আনন্দঘন সারাবেলা

  মুসাদ্দিকুল ইসলাম তানভীর

 

শুক্রবার সকাল থেকে আকাশটা মুখ গোমরা করে আছে। থেমে থেমে বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া। এরই মাঝে উত্সবমুখর পরিবেশে উদ্যাপিত হয়ে গেল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির বার্ষিক ফিস্ট। নবীন ও প্রাক্তনদের মিলনমেলায় বাধা হতে পারেনি কোনো দূরত্ব, ক্লান্তি কিংবা প্রকৃতির বৈরিতা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের শেষে তাই একরাশ খুশি আর একগুচ্ছ অভিজ্ঞতাকে সঙ্গী করে ফিরেছি।

সাংবাদিক সমিতি পরিবারের সবচেয়ে বড়ো উত্সবকে ঘিরে টিএসসি চত্বরে ছিল সাজ সাজ রব। উত্সবের আগের রাতে আলপনা আঁকানো, বর্ণিল সাজে অফিস সাজানো নতুন কিছু নয়। কিন্তু আমার মতো নবীনদের জন্য ছিল অনেক অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দানের বড়ো একটি সুযোগ। তাই কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চাইনি। জীবনে প্রথমবারের মতো আলপনা আঁকার পর নিজেই বিশ্বাস করতে পারছিলাম না যে এটা আমার প্রথম প্রয়াশ ছিলো।

সকাল সাতটা বাজতে বাজতে একে একে সবাই মাঠে উপস্থিত হলো। কর্দমাক্ত মাঠে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে চললো ফুটবলের মহারণ, যেখানে হারেনি কোনো দলই। ট্রফি মীমাংসা করতে তাই টাইব্রেকারে গড়ালো খেলা, তাতে পরাজিত দলে থেকে কিছুটা আক্ষেপ হলো। আক্ষেপের পাল্লা আরো ভারী হলো, যখন ক্রিকেট খেলাতেও আমি বিজিত দলে। সেরা খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ফুটবলে শাহরিয়ার আমিন এবং ক্রিকেটে সমিতির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন মায়া। সবচেয়ে আনন্দময় মুহূর্ত ছিলো বিকালবেলা। ফিস্ট উপলক্ষ্যে বানানো একই রকম পোশাকে ফটোসেশনের  মাধ্যমে ফ্রেমবন্দি করে শুরু হলো দ্বিতীয় অধ্যায়। সন্ধ্যা-পরবর্তী সময়ে টিএসসি কনফারেন্স হলে আয়োজন করা হয়েছিল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ও নৈশভোজের, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা, প্রক্টর, সহকারী প্রক্টরসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। তারা দিনব্যাপী আয়োজিত সব খেলার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন। ফুটবলের সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হিসেবে আমিও পুরস্কৃত হই বটে, তবে আসল প্রাপ্তি তার চেয়েও বেশি।