মাগুরা জেলার শ্রীপুর উপজেলার মহেশচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন হেড মাষ্টার তোরাব সাহেব মাগুরা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজে আমার সহপাঠী ছিলেন। আমরা কয়েকজন বাংলা সাহিত্যের ছাত্র-ছাত্রী ছিলাম- যেমন আনোয়ারা, তোরাব সাহেব, গফুর সাহেব, ভগীরাথ, ফজলু মিয়া প্রমুখ। এই কারণে আমাদের মধ্যে একটা মধুর সম্পর্ক ছিল। বি.এ পরীক্ষা শেষে যে যার কর্মস্থলে চলে যায়; আমি এবং আনোয়ারা মাগুরা সদরের মেয়ে ছিলাম তাই আমরা মাগুরায়ই থেকে যাই যেহেতু আমাদের দু’জনের স্বামীই মাগুরা কলেজের অধ্যাপক ছিলেন। পরে আমার স্বামী অধ্যাপক মোল্লা এবাদত হোসেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে অধ্যাপক হয়ে যোগদান করলে আমরা রাজশাহী চলে যাই। একবার বাড়ি গেলে দেখি তোরাব সাহেব আমাদের বাড়িতে এসে হাজির। তিনি মোল্লা সাহেবকে বললেন, ‘স্যার আমি শ্রীপুর স্কুলের হেড মাষ্টার হয়েছি, আমার বাসায় আপনার দাওয়াত নিতে হবে। মোল্লা সাহেব দাওয়াত কবুল করে বললেন, ‘তুমি হেড মাষ্টার হয়েছ খুব খুশীর সংবাদ; কিন্তু তুমি কি এম এ পাশ করেছ?’ তোরাব সাহেব তখন ও এম এ পাশ করেননি শুনে মোল্লা সাহেব বললেন, ‘এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাইভেট পরীক্ষা দেবার নিয়ম চালু আছে; কাজেই তুমি রাজশাহী এসে আমার সাঙ্গে দেখা কর। আমি তোমার পরীক্ষার দেবার ব্যবস্থা করে দেব।’ পরে তিনি এম এ পাশ করেন। এর আগে তোরাব সাহেব রাজশাহী টি টি কলেজে যখন বি এড পড়েন, তখন আমাদের রাজশাহীর ভাড়া বাড়ি হেতেম খায় গিয়েছিলেন। সেদিন বিকেলে আমরা আমাদের মাগুরার ঐতিহ্যবাহী আঞ্চলিক চিতাই পিঠা ও শাক ঘন্ট করেছিলাম। সেই পিঠাই তোরাব সাহেবকে দিয়েছিলাম। পরদিন তাঁর বর্তমান বিয়াই আলাউদ্দীন সাহেব আমাদের বাসায় এসে হাজির। বললেন, ‘গতকাল তোরাব সাহেবকে চিতাই পিঠা খাইয়েছেন, আজ আমাকেও খাওয়াতে হবে।’ কি বিপদে পড়লাম। চিতাই এর চেয়ে যদি কালাই এর রুটি খেতে চাইতেন তাহলে সেইটেই আমার জন্য বেশি সহজ ছিল এই ‘ঘোড়ার ডিম আর কালাই এর রুটির দেশে। আমাদের সহপাঠীদের সঙ্গে এই রকম একটা আন্তরিকতার সম্পর্ক ছিল।’ এরপর ভাগ্যের পরিহাসে আমি কিছুদিন শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজে বাংলার অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করি। শ্রীপুর কলেজ ও হাইস্কুল একদম পাশাপাশি তাই বিভিন্ন সময় নানা রকম কাজে তোরাব সাহেবের সঙ্গে আমার দেখা হয়ে যেত। মোল্লা সাহেব শ্রীপুর এলেত নিয়মিত দাওয়াত খাবার প্রথাই ছিল।
ড. মাজেদা খাতুন
সাবেক অধ্যাপিকা, শ্রীপুর কলেজ