হল জীবনের গল্প

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নানা স্মৃতির মধ্যে বিশাল একটি অংশ দখল করে আছে হলজীবন। গল্প, আড্ডা, হাসি, কান্নায় কেটে যায় হলজীবন। হলজীবনের গল্প-আড্ডা-গানে মেতে থাকার

আনন্দঘন মুহূর্তের কথা, সিনিয়র-জুনিয়র মিলে একসঙ্গে রাত জেগে আড্ডা দেওয়া, ছাদে বৃষ্টিতে ভেজা, রাতের জ্যোত্স্না উপভোগ করার গল্প। আবার কেউ বললেন বাধা-বিপত্তি

অতিক্রম করে নিজ জীবনের লক্ষ্য অর্জনের পরিকল্পনার কথা। সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক জন ছাত্রীর হলজীবনের গল্প জানাচ্ছেন— ফায়জুন সিতু

সাইকা সাহাদাত হাসি

ফিজিওথেরাপি বিভাগ

 

বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দেওয়ার পর থেকেই আমার হলজীবনের শুরু। এর আগে কখনো পরিবারের বাইরে থাকা  হয়নি। প্রথম দিকে ভীষণ মন খারাপ লাগত কিন্তু এক সময় আবিষ্কার করলাম এই হলজীবনে আমি আরেকটি পরিবারের অংশ হয়েগেছি। সবাই মিলে আড্ডা দেওয়া, সন্ধ্যায় চা খাওয়া, কাজ ভাগ করে নেওয়া, দায়িত্ব নিতে শেখা সব কিছুই আমাকে খুব যত্ন করে শিখিয়েছে আমার হলজীবনের এই পরিবার। আমি আমার হলজীবনকে ভালোবেসে ফেলেছি আমার পরিবারের মতোই।

সেগুপ্তা জাবিন

ভেটেরিনারি বিভাগ

 

হলজীবনে সবচেয়ে বেশি পীড়াদায়ক হচ্ছে খাবার কষ্ট। ক্লাস করে,               পরীক্ষা দিয়ে আবার রান্না করে খাওয়া খুবই কঠিন কাজ। বাড়ির রান্না তাই খুব মিস করি। ছোটবেলায় আমি ঘরকুনো ছিলাম। মা-বাবাকে কখনো কখনো এতটা মিস করি যে, পড়ায় মন দেওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। তবে            হলে বন্ধুদের খুনশুটি আমার সেই             মন খারাপকে ভুলিয়ে দেয়। হলজীবনের একটি বড়ো সুবিধা হচ্ছে গ্রুপ স্টাডি করতে পারা। যা আমার পড়ালেখায় সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

মাইমুনা তাসমিয়া

ফিজিওথেরাপি বিভাগ

 

হলজীবনে এসে ভীষণ স্মৃতিকাতরতায় ভুগতাম। বাড়ির পুকুড় ধারের কাঁঠালগাছ, বাতাবি লেবুর গন্ধ, পাখির ডাক ভীষণ মিস করি। কিন্তু হলে  সবার সঙ্গে মানিয়ে চলা এও মন্দ মনে হয় না। হলজীবন অনেক কিছু শিখিয়েছে। রুমমেট পালটালে নতুন মানুষের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলার নতুন অভিজ্ঞতা, একেক অঞ্চলের একেক মানুষের কথাবার্তা, সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারা, নতুন           পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার মতো শিক্ষাগুলো পেয়েছি হলজীবন থেকে।

রায়া ওয়াসিফা

ফার্মেসি বিভাগ

 

হলজীবনে প্রথম দিকে ভালোবোধ করতাম না, নিজের কাজ নিজে করতে হতো, আবার বড়োদের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে চলার মতো কিছু ব্যাপার ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হলজীবনটা ভীষণ আপন করে নিয়েছি। হলজীবনে চলে সিনিয়র-জুনিয়রদের আড্ডা, জন্মদিনে কেক কাটা, উপহার দেওয়া, বিশ্বকাপের সময় টিভিরুমে টানটান উত্তেজনা। স্মৃতিগুলো ভোলার নয়। হলজীবনের সাহচর্য কারো কারো জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। হলজীবন আমার জীবনকে গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।