করছি। পরের পাঁচ বছরে আমরা বাংলাদেশের টেক্সটাইল সেক্টরে এবং পরবর্তীতে বিশ্বে অগ্রণী হতে চাই।’