মাহবুব আলম
বাংলাদেশে ক্রমশ কমে আসছে শিশুদের নিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন। তার মধ্যে পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন যেন আলোকবর্তিকা। চোখে মুখে স্বপ্ন নিয়ে এদেশের সংস্কৃতিমনা শিশুরা অপেক্ষা করে একটি উত্সবের। যে উত্সব রংধনুর মতো সব রঙে রাঙিয়ে তুলবে তাদের। সেখানে নানা অনুষ্ঠানে কেউবা সাজবে রাজা, কেউবা সাজবে পরি, ফুল, প্রজাপতি—আরো কত কিছু। তারা বসে বসে স্বপ্ন আঁকে বছরজুড়ে।
আর এদেশের শিশু-কিশোরদের কাছে সেই পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশন একটি স্বপ্ন পূরণের সংগঠন। সারা দেশের শিশু-কিশোরেরা এই সংগঠনের আয়োজিত নাট্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উন্মুখ হয়ে থাকে। এবছর অ্যাসোসিয়েশনটি তাদের চৌদ্দতম আসরের আয়োজন করেছে। এবারের আয়োজনটি অন্য যেকোনো বারের চেয়ে আলাদা। এবার নাটকের পাশাপাশি নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালাও যুক্ত হয়েছে। আর গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পরিণত হয়েছে শিশুদের মিলনমেলায়। শিশুদের মনন ও সৃজনে সমৃদ্ধ করতে এই আয়োজনটি করে থাকেন বাংলাদেশের বরেণ্য নাট্যজন শিশুবন্ধু লিয়াকত আলী লাকী। শিশুদের নানা বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠান ও নাটকে সৃজন হয় এক স্বর্গরাজ্য, যে রাজ্যে আনন্দের সীমা থাকে না। আগামীর প্রজন্ম বিনির্মাণে জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য ও সাংস্কৃতিক উত্সব অগ্রণী ভূমিকা রাখছে, সে কথা অনস্বীকার্য। কেননা শিশুরাই ভবিষ্যত্।
গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকাল ৫টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে উদ্বোধন করা হয়েছিল শিশু-কিশোর নাট্য ও বিভিন্ন শাখার শিশুশিল্পীদের অংশগ্রহণে দেশের সবচেয়ে বড় আয়োজন ‘চতুর্দশ জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য ও সাংস্কৃতিক উত্সব ২০১৯’। এ উত্সবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এর আগে জাতীয় নাট্যশালা প্রাঙ্গণে অতিথিরা বেলুন উড়িয়ে নয় দিনব্যাপী উত্সবের উদ্বোধন করেন। একইসঙ্গে শিল্পী মোস্তাফা মনোয়ার রংতুলির আঁচড়ে শিশু চিত্রাঙ্কনের উদ্বোধন করেন।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি ও পিপলস থিয়েটার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ আয়োজনে শিশুদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ নাট্য ও সাংস্কৃতিক উত্সব ‘চতুর্দশ জাতীয় শিশু-কিশোর নাট্য ও সাংস্কৃতিক উত্সব ২০১৯’। ৬৪ জেলার সাংস্কৃতিক দল এবং ৯৫টি শিশু নাট্য সংগঠনের দশ হাজারেরও বেশি শিশুর অংশগ্রহণে ২০-২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ উত্সব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উত্সবে একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা, জাতীয় চিত্রশালা, জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তন ও একাডেমি প্রাঙ্গণসহ প্রতিদিন ৮টি ভেন্যুতে ৯টি জেলার ৮৫টি পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এছাড়াও একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার চিত্রকলা স্টুডিওতে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা জেলা থেকে আগত শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন এবং একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা প্রাঙ্গণে শিশুদের অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধু পুষ্পকানন নির্মাণ এবং একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় প্রতিদিন বিকাল ৪টা থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিশুদের নিয়ে সমাবেশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী ও মঞ্চকুঁড়ি পদক প্রদান করা হয় ও রাত ৯টা থেকে বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
উত্সবে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের মাঝে আনন্দ ছড়ান বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, হাসান ইমাম, কে এস ফিরোজ, নাদিয়া আহমেদ, শারমিন লাকী, মাহিদুল ইসলাম, অভিজিত্ সেন গুপ্ত, মাসুম আজিজ, বৃন্দাবন দাস, রোজী সিদ্দিকী, তামান্না রহমান, দীপা খন্দকার, মুনমুন আহমেদ ও মীর বরকত। প্রতিদিনই অতিথিবৃন্দ উত্সবে আগত শিশুদের সনদপত্র প্রদান করেন ও শিশুদের উদ্দেশে স্বাগত বক্তব্য রাখেন।