প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও রক্ত দিতে চান

>> মামুনুর রশিদ রাজিব 

 

ময়মনসিংহের এক মেডিকেলে হঠাত্ জরুরি রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ বি-পজিটিভ। রোগী চার মাস বয়সী এক শিশু। কথাটা শুনেই রক্ত দিতে আগ্রহ প্রকাশ করলেন উনিশ বছর বয়সী এক তরুণ। কিন্তু, বাধ সাধলেন কর্তব্যরত চিকিত্সক। কোনোভাবেই নাকি তার রক্ত নিতে চাচ্ছেন না তিনি। কারণ ছেলেটা ছিল শারীরিক প্রতিবন্ধী। চিকিত্সকের বাধা সত্ত্বেও ছেলেটা রক্ত দিতে একদম নাছোড়বান্দার মতো লেগে রইল। শেষ পর্যন্ত রক্তও দিল। বলছিলাম শারীরিক প্রতিবন্ধী এক মানবিক কিশোর আসিফের গল্প।

ময়মনসিংহ জেলায় বেড়ে ওঠা আসিফ আহমেদ জন্মগতভাবেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তার দুই হাতের আঙুলগুলো অনেকটা বাঁকা, যা দিয়ে তিনি ঠিকমতো লিখতে পারেন না। এমনকি পাসহ প্রায় পুরো শরীরেই তার প্রতিবন্ধকতার ছাপ লেগে আছে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। প্রতিবন্ধকতা তার জীবনের স্বাভাবিক গতিকে আটকানোর চেষ্টা করলেও তিনি মনের জোরে নিজেকে নিবেদিত করতে পেরেছেন মানবসেবার মতো মহত্ এক কাজে। তিনি কাজ করেন ‘রক্তদানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ’ নামক সংগঠনসহ বেশ কয়েকটি সংগঠনে। তিনি কাজ করছেন মরণোত্তর চক্ষুদান কার্যক্রম নিয়েও। এমনকি তিনি নিজেও মরণোত্তর চক্ষুদান করতে  অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেছেন।

কাজের অভিজ্ঞতার বিষয়ে বলতে গিয়ে এই উদ্যমী কিশোর বলেন, ‘আমরা ‘রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদানে আমরা মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে কাজ করছি নিরলসভাবে। আমি নিজেও মরণোত্তর চক্ষুদান করতে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছি। তবে এসব কাজের পরেও যেন নিজের কাজে পরিপূর্ণতার স্বাদ পাচ্ছিলাম না। কারণ, আমি মানুষের রক্ত সন্ধান করি এবং বুঝিয়ে সুঝিয়ে মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করি, কিন্তু আমি নিজেই রক্ত দিতে পারি না। চিকিত্সকেরা আমার শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে রক্ত নিতে অপারগতা জানিয়ে আসছিল। অবশেষে, কিছুদিন আগে একটা চার মাস বছর বয়সী শিশুর জরুরি প্রয়োজনে ময়মনসিংহের এক মেডিকেলে গিয়ে ডাক্তারের বাধা উপেক্ষা করে রক্ত দিতে সক্ষম হই। এটা যেন আমার এই স্বেচ্ছাসেবী কাজে পরিপূর্ণতা এনে দিয়েছে।’ ময়মনসিংহের একটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে  ইলেকট্রনিকসে ডিপ্লোমাতে অধ্যয়নরত আসিফ বলেন, ‘আমি চাই, সকল প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে জীবনের শেষদিন পর্যন্ত মানবতার সেবায় কাজ করে যেতে।’