>> সাইফুল ইসলাম
তরুণ উদ্যোক্তা শেখ সাইদ আহমেদ। তিনি নিজ উদ্যোগে একেবারে শূন্য থেকেই গড়ে তুলেছেন লাখ টাকার শৌখিন মাছের চাষ। নিজের ঘর আর ছাদের একাংশে গড়ে তুলেছেন ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের ট্যাংক। সেখানেই চাষ করছেন অ্যাকুরিয়াম ফিশ হিসেবে পরিচিত শৌখিন সব মাছ। রাজধানী শহর ঢাকাতেই জন্ম আর বেড়ে ওঠা সাইদের। বাবা একজন ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বিটিআরসিতে চাকরি করেন। মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি, এরপর বাংলাদেশ নৌবাহিনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন সাইদ। বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসসি) ডিপার্টমেন্টে দশম সেমিস্টারে পড়ছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকে মাছের প্রতি আমার অন্য রকমের একটা ভালোলাগা কাজ করত। যখন ক্লাস টুতে পড়ি, তখন থেকেই অ্যাকুরিয়াম নিয়ে খেলা করতাম। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আবার শখ করে শুরু করি এই শৌখিন মাছের চাষ। শুরু করার কয়েক দিন পরই দেখলাম, এ থেকে মোটামুটি ভালোই সাড়া পাচ্ছি। আর তখনই এটাকে ব্যবসা হিসেবে নেওয়ার কথা চিন্তা করি। কাজটি প্রথমে ছোট পরিসরে করা শুরু করেছিলাম। তখন আমার পুঁজিও লেগেছিল একেবারে কম। আমার টিউশনি ও জমানো টাকা থেকেই দাঁড়িয়েছিল পুঁজি।’
বর্তমানে সাইদের সংগ্রহে ২৫টি অ্যাকুরিয়াম ও ফিশ ট্যাংক বা হাউস রয়েছে। এর মধ্যে বাসার ছাদের ওপর বেশ কয়েকটি বড় মাপের হাউস আছে। তার সংগ্রহে ২০ থেকে ২৫ প্রজাতির প্রায় তিন হাজার মাছ রয়েছে; যার মধ্যে গোল্ড ফিশ, অ্যাঞ্জেল, ক্যাট ফিশ, গাপ্পি, মলি, বেটা অন্যতম। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে আমি এটাকে আরো বড় করব এবং মাছের সংখ্যা বৃদ্ধি করব। অন্য পেশায় যদি কখনো যাই, তাহলে পাশাপাশি আমি এই ব্যবসাটাও রাখব।’
সাধারণত যেকোনো ভালো কাজ করতে গেলেই কিছু বাধাবিপত্তি থাকে। তার ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘যখন কাজটি শুরু করি, তখন পরিবার থেকে তেমন সাপোর্ট পাইনি। কারণ বাসায় জায়গার পরিমাণ কম ছিল। কোথায়, কিভাবে, কী করব—এটা পরিবারকে বোঝাতে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছে। এখন তারা এই ব্যাপারে আমার ওপর সম্পূর্ণ পজিটিভ। অল্প পুঁজিতে যারা লাভবান হতে চান, তারা এই শৌখিন মাছ চাষে আসতে পারেন। আজকের সমাজের বিপথগামী তরুণদের উত্পাদনমুখী একটি জায়গায় ফেরাতে শৌখিন মাছ চাষ হতে পারে অন্য রকমের এক হাতিয়ার, এমনটি মনে করেন সাইদ আহমেদ।
এছাড়াও তিনি বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে তরুণেরা দিনের বেশির ভাগ সময় ফেসবুক, ইউটিউবসহ নানা সামাজিক মাধ্যমে মজে থাকে। এসবের পিছনে জীবনের অনেকটা সময় ব্যয় হয়ে যাচ্ছে। যার ফলে চাকরির বাজারে গিয়ে তারা হতাশা ছাড়া আর কিছু পায় না। তাই আমি তরুণদের বলব, পড়াশোনার পাশাপাশি অবসর সময়টাকে অপচয় না করে এরকম উদ্যোগী হওয়া উচিত। সবাই যদি এই মাছ চাষে উদ্যোগী হয়, তাহলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা দেশের বাইরেও রপ্তানি করতে পারব।’